বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মানুষ সারাজীবন ইবাদত করে, নামাজ পড়ে, রোজা রাখে— তবুও অনেক সময় হৃদয়ে প্রশান্তি আসে না। কারণ ইবাদতের সৌন্দর্য শুধু আমলের মধ্যে নয়, বরং হৃদয়ের পরিশুদ্ধতার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে। অনেক মানুষ আল্লাহর পথে চলতে চায়, কিন্তু মানুষের সন্তুষ্টি, খারাপ সঙ্গ ও দুনিয়ার মোহ তাকে বারবার পিছিয়ে দেয়। একজন আল্লাহওয়ালা মানুষ বলেছিলেন—
‘আমি ৫০ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছি, কিন্তু ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ তখনই পেয়েছি, যখন তিনটি জিনিস ত্যাগ করেছি।’
এই তিনটি ত্যাগ শুধু একজন মানুষের জীবন নয়, তার ইমান, চরিত্র ও আখিরাতের গন্তব্যও বদলে দিতে পারে।
১. মানুষকে খুশি করার চিন্তা ছেড়ে দিয়েছি— তাই সত্য বলতে পেরেছি
মানুষকে খুশি করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় সত্য গোপন করি, অন্যায়ের সাথে আপস করি, এমনকি নিজের বিবেককেও হত্যা করি। অথচ একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো— সে সত্যের উপর অটল থাকে। যেদিন মানুষ আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে শেখে, সেদিন তার হৃদয় সত্যের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো।’ (সুরা আল-আহযাব: আয়াত ৭০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
‘সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই।’ (মুসনাদ আহমদ ১০৯৮)
২. পাপীদের সঙ্গ ত্যাগ করেছি— তাই নেককারদের সান্নিধ্য পেয়েছি
মানুষ তার বন্ধুর দ্বারাই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়। খারাপ সঙ্গ ধীরে ধীরে হৃদয়কে অন্ধকার করে দেয়, আর নেককারদের সান্নিধ্য ইমানকে জীবন্ত রাখে। নেককার মানুষের পাশে থাকলে ইবাদত সহজ হয়, হৃদয় নরম হয় এবং আল্লাহর স্মরণ বাড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
الْأَخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ
‘সেদিন বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে, তবে মুত্তাকীরা ছাড়া।’ (সুরা আয-যুখরুফ: আয়াত ৬৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ
‘মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাই তোমরা লক্ষ্য করো কার সাথে বন্ধুত্ব করছ।’ (আবু দাউদ ৪৮৩৩)
দুনিয়া কখনো স্থায়ী নয়। অথচ মানুষ এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের পেছনে ছুটতে গিয়ে আখিরাত ভুলে যায়। কিন্তু যখন কেউ দুনিয়ার মোহ কমিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয়, তখন তার অন্তরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে আসে। যে হৃদয় আখিরাতকে ভালোবাসে, সে হৃদয় দুনিয়ার অস্থায়ী চাকচিক্যে আর বিভ্রান্ত হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
‘দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৮৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
ازْهَدْ فِي الدُّنْيَا يُحِبَّكَ اللَّهُ
‘দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হও, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন।’ (ইবনে মাজাহ ৪১০২)
ইবাদতের স্বাদ কেবল দীর্ঘ সিজদায় নয়, বরং হৃদয়ের পরিবর্তনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। যে মানুষ— মানুষের সন্তুষ্টির চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে বড় করে, খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করে নেককারদের সাথে থাকে, দুনিয়ার মোহ ছেড়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দেয়, সে-ই প্রকৃত প্রশান্তি খুঁজে পায়। হয়তো আমরাও আজ থেকেই ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহর আরও কাছাকাছি হতে পারি। কারণ হৃদয়ের সত্যিকারের সুখ কেবল আল্লাহর স্মরণেই রয়েছে।
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়সমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা আর-রা‘দ: আয়াত ২৮)