বিজ্ঞাপন
নারীরা কি স্বামীর পাঁজরের হাড় দিয়ে তৈরি? ইসলাম যা বলে
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
বিজ্ঞাপন
আমাদের সমাজে একটি লোকমুখের ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে- ‘প্রত্যেক স্ত্রীকে তার স্বামীর বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।’ এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে অনেকে প্রশ্ন তোলেন, তবে অবিবাহিত বা একাধিক বিয়ে হওয়া নারীদের হাড়ের হিসাব কীভাবে হবে?
প্রকৃতপক্ষে, এই প্রশ্নটিই অবান্তর। কারণ, কুরআন বা হাদিসের কোথাও এমন কোনো কথা বলা হয়নি যে, প্রত্যেক স্ত্রীকে তার নিজের স্বামীর হাড় থেকে তৈরি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ একটি ভিত্তিহীন ও যুক্তিহীন ধারণা।
সহীহ মুসলিমে (হাদিস নং-১৪৬৮) বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন:
"নারীকে পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। সে তোমার জন্য কখনোই সোজা হবে না। তার দ্বারা কাজ আদায় করতে হলে এই বাঁকা অবস্থাতেই করতে হবে..."
ইসলামী স্কলার ও মুহাদ্দিসগণের মতে, এই হাদিসটির দুটি অর্থ হতে পারে:
১. নারীদের স্বভাবগত আচরণ বোঝাতে এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। পাঁজরের হাড় যেমন বাঁকা এবং তা জোর করে সোজা করতে গেলে ভেঙে যায়, তেমনি নারীদের স্বভাবের মধ্যেও কিছুটা ভিন্নতা বা আবেগীয় বক্রতা থাকে। এটি তাদের ত্রুটি নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটিই তাদের সহজাত সৌন্দর্য। তাদের সাথে জোরজবরি না করে কোমলতার সাথে সংসার করতে বলা হয়েছে।
২. এর দ্বারা কেবল পৃথিবীর প্রথম নারী হযরত হাওয়া (আ.)-কে বোঝানো হয়েছে, যাকে জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে হযরত আদম (আ.)-এর বাম পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছিল (বুখারি: ৩৩৩১)। কেবল তিনিই আদমের হাড় থেকে সৃষ্ট, অন্য কোনো নারী তার স্বামীর হাড় থেকে নয়।
পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নিসা (আয়াত: ১) এবং সূরা আল-আ’রাফে (আয়াত: ১৮৯) মহান আল্লাহ পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছেন:
"তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা (আদম) থেকে; আর তার থেকেই তৈরি করেছেন তার জোড়াকে (হাওয়া), যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে..."
এখানে ‘তোমাদের’ বলতে আল্লাহ কোনো একক পুরুষকে নয়, বরং সমগ্র মানবজাতিকে বুঝিয়েছেন। আয়াতদ্বয়ের অকাট্য বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, আল্লাহ প্রথমে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেন এবং তাঁর থেকে তাঁর সঙ্গিনী হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করেন। অতঃপর এই আদি দম্পতি থেকেই বংশানুক্রমিকভাবে পৃথিবীর সমস্ত পুরুষ ও নারীর জন্ম ও বিস্তার ঘটেছে।
অতএব, বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই ‘স্বামীর হাড় থেকে স্ত্রী সৃষ্টি’র দাবিটি অবৈজ্ঞানিক ও বানোয়াট। যদি এমনটি হতো, তবে যে কন্যাসন্তানরা শৈশবে বা অবিবাহিত অবস্থায় মারা যায়, তাদের সৃষ্টির কোনো যৌক্তিক ভিত্তি থাকত না। সুতরাং, নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো যে, কেবল হযরত হাওয়া (আ.)-ই হযরত আদমের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্ট, আর বাকি সমস্ত নারী-পুরুষ স্বাভাবিক জন্ম প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পৃথিবীতে এসেছেন।