বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ইসলামের সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ দিনগুলোর অন্যতম হলো আরাফার দিন, যেদিন লাখো হাজি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও কান্নাকাটিতে মগ্ন হন এবং হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এই দিনটি কেবল হাজিদের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সমস্ত মুসলিমের কাছেই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
আগামী ২৬ মে (মঙ্গলবার) পবিত্র হজের আরাফার দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক মহান সুসংবাদ দিয়েছেন; হাদিস অনুযায়ী এই রোজা গুনাহ মাফ, আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির এক মহা সুযোগ এনে দেয়। এই দিনে, মহান আল্লাহ বান্দার সবচেয়ে কাছে আসেন এবং অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
আরাফার দিনের রোজার ফজিলত নিয়ে রাসুল (সঃ) এর বানী :
হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.)- এর বর্ণনায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোজা রাখে, তার একাধারে দুই বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (আবু ইয়ালা; আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)
হজরত আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনায়-
‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ রোজা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।’ (মুসলিম ১১৬২, মুসনাদে আহমদ)
দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময় আরাফার দিন-
আরাফাতের ময়দানে আল্লাহর মেহমানরা যখন অশ্রুসজল চোখে গুনাহ মাফ ও নিজেদের প্রয়োজনের আকুতি জানান, মহান আল্লাহ তখন তাঁদের দোয়া কবুল করে তাদের ক্ষমা করে দেন।
পবিত্র হজের এই মহামূল্যবান দিনটি কেবল হাজিদের জন্যই নয়, বরং যারা হজে যেতে পারেননি তাদের জন্যও আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ।
এই বরকতময় দিনে মাত্র একটি রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা বিগত এবং আগামী এই দুই বছরের গুনাহ মাফের নিয়ামত ও সুসংবাদ দিয়েছেন। এটিই আমাদের জীবনের গুনাহ মোচন ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ উসিলা হয়ে ওঠে। তাই এই দিনে রোজা রাখা, বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করা, দোয়া ও জিকিরে নিজেদের ব্যস্ত রাখা উচিত। হয়তো এই দিনটিই আমাদের জীবনের গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।