Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

জান্নাতে কি দুনিয়ার মতো ঘুম থাকবে?

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

জান্নাতে কি দুনিয়ার মতো ঘুম থাকবে?

বিজ্ঞাপন

জান্নাত— এমন এক অনন্ত আবাস, যা মহান আল্লাহ তাঁর ইমানদার ও নেককার বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। সেখানে নেই মৃত্যু, নেই রোগ-ব্যাধি, নেই বার্ধক্য কিংবা কোনো ধরনের কষ্ট। কিন্তু জান্নাত সম্পর্কে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগে। তার মধ্যে অন্যতম হলো— জান্নাতবাসীরা কি দুনিয়ার মতো ঘুমাবে?

ঘুম কেন মানুষের প্রয়োজন?

দুনিয়ার জীবনে ঘুম মহান আল্লাহর একটি বিশেষ নেয়ামত। সারাদিনের পরিশ্রমের পর মানুষের শরীর ও মন বিশ্রামের প্রয়োজন অনুভব করে। ঘুম সেই ক্লান্তি দূর করে মানুষকে নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি জোগায়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا

‘আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রামের মাধ্যম।’ (সুরা আন-নাবা: আয়াত ৯)

আরও ইরশাদ হয়েছে—

وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا

‘আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ, ঘুমকে করেছেন বিশ্রামের মাধ্যম এবং দিনকে করেছেন কর্মচঞ্চলতার সময়।’ (সুরা আল-ফুরকান: আয়াত ৪৭)

এ থেকে বোঝা যায়, ঘুম মানুষের পার্থিব জীবনের একটি স্বাভাবিক প্রয়োজন।

জান্নাতে কি ঘুম থাকবে?

জান্নাতবাসীদের ঘুম হবে কি না— এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। উত্তরে তিনি বলেন—

النَّوْمُ أَخُو الْمَوْتِ، وَأَهْلُ الْجَنَّةِ لَا يَنَامُونَ

‘ঘুম হলো মৃত্যুর ভাই। আর জান্নাতবাসীরা ঘুমাবে না।’ (বায়হাকি, সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সহীহাহ ১০৮৭)

ঘুমকে কেন ‘মৃত্যুর ভাই’ বলা হয়েছে?

ঘুমের সময় মানুষের অনুভূতি ও কর্মক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে। এ কারণেই ইসলামী পরিভাষায় ঘুমকে মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا

‘আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মারা যায়নি তাদের নিদ্রার সময়ও। অতঃপর যাদের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের প্রাণ রেখে দেন এবং অন্যদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ফিরিয়ে দেন।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৪২)

এই আয়াত ঘুম ও মৃত্যুর মধ্যে একটি বিশেষ সাদৃশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করে।

জান্নাতে থাকবে না কোনো ক্লান্তি

দুনিয়ায় মানুষ ক্লান্ত হয় বলেই তার বিশ্রাম ও ঘুমের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জান্নাতে এমন কোনো অবস্থা থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ

‘সেখানে তাদের কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং সেখান থেকে তারা কখনো বহিষ্কৃতও হবে না।’ (সুরা আল-হিজর: আয়াত ৪৮)

আরও ইরশাদ হয়েছে—

لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌ

‘এখানে আমাদের কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং কোনো অবসাদও আমাদের গ্রাস করবে না।’ (সুরা ফাতির: আয়াত ৩৫)

এই আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, জান্নাতে এমন কোনো কষ্ট থাকবে না, যার কারণে বিশ্রাম বা ঘুমের প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন
জান্নাতবাসীদের দেহ হবে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের

জান্নাতের মানুষের শারীরিক অবস্থা দুনিয়ার মানুষের মতো হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَأْكُلُونَ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ، وَلَا يَبُولُونَ، وَلَا يَتَغَوَّطُونَ، وَلَا يَمْتَخِطُونَ...

‘জান্নাতবাসীরা সেখানে খাবে ও পান করবে। কিন্তু তারা প্রস্রাব করবে না, পায়খানা করবে না এবং নাকও ঝাড়বে না। তাদের খাবার সুগন্ধযুক্ত ঢেঁকুর ও ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে যাবে। আর তারা স্বাভাবিকভাবেই আল্লাহর তাসবিহ ও প্রশংসা করবে, যেমন তোমরা সহজে শ্বাস নাও।’ (মুসলিম ২৮৩৫)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, জান্নাতের দেহ ও জীবনব্যবস্থা দুনিয়ার সব সীমাবদ্ধতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে।

ঘুম না থাকা কি কষ্টের বিষয়?

দুনিয়ায় অনিদ্রা একটি কষ্ট। কিন্তু জান্নাতে ঘুম না থাকার অর্থ অনিদ্রা নয়; বরং সেখানে ঘুমের প্রয়োজনই থাকবে না।

জান্নাত হবে পরিপূর্ণ শান্তি, আনন্দ ও প্রশান্তির আবাস। সেখানে না থাকবে মানসিক চাপ, না থাকবে শারীরিক অবসাদ। ফলে ঘুমের প্রয়োজন না হওয়াই হবে জান্নাতের এক বিশেষ নেয়ামত।

কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে জানা যায়, জান্নাতবাসীদের দুনিয়ার মতো ঘুমের প্রয়োজন হবে না। কারণ ঘুম মানুষের ক্লান্তি দূর করার জন্য, আর জান্নাতে কোনো ক্লান্তি, অবসাদ, রোগ কিংবা মৃত্যুর অস্তিত্ব থাকবে না। আল্লাহ তাআলা সেখানে তার বান্দাদের এমন পূর্ণাঙ্গ জীবন দান করবেন, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত হবে শান্তি, আনন্দ ও অফুরন্ত নেয়ামতে পরিপূর্ণ। তাই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে সেই চিরস্থায়ী জান্নাতের অধিকারী হওয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার