বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পবিত্র হজ ইসলামের এক অনন্য ও মহান স্তম্ভ। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আবালবৃদ্ধবনিতা, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে লাখ লাখ মুসলমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে মক্কা-মদিনায় সমবেত হন। পুণ্যের এই মহাসমাবেশে প্রতি বছরই অনেক সৌভাগ্যবান মুমিন ইহধাম ত্যাগ করেন। এ বছর অন্তত ৪৫ জন বাংলাদেশি হজে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
হজের সফরে এই মৃত্যু কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়, বরং এটি এক মহা সৌভাগ্যের ও মর্যাদার বিষয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই পুণ্যময় মৃত্যু নিয়ে চমৎকার সুসংবাদ দিয়েছেন। হাদিস অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা গেলে, কিয়ামত পর্যন্ত তার আমলনামায় হজের সওয়াব লেখা হতে থাকে।
একইভাবে ওমরাহযাত্রী মারা গেলেও কিয়ামত পর্যন্ত ওমরাহর সওয়াব জারি থাকে (মুসনাদে আবু ইয়ালা)। আল্লাহর মেহমান বা ‘দুয়ূফুর রহমান’ অবস্থায় এই বিদায় নিশ্চিতভাবেই এক পরম কল্যাণ ও সৌভাগ্যের স্মারক।
বিদায়হজের এক সফরে ইহরাম পরিহিত এক ব্যক্তি উটের পিঠ থেকে পড়ে মারা গেলে আল্লাহর রাসূল (সা.) নির্দেশ দেন: "তোমরা তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং তার ইহরামের দুই টুকরো কাপড় দিয়েই কাফন পরাও। তার শরীরে সুগন্ধি লাগাবে না এবং মাথা ঢাকবে না। কারণ, কিয়ামতের দিন সে তালবিয়া (লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক) পাঠ করতে করতে পুনরুত্থিত হবে।" (বুখারি ও মুসলিম)
তাই হজের সফরে প্রিয়জনের মৃত্যুতে দুঃখের চেয়ে আনন্দের দোলাই বেশি অনুভূত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, মক্কা বা মদিনায় কোনো হজযাত্রী মারা গেলে তার মরদেহ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় না; যার সম্মতি হাজিগণ আগেই দিয়ে থাকেন।
মক্কায় মৃত্যুবরণকারীদের কাবা শরিফের নিকটবর্তী ঐতিহাসিক ‘জান্নাতুল মা’লা’ এবং মদিনায় অবস্থানকালীন মৃতদের মসজিদে নববীর পাশে ‘জান্নাতুল বাকি’ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
যেখানে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সন্তান, স্ত্রী এবং হাজারো অনুসারী ও সাহাবায়ে কেরাম শায়িত আছেন, সেখানে শেষ আশ্রয় পাওয়া যে কোনো মুসলিমের জন্য এক পরম পাওয়া। ইহরামের পোশাকে, তালবিয়া মুখে নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার এই গৌরবময় মৃত্যু সত্যিই প্রতিটি মুমিনের কাঙ্ক্ষিত।