Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

যে তিনশ্রেণীর মানুষকে নিশ্চিতভাবে জান্নাতি বলা যাবে

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম

যে তিনশ্রেণীর মানুষকে নিশ্চিতভাবে জান্নাতি বলা যাবে

বিজ্ঞাপন

যে ব্যক্তি ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে—এমন প্রত্যেক মুমিন সম্পর্কে ইসলামী বিশ্বাস হলো সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অচিরেই তাদেরকে আমি প্রবেশ করাব জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ।

সেখানে তারা হবে স্থায়ী। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর কথায় আল্লাহর চেয়ে বেশি সত্যবাদী কে?’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১২২)

প্রত্যেক ঈমানদার ও সৎকর্মশীল ব্যক্তি জান্নাতে যাবে। এটি একটি সাধারণ বিধান।

কিন্তু এই সাধারণ বিধানকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে অমুক ব্যক্তি অবশ্যই জান্নাতি—যতক্ষণ না আল্লাহ, তাঁর রাসুল অথবা উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) দ্বারা তার ব্যাপারে এ সাক্ষ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জান্নাতি হওয়ার সাক্ষ্য শুধু তিন ধরনের ব্যক্তির ক্ষেত্রেই দেওয়া যায়—

১. যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি জান্নাতের অধিবাসী।

২. যার সম্পর্কে মহানবী (সা.) সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি জান্নাতের অধিবাসী।

৩. যার ব্যাপারে সমগ্র উম্মাহ একমত হয়েছে যে তিনি নেককার, সত্যের অনুসারী এবং জান্নাতের উপযুক্ত ব্যক্তি।

প্রথম শ্রেণির উদাহরণ হলেন আবু বকর (রা.)। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব, আমি তোমাদের এক প্রজ্বলিত আগুন সম্পর্কে সতর্ক করছি। সেখানে প্রবেশ করবে কেবল সেই হতভাগা, যে সত্যকে অস্বীকার করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর এ আগুন থেকে দূরে রাখা হবে সেই সর্বাধিক মুত্তাকি ব্যক্তিকে, যে নিজ সম্পদ ব্যয় করে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে। কারো কোনো অনুগ্রহের প্রতিদান দেওয়ার জন্য নয়, বরং কেবল তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে।

আর অচিরেই সে সন্তুষ্ট হবে।’ (সুরা : লাইল, আয়াত : ১৪-২১)

তাফসিরবিদদের মতে, এই আয়াতগুলো আবু বকর (রা.)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। সে হিসেবে এই আয়াত প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দান করবেন।

দ্বিতীয় শ্রেণির উদাহরণ হলেন মহানবী (সা.)-এর সব স্ত্রী। আশারায়ে মুবাশশারা (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবি) যেমন—আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, সাঈদ, সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা.) প্রমুখ।

তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেন তাঁরা, যাঁদের ব্যাপারে গোটা উম্মাহ একমত হয়েছে, তাঁদের প্রমাণ হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস। একবার তাঁর সামনে একটি জানাজা অতিক্রম করল। লোকেরা মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করল। তখন তিনি বললেন, ‘ওয়াজাবাত (অবধারিত হয়ে গেল)।’

এরপর আরেকটি জানাজা অতিক্রম করল। লোকেরা তার নিন্দা করল। তখনো তিনি বললেন, ‘ওয়াজাবাত।’ সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কী অবধারিত হয়ে গেল?’

তিনি বললেন, ‘প্রথম ব্যক্তির ব্যাপারে তোমরা ভালো সাক্ষ্য দিয়েছ, তাই তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়েছে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তির ব্যাপারে তোমরা মন্দ সাক্ষ্য দিয়েছ, তাই তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে। তোমরাই পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৬৮)

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোনো ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা যদি ঈমান ও সৎকর্মপূর্ণ হয়, তাহলে আমরা বলব—‘যে ব্যক্তি ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, সে জান্নাতের অধিবাসী হবে।’ কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে বলব না যে ‘তিনি অবশ্যই জান্নাতি।’ কারণ আমরা জানি না, তার জীবনের শেষ পরিণতি কী হবে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের সবাইকে উত্তম পরিণতি দান করেন।

এর উদাহরণ হলো এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও বীর যোদ্ধা। শত্রুদের বিরুদ্ধে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করছিলেন; কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘সে জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।’ এ কথা সাহাবাদের কাছে অত্যন্ত বিস্ময়কর ও কষ্টকর মনে হলো। কারণ তাঁরা তার অসাধারণ জিহাদ দেখছিলেন।

একজন সাহাবি বললেন, ‘আমি তার সঙ্গে থাকব এবং দেখব, তার শেষ পরিণতি কী হয়।’ তিনি সারাক্ষণ লোকটিকে অনুসরণ করতে লাগলেন। পরে যুদ্ধের সময় লোকটি শত্রুর একটি তীরে আহত হলো। যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে সে নিজের তলোয়ার বের করল, তলোয়ারের অগ্রভাগ মাটিতে স্থাপন করে নিজের বুক তার ওপর ঠেলে দিল। ফলে সে আত্মহত্যা করল।

এরপর যে সাহাবি তাকে অনুসরণ করছিলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসুল। আপনি যে ব্যক্তিকে জাহান্নামি বলেছিলেন, তার ব্যাপারে ঠিক তাই ঘটেছে।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘কোনো কোনো ব্যক্তি মানুষের দৃষ্টিতে জান্নাতবাসীদের মতো আমল করতে থাকে, অথচ সে প্রকৃতপক্ষে জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (বুখারি, হাদিস : ২৮৯৮)

আল্লাহ আমাদের এ ধরনের পরিণতি থেকে রক্ষা করুন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার