Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

ফুটবল খেলার উন্মাদনায় আত্মহত্যা, পরিণতি সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ এএম

ফুটবল খেলার উন্মাদনায় আত্মহত্যা, পরিণতি সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা মানুষের সুস্থ বিনোদন ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে যখন সেই খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় অন্ধ সমর্থন, বিদ্বেষ, সহিংসতা কিংবা আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা, তখন তা আর বিনোদনের সীমায় থাকে না। সম্প্রতি এক অনলাইন লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি মৃত্যুর প্রসঙ্গে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, সীমালঙ্ঘনকারী উন্মাদনা কোনোভাবেই ইসলামের শিক্ষা নয়; বরং একজন মুমিনের জীবন, সময় ও আবেগ সবকিছুই হতে হবে সংযম ও ভারসাম্যপূর্ণ।

খেলার উন্মাদনায় প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক

সম্প্রতি এক অনলাইন লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় এ বছর ১০ থেকে ১২ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। কুষ্টিয়ায় প্রতিপক্ষের ট্রোলিং বা বুলিং সহ্য করতে না পেরে একজন আত্মহত্যাও করেছেন। এসব মৃত্যুর দায় কার?

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, আমাদের দেশে প্রায় প্রতিবছরই খেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের প্রাণ ঝরে। তিনি বলেন, একজন ইমানদারের জীবন এতটা তুচ্ছ হতে পারে না যে, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের দল জিতল বা হারল—সেই কারণে মানুষ মারামারি করবে, এমনকি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটবে।

তিনি বলেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছে। তার ভাষায়, যারা এই উন্মাদনা সৃষ্টি করেন এবং সীমাহীনভাবে তা ছড়িয়ে দেন, তারা কোনোভাবেই এ দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না।

ইসলাম বিনোদনকে নিষেধ করে না, কিন্তু সীমালঙ্ঘনকে সমর্থন করে না

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, খেলাধুলা ও বিনোদন মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে তা উপভোগ করতে ইসলামে কোনো নিষেধ নেই। কিন্তু যখন তা সীমা অতিক্রম করে, তখন অকল্যাণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। তাই আল্লাহর নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে গেলে তার নেতিবাচক পরিণতি একসময় অবশ্যই প্রকাশ পায়।

কুষ্টিয়ার আত্মহত্যার ঘটনাকে ‘বড় ট্র্যাজেডি’ আখ্যা

কুষ্টিয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রিয় দল হেরে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের অতিরিক্ত ট্রোলিং বা বুলিং সহ্য করতে না পেরে ওই ব্যক্তি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। একটি খেলার কারণে একজন মানুষ নিজের জীবন শেষ করে দেবেন— এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

যে খেলায় দেশের অংশগ্রহণই নেই, সেই খেলাকে ঘিরে প্রাণহানি আরও বেদনাদায়ক

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে যে, একটি দেশে ১০-১২ জন মানুষ মারা যাচ্ছে এমন একটি খেলাকে কেন্দ্র করে, যেখানে সেই দেশের কোনো অংশগ্রহণই নেই।

তিনি আরও বলেন, মুসলমানরা এমন কিছু বিদেশি দলকে সমর্থন করছেন, যাদের কিছু রাষ্ট্রীয় অবস্থান মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ সেই দলগুলোর প্রতি অন্ধ আবেগে নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

শেষে তিনি আল্লাহর কাছে সবার জন্য হেদায়েত কামনা করেন।

আরও পড়ুন
সুস্থ শরীর গঠনও ইসলামের শিক্ষা

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, সুযোগ থাকলে প্রত্যেকেরই শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম ও শারীরিক কসরত করা উচিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উল্লেখ করে বলেন, দুর্বল মুমিনের তুলনায় সবল মুমিন আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম ও পরিমিত জীবনযাপন একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খেলা হোক সুস্থ বিনোদন, উন্মাদনা নয়

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, একজন মুমিন ব্যায়াম করবে, খেলাধুলা করবে এবং সুস্থ থাকবে—কিন্তু এমন উন্মাদনায় জড়াবে না, যার কারণে মানুষের জীবন ঝরে যায়।

তিনি বলেন, যে পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, কেবল তারাই সেই বেদনার গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে। তাই যারা এ ধরনের লাগামহীন উন্মাদনা তৈরি করেন বা উৎসাহ দেন, তাদের উচিত অনুতপ্ত হওয়া এবং এমন প্রবণতাকে আর প্রশ্রয় না দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, ইসলাম বিনোদনকে নিরুৎসাহিত করে না; তবে প্রতিটি বিষয়ের একটি সীমারেখা রয়েছে। যে কাজে দুনিয়া বা আখিরাতের কোনো উপকার নেই, এমন অনর্থক কাজে নিমগ্ন হওয়াকে ইসলাম সমর্থন করে না।

খেলাধুলা সুস্থ জীবন, শারীরিক সক্ষমতা ও বৈধ বিনোদনের একটি সুন্দর মাধ্যম। কিন্তু সেই খেলাকে কেন্দ্র করে যদি সৃষ্টি হয় বিদ্বেষ, সহিংসতা, আত্মহত্যা কিংবা প্রাণহানি, তবে তা ইসলামের সংযম ও ভারসাম্যের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একজন মুসলমানের পরিচয় হলো—তিনি অনর্থক ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন, সময় ও আবেগকে কল্যাণকর কাজে ব্যয় করবেন এবং প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলবেন। সমাজে সুস্থ ক্রীড়াচর্চা ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।

সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার