Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

দরুদ শরিফ: দুশ্চিন্তা দূর, গুনাহ মাফ ও রহমত লাভের অনন্য আমল

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

দরুদ শরিফ: দুশ্চিন্তা দূর, গুনাহ মাফ ও রহমত লাভের অনন্য আমল

বিজ্ঞাপন

মুমিনের জীবনে এমন কিছু ইবাদত রয়েছে, যা অল্প আমলে অসীম সওয়াব, প্রশান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ এনে দেয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ সেই মহিমান্বিত আমলগুলোর অন্যতম। এটি শুধু নবীজির প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রকাশই নয়; বরং আল্লাহর রহমত লাভ, গুনাহ মাফ, দোয়া কবুল এবং হৃদয়ের অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা দূর করারও একটি বরকতময় মাধ্যম। তাই একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনে বেশি বেশি দরুদ পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহর নির্দেশ—নবীর প্রতি দরুদ পাঠ

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন—

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তার প্রতি দরুদ পাঠ কর এবং পরিপূর্ণভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা আল-আহযাব: আয়াত ৫৬)

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য দরুদ পাঠকে একটি বিশেষ ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

একবার দরুদে দশটি রহমত

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا، وَحُطَّتْ عَنْهُ عَشْرُ خَطِيئَاتٍ، وَرُفِعَتْ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ

‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করবেন, তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেবেন এবং তার মর্যাদা দশ ধাপ বৃদ্ধি করবেন।’ (নাসাঈ ১২৯৭)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অল্প একটি আমলের বিনিময়ে একজন বান্দা কত বড় প্রতিদান লাভ করতে পারে।

দুশ্চিন্তা দূর ও গুনাহ ক্ষমার মাধ্যম

সাহাবি হজরত উবাই ইবন কাব (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি তার ইবাদতের কতটুকু সময় দরুদের জন্য নির্ধারণ করবেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘যদি আমি আমার পুরো সময়ই আপনার ওপর দরুদ পাঠে ব্যয় করি?’ তখন রাসুল (সা.) বলেন—

إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ

‘তাহলে তোমার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দেওয়া হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (তিরমিজি ২৪৫৭)

এ হাদিস প্রমাণ করে, দরুদ শরিফ অন্তরের অশান্তি ও উদ্বেগ দূর করার একটি বরকতময় আমল।

আরও পড়ুন
কিয়ামতের দিন নবীজির সবচেয়ে নিকটবর্তী কারা?

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন—

إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلَاةً

‘কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই ব্যক্তি, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছে।’ (তিরমিজি ৪৮৪)

এটি প্রত্যেক মুমিনের জন্য বড় সৌভাগ্যের সুসংবাদ। তাই বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উচিত।

দোয়া কবুলের অন্যতম মাধ্যম

ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই সাহাবায়ে কেরাম (রা.) দোয়ার শুরু ও শেষে দরুদ পাঠ করাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। ইসলামি স্কলাররা উল্লেখ করেছেন, দরুদ পাঠ দোয়ার আদবের অন্যতম অংশ এবং এটি দোয়া কবুল হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

নবীর নাম শুনেও দরুদ না পড়ার সতর্কবার্তা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الْبَخِيلُ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ

‘প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার সামনে আমার নাম উল্লেখ করা হয়, অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে না।’ (তিরমিজি ৩৫৪৬)

এই হাদিস মুমিনদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। নবীজির নাম শুনলেই সঙ্গে সঙ্গে দরুদ পাঠ করা একজন ঈমানদারের পরিচয়।

দরুদ শরিফ কেবল একটি জিকির নয়; এটি আল্লাহর নির্দেশ পালনের মাধ্যম, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ এবং রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের অনন্য ইবাদত। নিয়মিত দরুদ পাঠ মানুষের অন্তরে প্রশান্তি আনে, দুশ্চিন্তা লাঘব করে, দোয়া কবুলের পথ সুগম করে এবং কিয়ামতের দিন প্রিয় নবীর সান্নিধ্য লাভের আশা জাগায়। তাই প্রতিদিনের আমলে দরুদ শরিফকে নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করা এবং নবীজির নাম উচ্চারিত হলেই আন্তরিকতার সঙ্গে দরুদ পাঠ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার