Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

কুরবানির পশুর নাম ‘ট্রাম্প’ বা ‘মোদি’ রাখা কি জায়েজ? জানুন ইসলামের স্পষ্ট বিধান

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

কুরবানির পশুর নাম ‘ট্রাম্প’ বা ‘মোদি’ রাখা কি জায়েজ? জানুন ইসলামের স্পষ্ট বিধান

বিজ্ঞাপন

কুরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং মহান আল্লাহর বিশেষ নিদর্শন বা ‘শিআরুল্লাহ’। এই ইবাদতের মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া, আন্তরিকতা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কুরবানির পশুর নাম নিয়ে একধরনের অস্বস্থিকর প্রতিযোগিতা ও বিদ্রূপাত্মক সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে। কেউ পশুর নাম রাখছেন রাজনৈতিক নেতা বা আলোচিত ব্যক্তিদের নামে, আবার কেউ ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে উদ্ভট নাম ব্যবহার করছেন। প্রশ্ন হলো—ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের নামে কুরবানির পশুর নাম রাখা কি বৈধ? এ বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি জানা জরুরি।

পশুর নাম রাখা কি জায়েজ?

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পশুপাখির সুন্দর ও মার্জিত নাম রাখা সম্পূর্ণ বৈধ। স্বয়ং মুহাম্মদ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম তাদের পোষা প্রাণীদের নাম রাখতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উটের নাম ছিল ‘আজবা’ ও ‘কাসওয়া’। তার ঘোড়ার নাম ছিল ‘সাকব’ এবং খচ্চরের নাম ছিল ‘দুলদুল’।

অতএব, আদর করে কুরবানির পশুর একটি সুন্দর নাম রাখা ইসলামি সংস্কৃতিরই অংশ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু মানুষের নামে নামকরণ নয়।

মানুষের নামে পশুর নাম রাখার বিধান

পশুর নাম রাখা বৈধ হলেও মানুষের নামে বা মানুষের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ নামে পশুর নামকরণ ইসলামি আদব ও শালীনতার পরিপন্থী। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। তাহলো—

১. মানুষের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা

আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সম্মানিত করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ

‘নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৭০)

কোনো পশুকে মানুষের নামে ডাকা পরোক্ষভাবে মানুষের নাম ও মর্যাদাকে খাটো করার শামিল হতে পারে। তাই এ ধরনের নামকরণ থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

২. বিদ্রূপ ও তাচ্ছিল্যের নিষেধাজ্ঞা

অনেক সময় বিদ্বেষ বা উপহাসের উদ্দেশ্যে কুরবানির পশুর নাম রাখা হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা বা বিতর্কিত ব্যক্তির নামে। ইসলামে কাউকে বিদ্রূপ করা কিংবা মন্দ নামে ডাকা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ

‘তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১১)

সুতরাং কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পশুর নামকরণ ইসলামি আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিদ্বেষ বা ভাইরাল সংস্কৃতির নামে ইবাদতের অবমূল্যায়ন

বর্তমানে অনেক কুরবানির পশুর নাম রাখা হচ্ছে ‘ট্রাম্প’, ‘মোদি’ বা ‘নেতানিয়াহু’। বাহ্যিকভাবে এটি রাজনৈতিক ঘৃণা বা প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও ইসলামি স্কলারদের মতে, এ ধরনের আচরণ কুরবানির মতো পবিত্র ইবাদতের গাম্ভীর্য নষ্ট করে।

আরও পড়ুন
কুরবানি কোনো বিনোদন বা রাজনৈতিক ব্যঙ্গের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি ইবাদত। সেখানে বিদ্রূপ, তামাশা বা সস্তা জনপ্রিয়তা যুক্ত হলে ইবাদতের ‘ইখলাস’ বা একনিষ্ঠতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন আচরণ কখনো কখনো কবিরা গুনাহের পর্যায়েও পৌঁছে যেতে পারে।

পশুর নাম নির্বাচনে মুমিনের করণীয়

ইসলামি চিন্তাবিদরা পশুপাখির নামকরণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন—

> সুন্দর, ভদ্র ও অর্থবোধক নাম নির্বাচন করা।

> এমন কোনো নাম ব্যবহার না করা, যা মানুষের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ করে।

> কুরবানির মতো মহান ইবাদতকে হাস্যরস, ভাইরাল সংস্কৃতি বা সস্তা প্রচারণার উপকরণে পরিণত না করা।

> আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি সম্মান ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা।

কুরবানির মূল উদ্দেশ্য পশুর নাম প্রচার করা নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন করা। মানুষ কী বলল, কোন নাম ভাইরাল হলো বা কতটা আলোচনায় এলো— এসবের চেয়ে আল্লাহর কাছে মূল্যবান হলো বান্দার আন্তরিকতা ও পরহেজগারি। তাই একজন সচেতন মুমিনের দায়িত্ব হলো কুরবানির মতো পবিত্র ইবাদতকে সব ধরনের কুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতি, বিদ্রূপ ও অহেতুক প্রদর্শনী থেকে মুক্ত রাখা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার