বিজ্ঞাপন
মৃত্যুর আগে ছোট্ট যে কালিমা হতে পারে জান্নাতের উসিলা
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯ এএম
বিজ্ঞাপন
ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন-বিধান। আর পৃথিবী হলো ক্ষণস্থায়ী আবাসস্থল। পরিপূর্ণ এই জীবন-বিধান অনুসরণ করে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর পরীক্ষায় উত্তম আমলের মাধ্যমে উত্তীর্ণরাই পরকালে সফল হিসেবে বিবেচিত হবেন। যাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জান্নাত। আর সফল হতে না পারাদের জন্য রয়েছে চিরশাস্তির জাহান্নাম।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮২)
অন্যদিকে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর পরীক্ষায় সফলকাম হতে না পারাদের জন্য রয়েছে চিরশাস্তির জাহান্নাম। যার সবচেয়ে ছোট শাস্তিও অত্যন্ত ভয়ংকর। নূ’মান ইবনু বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব (শাস্তি) ওই ব্যক্তির হবে, যাকে এমন দু’টি জুতা পরিয়ে দেয়া হবে, যার তলা ও ফিতা হবে আগুনের। ফলে এর দহনে (তার ওপরে রাখা) পাতিলের মতো মগজ উতলাতে থাকবে। আর তার মনে হবে যে, সে-ই বুঝি সবচেয়ে বেশি শান্তি ভোগ করছে। অথচ, এটি হচ্ছে সবচেয়ে হালকা আযাব। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪১০)
এজন্য পরকালে সফল হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের যেমন নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.), তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এর মধ্যে একটি হাদিসে মৃত্যুর আগে ছোট্ট একটি কালিমা পড়ার কথা এসেছে, যার উসিলায় চিরশান্তির জান্নাতের নিশ্চয়তা রয়েছে।
আবু মা’মার (রহ.) আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুল (সা.) এর কাছে আসলাম। তার পরিধানে তখন সাদা পোশাক ছিল। তখন তিনি নিদ্রিত ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর আবার যখন আমি আসলাম, তখন তিনি (নবীজি সা.) জেগে গেছেন। একপর্যায়ে রাসুল (সা.) বললেন- যে কোনো বান্দা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে এবং এ অবস্থার উপরে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ওই সময় আমি নবীজির (সা.) কাছে জানতে চাইলাম, ওই ব্যক্তি যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে?
জবাবে নবীজি (সা.) বললেন, যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও। এরপর আবু যার (রা.) আবারও জিজ্ঞাসা করলেন, ওই ব্যক্তি যদি যিনা করে, যদি চুরি করে তবুও? রাসুল (সা.) বললেন- হ্যাঁ। সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে তবুও। পরে আবারও আবু যার (রা.) রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও? জবাবে নবীজি (সা.) আবারও বললেন, হ্যাঁ। যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও।
আবু যার (রা.) যখনই এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন, তখনই তিনি ‘আবু যারের (রা.) নাসিকা ধূলাচ্ছন্ন হলেও’ বাক্যটি বলতেন। আবু আবদুল্লাহ ইমাম বুখারি (রহ.) বলেন, এ কথা প্রযোজ্য হয় মৃত্যুর সময় বা তার পূর্বে যখন ওই ব্যক্তি তাওবা করে ও লজ্জিত হয় এবং বলে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, তখন তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪১০)
এ ছাড়াও আবু বকর ইবনু আবু শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব (রহ.) ওসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর নিশ্চিত বিশ্বাস নিয়ে ইন্তেকাল করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৩)