বিজ্ঞাপন
ডিভোর্সি নারীদের কটু কথা বলার কঠোর সমালোচনা, যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলে শায়খ আহমাদুল্লাহকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, আমি একজন ডিভোর্সি (তালাকপ্রাপ্তা) নারীকে বিয়ে করেছি। আমার পরিবার এটা মেনে নেয়নি। আমার এলাকার মানুষ আমাকে ও আমার স্ত্রীকে নানা বাজে কথা শোনায়। ডিভোর্সি নারী বিয়ে করে আমি কি ভুল করেছি? ইসলাম এ ব্যাপারে কী বলে?
এই প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, "ডিভোর্সি বা বিধবা নারীকে বিয়ে করার কারণে যদি পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে নানা বাজে কথা শুনতে হয়, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সমাজে অনেক নামাজী বা নিজেদের মুসলমান দাবি করা মানুষের মধ্যেও এমন কিছু দুশ্চরিত্র ও মানসিকতা দেখা যায়। একজন যুবক কোনো ডিভোর্সি বা বিধবা নারীকে বিয়ে করলে তিনি অত্যন্ত ভালো একটি কাজ করেছেন।
আমাদের সমাজের অবস্থা এ রকম যে, ডিভোর্সি নারীদের দেখলে মানুষ ফিসফিস করে, তাকে নানা কটূ কথা শোনায়। মনে করে যে, তার নিজেরই কোনো সমস্যা ছিল, না হলে কেন তার তালাক হলো। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদ কি শুধু স্ত্রীর দোষেই হয়? স্বামীর দোষে হয় না? বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্যদের সম্মিলিত অত্যাচারের কারণে নারীরা তালাক নিতে বাধ্য হন।
তালাকের পর এমন একজন মাজলুম নারীর এমনিতেই মন ভাঙা থাকে। এর ওপর সমাজের মানুষ যদি তাকে কটু কথা বলে হেয় করে, তাচ্ছিল্য করে, তাহলে ওই অত্যাচারিত অন্তরের দীর্ঘশ্বাস ও আহাজারি আপনাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
আমাদের সমাজে ভালো কাজ করলে বেশি বাধা আসে, অথচ খারাপ কাজে কেউ তেমন বাধা দেয় না। একজন নারী যার স্বামী মারা গেছেন বা ডিভোর্স হয়েছে এবং যার সন্তান আছে, তিনি যদি নিজের চরিত্র হেফাজত করা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রয়োজনে অন্যত্র বিয়ে করেন, তাহলে সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত তাকে স্যালুট জানানো এবং তাকে উৎসাহিত করা। কিন্তু সমাজের এক শ্রেণীর নষ্ট মানুষ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে এবং বাজে কথা বলে।
একইভাবে কোনো বয়স্ক পুরুষ যদি তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একাকীত্ব কাটাতে কিংবা নিজের প্রয়োজনে বিয়ে করতে চান, তাহলে সমাজের অন্য মানুষের আগে তার নিজের ছেলেমেয়েরাই বাধা দেয়। এটা অত্যন্ত স্বার্থপর আচরণ। বাবার বুড়ো বয়সেও একজন সঙ্গিনীর প্রয়োজন আছে, তার সব প্রয়োজন ও একাকীত্ব সন্তানরা পূরণ করতে পারে না। অথচ কেউ বুড়ো বয়সে বিয়ে করলে সমাজের মানুষ পর্যন্ত তা নিয়ে হাসাহাসি করে এবং মনে করে যে, বুড়ো বয়সে তার ভীমরতি ধরেছে। এগুলো আমাদের সমাজের কুসংস্কার যা দূর করা জরুরি।
কোনো ডিভোর্সি বা বিধবা নারীকে বিয়ে করা দোষের বিষয় নয়, বরং এটি বড় পুণ্যের কাজ। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সাহাবীদের জীবনী ঘাটলে দেখা যায়, ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম মানুষরা বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীদের বিয়ে করেছেন। স্বয়ং রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রীদের মধ্যে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) ছাড়া বাকি সবাই বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা ছিলেন। তাই কেউ যদি ডিভোর্সি কোনো নারীকে বিয়ে করে, তবে সে মূলত নবীজি ও সাহাবীদের সুন্নতের ওপরই আমল করে। সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে হলে এই ধরনের মানুষদের সৎ সাহস ও উৎসাহ দেওয়া উচিত।
যারা দাড়ি রেখে বা নামাজ পড়েও এই সমস্ত ভালো কাজ নিয়ে হাসাহাসি করে, তারা গর্হিত গুনাহের কাজ করছে। কোনো ভালো কাজকে মন্দ বলাও অন্যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই সব জ্ঞানহীন আচরণ থেকে বেঁচে থাকার এবং আমাদের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করার তৌফিক দান করুন।\"
সূত্র: সুন্নাহ হাইলাইট
এই প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, "ডিভোর্সি বা বিধবা নারীকে বিয়ে করার কারণে যদি পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে নানা বাজে কথা শুনতে হয়, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সমাজে অনেক নামাজী বা নিজেদের মুসলমান দাবি করা মানুষের মধ্যেও এমন কিছু দুশ্চরিত্র ও মানসিকতা দেখা যায়। একজন যুবক কোনো ডিভোর্সি বা বিধবা নারীকে বিয়ে করলে তিনি অত্যন্ত ভালো একটি কাজ করেছেন।
আমাদের সমাজের অবস্থা এ রকম যে, ডিভোর্সি নারীদের দেখলে মানুষ ফিসফিস করে, তাকে নানা কটূ কথা শোনায়। মনে করে যে, তার নিজেরই কোনো সমস্যা ছিল, না হলে কেন তার তালাক হলো। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদ কি শুধু স্ত্রীর দোষেই হয়? স্বামীর দোষে হয় না? বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্যদের সম্মিলিত অত্যাচারের কারণে নারীরা তালাক নিতে বাধ্য হন।
তালাকের পর এমন একজন মাজলুম নারীর এমনিতেই মন ভাঙা থাকে। এর ওপর সমাজের মানুষ যদি তাকে কটু কথা বলে হেয় করে, তাচ্ছিল্য করে, তাহলে ওই অত্যাচারিত অন্তরের দীর্ঘশ্বাস ও আহাজারি আপনাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
আমাদের সমাজে ভালো কাজ করলে বেশি বাধা আসে, অথচ খারাপ কাজে কেউ তেমন বাধা দেয় না। একজন নারী যার স্বামী মারা গেছেন বা ডিভোর্স হয়েছে এবং যার সন্তান আছে, তিনি যদি নিজের চরিত্র হেফাজত করা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রয়োজনে অন্যত্র বিয়ে করেন, তাহলে সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত তাকে স্যালুট জানানো এবং তাকে উৎসাহিত করা। কিন্তু সমাজের এক শ্রেণীর নষ্ট মানুষ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে এবং বাজে কথা বলে।
একইভাবে কোনো বয়স্ক পুরুষ যদি তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একাকীত্ব কাটাতে কিংবা নিজের প্রয়োজনে বিয়ে করতে চান, তাহলে সমাজের অন্য মানুষের আগে তার নিজের ছেলেমেয়েরাই বাধা দেয়। এটা অত্যন্ত স্বার্থপর আচরণ। বাবার বুড়ো বয়সেও একজন সঙ্গিনীর প্রয়োজন আছে, তার সব প্রয়োজন ও একাকীত্ব সন্তানরা পূরণ করতে পারে না। অথচ কেউ বুড়ো বয়সে বিয়ে করলে সমাজের মানুষ পর্যন্ত তা নিয়ে হাসাহাসি করে এবং মনে করে যে, বুড়ো বয়সে তার ভীমরতি ধরেছে। এগুলো আমাদের সমাজের কুসংস্কার যা দূর করা জরুরি।
কোনো ডিভোর্সি বা বিধবা নারীকে বিয়ে করা দোষের বিষয় নয়, বরং এটি বড় পুণ্যের কাজ। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সাহাবীদের জীবনী ঘাটলে দেখা যায়, ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম মানুষরা বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীদের বিয়ে করেছেন। স্বয়ং রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রীদের মধ্যে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) ছাড়া বাকি সবাই বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা ছিলেন। তাই কেউ যদি ডিভোর্সি কোনো নারীকে বিয়ে করে, তবে সে মূলত নবীজি ও সাহাবীদের সুন্নতের ওপরই আমল করে। সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে হলে এই ধরনের মানুষদের সৎ সাহস ও উৎসাহ দেওয়া উচিত।
যারা দাড়ি রেখে বা নামাজ পড়েও এই সমস্ত ভালো কাজ নিয়ে হাসাহাসি করে, তারা গর্হিত গুনাহের কাজ করছে। কোনো ভালো কাজকে মন্দ বলাও অন্যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই সব জ্ঞানহীন আচরণ থেকে বেঁচে থাকার এবং আমাদের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করার তৌফিক দান করুন।\"
সূত্র: সুন্নাহ হাইলাইট