Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

নেক সন্তান গড়ার প্রস্তুতিতে মা-বাবার করণীয় ও দোয়া

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

নেক সন্তান গড়ার প্রস্তুতিতে মা-বাবার করণীয় ও দোয়া

বিজ্ঞাপন

সন্তান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বাবা-মায়ের জন্য এক মহান নিয়ামত। তবে শুধু সন্তান লাভ করাই নয়, তাকে দ্বীনদার, নেককার ও উত্তম চরিত্রের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই মা-বাবার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ইসলামে সন্তানের তারবিয়াত বা সঠিক লালন-পালনের বিষয়টি জন্মের পর থেকে নয়, বরং সন্তান পৃথিবীতে আসার আগ থেকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এক অনলাইন লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন— ভবিষ্যৎ সন্তান যেন দ্বীনদার ও আল্লাহভীরু হয়, সে জন্য মা-বাবার কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত? উত্তরে তিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল ও দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন।

সন্তানের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা

সন্তানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। বিশেষ করে গর্ভে থাকা শিশুর জন্য মা-বাবার উচিত আল্লাহর কাছে নেক ও দ্বীনদার সন্তান প্রার্থনা করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নেককার বান্দাদের একটি দোয়া উল্লেখ করেছেন—

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ: ‘রব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইউনিন ওয়া ঝ‘আলনা লিল মুত্তাক্বিনা ইমামা।

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।’ (সুরা আল-ফুরকান: আয়াত ৭৪)

এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায়, নেক সন্তান শুধু চেষ্টা ও পরিকল্পনার বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, যা দোয়ার মাধ্যমে চাওয়া উচিত।

জন্মের পর আজান ও ইকামত শোনানো

সন্তান জন্মগ্রহণের পর তার ডান কানে আজানের শব্দ এবং বাম কানে ইকামতের শব্দ শোনানো মুস্তাহাব আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি শিশুর জীবনের প্রথম মুহূর্তগুলোকে আল্লাহর স্মরণে শুরু করার একটি সুন্দর মাধ্যম।

শয়তান ও বদনজর থেকে সন্তানের হেফাজতের দোয়া

সন্তানের নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদের জন্য শয়তানের অনিষ্ট ও ক্ষতিকর দৃষ্টি থেকে রক্ষার দোয়া করতেন।

أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ

উচ্চারণ: ‘উ‘ইজুকা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাহ মিন কুল্লি শাইত্বানিওঁ ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি ‘আইনিল লাম্মাহ।’

অর্থ: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তোমার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর দৃষ্টি থেকে।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) তার নাতি হজরত হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য এ দোয়া করতেন। (বুখারি ৩৩৭১)

সুন্দর নাম রাখা ও আকিকা করা

সন্তানের জন্য সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা বাবা-মায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইসলাম এমন নাম রাখতে উৎসাহিত করেছে, যার অর্থ ভালো এবং যা সন্তানের পরিচয়কে সুন্দর করে। এ ছাড়া সামর্থ্য থাকলে সন্তানের সপ্তম দিনে আকিকা করা সুন্নত। একই সঙ্গে সপ্তম দিনে মাথার চুল অপসারণ করে চুলের ওজন পরিমাণ স্বর্ণ বা রূপার সমমূল্যের অর্থ সদকা করার কথাও হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

كُلُّ غُلَامٍ مُرْتَهَنٌ بِعَقِيقَتِهِ، تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ، وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ، وَيُسَمَّى

‘প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সঙ্গে বন্ধকস্বরূপ। সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকিকা করা হবে, তার মাথা মুণ্ডন করা হবে এবং তার নাম রাখা হবে।’ (আবু দাউদ ২৮৩৮, তিরমিজি ১৫২২)

শৈশব থেকেই দ্বীনি পরিবেশ তৈরি করা

সন্তানকে দ্বীনদার হিসেবে গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই তার পরিবেশের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুর কানে যেন অশ্লীলতা ও অনৈতিকতার বিষয় না পৌঁছে; বরং কুরআনের আয়াত, ভালো কথা ও উত্তম শিক্ষা পৌঁছায়—সেই চেষ্টা করতে হবে।

সন্তান সাধারণত শুধু উপদেশ শুনে নয়, বরং বাবা-মায়ের আচরণ দেখে শিক্ষা নেয়। তাই মা-বাবার নিজেদের আমল, চরিত্র ও জীবনাচরণও সন্তানের তারবিয়াতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা আত-তাহরিম: আয়াত ৬)

হালাল খাবার ও উত্তম পরিবেশ নিশ্চিত করা

সন্তানের চরিত্র গঠনে খাবার ও পরিবেশের প্রভাব অনেক বেশি। তাই বাবা-মায়ের দায়িত্ব হলো সন্তানের শরীরে যেন হালাল খাবার প্রবেশ করে এবং তাকে খারাপ পরিবেশ থেকে দূরে রাখা। শুধু বাহ্যিক শিক্ষা নয়, বরং হালাল উপার্জন, নৈতিকতা, ইবাদতের অভ্যাস এবং আল্লাহভীতির পরিবেশ শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

নেক সন্তান আল্লাহর বড় নেয়ামত, তবে সেই নেয়ামতের যথাযথ পরিচর্যা করা মা-বাবার দায়িত্ব। গর্ভকাল থেকেই সন্তানের জন্য দোয়া করা, জন্মের পর সুন্নাহসম্মত আমল করা, সুন্দর নাম রাখা, আকিকা করা এবং ছোটবেলা থেকেই দ্বীনি পরিবেশে বড় করার চেষ্টা করা— এসবই একজন মুসলিম বাবা-মায়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।

তবে সর্বোপরি মনে রাখতে হবে, হিদায়াত ও নেককার হওয়া আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। মা-বাবা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন, আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন— তিনি যেন তাদের সন্তানদের দ্বীনের পথে চলার তৌফিক দান করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের নেককার, দ্বীনদার ও উম্মাহর জন্য কল্যাণের কারণ বানিয়ে দিন। আমিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার