বিজ্ঞাপন
জান্নাতে পুরুষরা বেশি থাকবেন, নাকি নারীরা, যা বলছে ইসলাম
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
মুমিন-মুসলমানের পরম প্রত্যাশার জায়গা জান্নাত। জান্নাতে যেতে পারলেই মুসলমানের জীবন স্বার্থক। জান্নাতে মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজন একসঙ্গে থাকবেন।
জান্নাতে পুরুষদের সংখ্যা বেশি হবে নাকি নারীদের—এ বিষয়ে সাহাবিদের সময় থেকেই বিতর্ক চলে আসছে। হাদিসে আছে, আবু হুরায়রা (রা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘নারীরা সংখ্যায় বেশি হবে। এরপর তার বক্তব্যের সমর্থনে নিচের হাদিসটি উপস্থাপন করেন—জান্নাতে সর্বপ্রথম যে দলটি প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মতো উজ্জ্বল। এর পরবর্তী দলের চেহারা হবে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও ঝলমলে তারকার মতো। প্রত্যেক পুরুষের দুজন করে স্ত্রী থাকবে। তারা এতই ফর্সা হবে, গোশত ও হাড় ভেদ করে মজ্জা পর্যন্ত দেখা যাবে। আর জান্নাতে কেউ নিঃসঙ্গ থাকবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৪)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, জান্নাতে একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকবে। তাই সেখানে পুরুষদের চেয়ে নারীদের সংখ্যাই বেশি হবে।
অনেক ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, জান্নাতে নারীদের তুলনায় পুরুষদের সংখ্যাই বেশি হবে। হাদিসে আছে, হজরত মুহাম্মদ (সা.) নারীদের সম্বোধন করে বলেছেন, ‘আমি তোমাদের অধিকাংশকেই জাহান্নামে দেখতে পেয়েছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪৬২)
আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, ‘একবার আমরা একটি উপত্যকায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ তিনি বললেন, ওখানে তাকাও। কিছু কি দেখতে পাচ্ছ? আমরা একঝাঁক কাক দেখতে পেলাম। ঝাঁকের ভেতর ধবধবে সাদা একটি কাক। কাকটির ঠোঁট ও পা লাল। মহানবী (সা.) বললেন, যে সব নারী জান্নাতে প্রবেশ করবে, (পুরুষদের তুলনায়) তারা হবে এই বিরল প্রজাতির সাদা কাকের মতো।’
ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, জাহান্নামে নারীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এটা আবশ্যক নয় যে, জান্নাতে তাদের সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে কম হবে। কেননা, হতে পারে নারীরা জান্নাতেও সংখ্যায় বেশি হবে, জাহান্নামেও বেশি হবে। আর এ কারণেই দুনিয়ায় পুরুষদের তুলনায় নারীদের সংখ্যা বেশি।
ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘সুপারিশের আগপর্যন্ত জাহান্নামে পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা বেশি থাকবে। কিন্তু সুপারিশের মাধ্যমে যখন গুনাহগার মুমিনদের জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে, তখন জান্নাতেও তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে।’ (জান্নাত-জাহান্নাম, শায়খ ড. উমর সুলাইমান, অনুবাদ: মাওলানা আকরাম হোসাইন, পৃষ্ঠ: ১০৩)
ইমাম কুরতুবি এটিরও একটি সমাধান বের করেছেন। তার মতে, সুপারিশের আগপর্যন্ত জাহান্নামে পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা বেশি থাকবে। কিন্তু সুপারিশের মাধ্যমে যখন গুনাহগার মুমিনদের জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে, তখন জান্নাতেও তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে। (জান্নাত-জাহান্নাম, শায়খ ড. উমার সুলাইমান, অনুবাদ: মাওলানা আকরাম হোসাইন, পৃষ্ঠা: ১০৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন দেখেছি, যারা জান্নাতে প্রবেশ করেছে, তাদের অধিকাংশই দরিদ্র। ধনীদের হিসাবের জন্য আটকে রাখা হয়েছে। অবশ্য জাহান্নামিদের বিষয়ে এর মধ্যে জাহান্নামের ফায়সালা হয়ে গেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯১৯৬)