Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

আপনি কি নিজের নফসের ধোঁকায় পড়ছেন? কয়েকটি প্রশ্ন করুন নিজেকে

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২১ এএম

আপনি কি নিজের নফসের ধোঁকায় পড়ছেন? কয়েকটি প্রশ্ন করুন নিজেকে

বিজ্ঞাপন

মানুষের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হলো নিজের নফস বা প্রবৃত্তির সঙ্গে সংগ্রাম। নফস সব সময় মানুষকে প্রকাশ্যে গুনাহের দিকে আহ্বান করে না; বরং অনেক সময় সুন্দর যুক্তি, ক্ষণিকের সুখ কিংবা আত্মপ্রবঞ্চনার মাধ্যমে ভুল পথকে সহজ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

তাই একজন সচেতন মুমিনের উচিত নিয়মিত নিজের অন্তরকে যাচাই করা— আমি কি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে এগোচ্ছি, নাকি নফসের প্ররোচনায় ধীরে ধীরে সত্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছি?

নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করুন

নিজের বিবেকের কাছে আন্তরিকভাবে জিজ্ঞাসা করুন—

  • গুনাহ করার সময় কি মনে হয়— এটা করলে কেউ জানবে না?
  • হারাম বা সন্দেহজনক বিষয়ে কি কখনো মন প্রশান্তি খোঁজে?
  • দুনিয়ার কাজে উদ্যম থাকলেও নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত বা ইবাদতে কি অলসতা অনুভব হয়?
  • গুনাহের জন্য কি নিজেকে এভাবে সান্ত্বনা দেন— আমি তো খারাপ মানুষ নই, সবাই তো এটা করে?

যদি এসব অভ্যাস বা চিন্তা নিজের মধ্যে খুঁজে পান, তাহলে এটিকে আত্মসমালোচনার একটি সুযোগ হিসেবে নিন। এগুলো নফস ও শয়তানের প্ররোচনার লক্ষণ হতে পারে। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো দ্রুত তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।

নফস সম্পর্কে কুরআনের সতর্কবাণী

আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي ۚ إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ

‘নিশ্চয়ই নফস মানুষকে মন্দ কাজেরই নির্দেশ দেয়, তবে যার প্রতি আমার রব দয়া করেন সে ব্যতীত। নিশ্চয়ই আমার রব অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ইউসুফ: আয়াত ৫৩)

আবার আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى ۝ فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى

‘আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয় করেছে এবং নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছে, তবে নিশ্চয়ই জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।’ (সুরা আন-নাযিয়াত: আয়াত ৪০–৪১)

নফসের ধোঁকা থেকে বাঁচার কার্যকর উপায়

১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করুন

নামাজ বান্দাকে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ

‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আল-আনকাবুত: আয়াত ৪৫)

২. কুরআন তিলাওয়াত করুন এবং অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন

কুরআন অন্তরকে জীবন্ত করে, ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করে দেয়।

৩. গুনাহের পরিবেশ ও অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করুন

ভালো সঙ্গ মানুষকে আল্লাহর পথে এগিয়ে দেয়, আর খারাপ সঙ্গ ধীরে ধীরে গুনাহকে স্বাভাবিক করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ

‘মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের ওপর থাকে। তাই তোমাদের প্রত্যেকের উচিত, সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে তা দেখে নেওয়া।’ (আবু দাউদ ৪৮৩৩, তিরমিজি ২৩৭৮)

আরও পড়ুন
৪. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করুন

আল্লাহর স্মরণ অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং নফস ও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা আর-রাদ: আয়াত ২৮)

নফসের সঙ্গে সংগ্রাম একজন মুমিনের সারাজীবনের ইবাদত। নফস কখনো গুনাহকে ছোট করে দেখায়, কখনো তাওবাকে পিছিয়ে দেয়, আবার কখনো মানুষকে নিজের ভুলকেও সঠিক মনে করায়। তাই প্রতিদিন নিজের আমল ও নিয়ত পর্যালোচনা করা, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা এবং আল্লাহর কাছে হিদায়াত ও অবিচল থাকার দোয়া করা অত্যন্ত জরুরি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নফস ও শয়তানের ধোঁকা থেকে হেফাজত করুন, অন্তরকে তাকওয়া দিয়ে পরিপূর্ণ করুন এবং আমাদেরকে সর্বদা তার আনুগত্যের পথে অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার