Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

যে ৬ গুণের বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন নবীজি (সা.)

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

যে ৬ গুণের বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন নবীজি (সা.)

বিজ্ঞাপন

জান্নাত লাভ প্রত্যেক মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। কিন্তু জান্নাত অর্জনের পথ কেবল ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং উত্তম চরিত্র, সততা, আমানতদারি, লজ্জাশীলতা এবং মানুষের প্রতি সুন্দর আচরণও জান্নাতের অন্যতম চাবিকাঠি। রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ একটি হাদিসে এমন ছয়টি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো একজন মুসলিম নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলে তিনি জান্নাতের সুসংবাদ লাভের যোগ্য হতে পারেন।

জান্নাতের নিশ্চয়তার জন্য ৬টি গুণ

১. সর্বদা সত্য কথা বলা

সত্যবাদিতা মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। সত্য মানুষকে নেকির পথে পরিচালিত করে এবং নেকি মানুষকে জান্নাতে পৌঁছে দেয়। কুরআনের দলিল—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ১১৯)

২. প্রতিশ্রুতি পূরণ করা

মুমিনের পরিচয় হলো—তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না; বরং ওয়াদা যথাযথভাবে পালন করেন। কুরআনের দলিল—

وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ ۖ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا

‘তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো; নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৩৪)

৩. আমানতের হেফাজত করা

আল্লাহর কাছে এবং মানুষের কাছে অর্পিত প্রতিটি আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। কুরআনের দলিল—

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা যেন আমানত তার হকদারের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৫৮)

আরও পড়ুন
৪. লজ্জাস্থানের হেফাজত করা

চরিত্রের পবিত্রতা ও আত্মসংযম একজন মুমিনের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখে। কুরআনের দলিল—

وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ

‘আর যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (সুরা আল-মুমিনূন: আয়াত ৫)

৫. দৃষ্টি সংযত রাখা

দৃষ্টি সংযত রাখা অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করে এবং অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখে। কুরআনের দলিল—

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ

‘মুমিনদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (সুরা আন-নূর: আয়াত ৩০)

৬. হাত ও জিহ্বা দিয়ে কাউকে কষ্ট না দেওয়া

প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার কথা ও কাজ থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে। হাদিসের দলিল—

الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ

‘প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।’ (বুখারি ১০, মুসলিম ৪০)

জান্নাতের সুসংবাদবাহী হাদিস

اضْمَنُوا لِي سِتًّا مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضْمَنْ لَكُمُ الْجَنَّةَ: اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ، وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ، وَأَدُّوا إِذَا اؤْتُمِنْتُمْ، وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ، وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ، وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ

‘তোমরা নিজেদের পক্ষ থেকে ছয়টি বিষয়ে আমার কাছে নিশ্চয়তা দাও; আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। যখন কথা বলবে, সত্য বলবে; প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূরণ করবে; আমানত পেলে তা যথাযথভাবে আদায় করবে; নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করবে; দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং নিজেদের হাত (অন্যায় কাজ থেকে) বিরত রাখবে।’ (মুসনাদ আহমাদ ২২২৯১, আল-মুস্তাদরাক আলাস-সহিহাইন, ইমাম আল-হাকিম ৮০৬৪)

জান্নাত অর্জনের পথ কেবল অধিক ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্যবাদিতা, অঙ্গীকার রক্ষা, আমানতদারি, চারিত্রিক পবিত্রতা, দৃষ্টি সংযম এবং মানুষের প্রতি নিরাপদ আচরণ—এসবও একজন মুমিনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। যদি আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই ছয়টি নির্দেশনা আন্তরিকভাবে জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে আল্লাহর রহমতে জান্নাতের সুসংবাদ লাভের আশা করতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মহৎ গুণগুলো অর্জন করে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার