Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

আল্লাহর রহমত, ফেরেশতাদের দোয়া ও নিরাপদ রাতের ৪ আমল

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

আল্লাহর রহমত, ফেরেশতাদের দোয়া ও নিরাপদ রাতের ৪ আমল

বিজ্ঞাপন

দিনের শেষে একজন মুমিনের সবচেয়ে সুন্দর প্রস্তুতি হলো আল্লাহর স্মরণে রাতকে বিদায় জানানো। ঘুম একটি ছোট মৃত্যুর মতো, তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন কিছু আমল শিখিয়েছেন, যা শুধু রাতকে বরকতময়ই করে না; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি, ফেরেশতাদের দোয়া এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।

আপনি কি চান—

> আল্লাহ যেন আপনাকে ভালোবাসেন?

> আল্লাহ যেন আপনার গুনাহ ক্ষমা করে দেন?

> ফেরেশতারা যেন আপনার জন্য দোয়া করতে থাকেন?

> শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন?

যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে ঘুমানোর আগে এই চারটি আমল নিয়মিত করার চেষ্টা করুন—

প্রথম আমল

ঘুমানোর আগে বিতরের নামাজ আদায় করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الْوِتْرُ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ

‘বিতর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (সুন্নাতে মুআক্কাদা)।’ (আবু দাউদ ১৪২৯)

আরও এসেছে—

إِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এক (বেজোড়) এবং তিনি বেজোড়কে ভালোবাসেন।’ (বুখারি ৬৪১০, মুসলিম ২৬৭৭)

দ্বিতীয় আমল

অজু করে ঘুমান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ بَاتَ طَاهِرًا بَاتَ فِي شِعَارِهِ مَلَكٌ، فَلَمْ يَسْتَيْقِظْ إِلَّا قَالَ الْمَلَكُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعَبْدِكَ، فَإِنَّهُ بَاتَ طَاهِرًا

‘যে ব্যক্তি পবিত্র (অজু) অবস্থায় রাত কাটায়, তার সঙ্গে একজন ফেরেশতা থাকেন। সে যখনই জাগে, ফেরেশতা বলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন, কারণ সে পবিত্র অবস্থায় রাত কাটিয়েছে।’ (ইবনে হিব্বান ১০৫১)

তৃতীয় আমল

আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَةَ الْكُرْسِيِّ... فَإِنَّهُ لَا يَزَالُ عَلَيْكَ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ، وَلَا يَقْرَبُكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ

‘যখন তুমি শয্যায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি পড়বে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক তোমার সঙ্গে থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না।’ (বুখারি ২৩১১)

আরও পড়ুন
চতুর্থ আমল

এই মহান জিকিরটি পড়ুন—

لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ: ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদির।’

অর্থ: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্ব একমাত্র তারই, সমস্ত প্রশংসাও তারই। তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

‘যে ব্যক্তি এই জিকির একশতবার পাঠ করবে, তার জন্য দশটি দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব লেখা হবে, একশত নেকি লেখা হবে, একশত গুনাহ মুছে দেওয়া হবে এবং সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’ (বুখারি ৩২৯৩, মুসলিম ২৬৯১)

কুরআনের নির্দেশ

وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًا

‘তুমি তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করো এবং একনিষ্ঠভাবে তারই দিকে মনোনিবেশ করো।’ (সুরা আল-মুযযাম্মিল: আয়াত ৮)

রাতের কয়েক মিনিটের এই ছোট ছোট আমল আমাদের আখিরাতের জন্য হতে পারে বিশাল সঞ্চয়। ঘুমানোর আগে বিতরের নামাজ, অজু, আয়াতুল কুরসি এবং আল্লাহর জিকির—এসব শুধু সুন্নাহই নয়, বরং একজন মুমিনের জন্য বরকত, নিরাপত্তা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই আজ থেকেই নিজের জীবনে এই সুন্দর অভ্যাসগুলো গড়ে তুলি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর স্মরণে রাত কাটানোর এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার