Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

স্বামীর নাম-পদবি নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করা কি বৈধ?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

স্বামীর নাম-পদবি নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করা কি বৈধ?

বিজ্ঞাপন

বিবাহ শুধু দুটি মানুষের বন্ধন নয়; এটি ভালোবাসা, বিশ্বাস, দায়িত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের এক পবিত্র সম্পর্ক। একজন স্ত্রী তার স্বামীকে হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসেন এবং জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তার উপস্থিতি অনুভব করতে চান। এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেক নারী বিয়ের পর নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম বা পদবি যুক্ত করেন। অনেকের কাছে এটি স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের প্রতীক।

তবে প্রশ্ন হলো— একজন নারী কি নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম-পদবি যুক্ত করতে পারবেন? ইসলামের দৃষ্টিতে এর বিধান কী? এ বিষয়ে শরিয়তের নির্দেশনা জানা প্রতিটি মুসলিম নারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

স্বামীর নামকে নিজের নামের অংশ বানানো সম্পর্কে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি

একটি প্রশ্নের উত্তরে জনপ্রিয় ইসলামিক অ্যাপ ‘মুসলিম বাংলা’-য় রাজধানীর দারুর রাশাদ (মিরপুর) মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস শায়খ উমায়ের কোব্বাদী বলেন, ‘বিয়ের পর নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম বা পদবি যুক্ত করে সেটিকে নিজের পরিচয়ের অংশ বানিয়ে নেওয়া মূলত পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি সমর্থনযোগ্য নয়।’

তার ভাষায়, ‘একজন নারীর প্রকৃত পরিচয় তার পিতার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তাই বিয়ের পর স্বামীর পরিচয়কে নিজের বংশীয় পরিচয়ের অংশ বানিয়ে ফেলা ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কুরআনের নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন—

ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ 

‘তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাকো; আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ন্যায়সঙ্গত।’ (সুরা আল-আহযাব: আয়াত ৫)

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষের বংশীয় পরিচয় ও পিতার সঙ্গে সম্পর্কিত নাম-পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই একজন নারী বিয়ের পরও তার পিতার পরিচয় বহাল রাখবেন।

হাদিসের সতর্কবাণী

রাসুলুল্লাহ (সা.) বংশীয় পরিচয় পরিবর্তনের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন—

مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوِ انْتَمَى إِلَى غَيْرِ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ

‘যে ব্যক্তি নিজের পিতা ছাড়া অন্য কারও পরিচয় গ্রহণ করে অথবা কোনো দাস তার প্রকৃত মুনিব ছাড়া অন্য কাউকে মুনিব বলে পরিচয় দেয়, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং সমগ্র মানবজাতির লানত বর্ষিত হবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।’ (মুসলিম ১৩৭০)

এই হাদিসের আলোকে আলেমগণ বলেন, নিজের প্রকৃত বংশীয় পরিচয় পরিবর্তন করা বা অন্য পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করা ইসলামে গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন
ভালোবাসা প্রকাশের বিকল্প পথ

স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের জন্য ইসলামে নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। একজন স্ত্রী তার স্বামীর আনুগত্য, সহযোগিতা, দোয়া, সদাচরণ এবং পারিবারিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে ভালোবাসার সর্বোত্তম পরিচয় দিতে পারেন।

ভালোবাসার প্রকৃত সৌন্দর্য নামের সঙ্গে কোনো শব্দ যুক্ত করার মধ্যে নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বস্ততা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন পরিচালনার মধ্যেই নিহিত।

ইসলাম বংশীয় পরিচয়ের সংরক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই একজন নারীর জন্য বিয়ের পর নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম-পদবি যুক্ত করে সেটিকে বংশীয় পরিচয়ের অংশ বানানো শরিয়তের দৃষ্টিতে সমর্থিত নয়। একজন মুসলিম নারী তার পিতৃপরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে পারেন। কেননা ইসলামে মর্যাদা নির্ধারিত হয় তাকওয়া ও আমলের মাধ্যমে, নাম বা পদবি পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার