Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

সালাতুত তাসবীহ নামাজের নিয়ম এবং ফজিলত

Icon

ফরিদুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২২ পিএম

সালাতুত তাসবীহ নামাজের নিয়ম এবং ফজিলত

বিজ্ঞাপন

সালাতুত তাসবীহ মোট ৪ রাকাত। এই নামাজে একটি বিশেষ তাসবীহ মোট ৩০০ বার পড়তে হয়। তাসবীহটি হলো:

'সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার' (سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ)

প্রতি রাকাতে নিচের নিয়মে ৭৫ বার করে তাসবীহ পড়তে হয়:

১. সানা পড়ার পর: সুরা ফাতিহার আগে — ১৫ বার। 

২. সুরা শেষ করে: রুকুতে যাওয়ার আগে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় — ১০ বার। 

৩. রুকুতে: 'সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম' পড়ার পর — ১০ বার। 

৪. রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে: 'রাব্বানা লাকাল হামদ' পড়ার পর — ১০ বার। 

৫. প্রথম সিজদায়: 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পড়ার পর — ১০ বার। 

৬. দুই সিজদার মাঝখানে বসে: — ১০ বার। 

৭. দ্বিতীয় সিজদায়: 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পড়ার পর — ১০ বার।

মোট = ৭৫ বার। এভাবে ৪ রাকাতে (৪ × ৭৫) মোট ৩০০ বার তাসবীহ পূর্ণ হবে।

কিছু জরুরি মাসআলা

নামাজের সময়: মাকরুহ সময় ছাড়া দিনের বা রাতের যেকোনো সময় এই নামাজ পড়া যায়। তবে জোহরের আগে পড়া উত্তম।

গণনার নিয়ম: আঙ্গুলের কর গুনে তাসবীহ গণনা করা নামাজের একাগ্রতা নষ্ট করতে পারে। তাই আঙ্গুলের মাথায় চাপ দিয়ে বা মনে মনে গণনা করা ভালো।

ভুল হলে: যদি কোনো এক স্থানে তাসবীহ পড়তে ভুলে যান বা সংখ্যা কম হয়, তবে পরবর্তী যেকোনো অবস্থানে তা আদায় করে নেবেন। তবে রুকু থেকে খাড়া হয়ে (কওমা) এবং দুই সিজদার মাঝখানে বসা অবস্থায় (জলসা) কোনো কমতি হলে তা সেখানে পূরণ না করে পরের সিজদায় গিয়ে পূরণ করা উত্তম।

সিজদা সাহু: যদি নামাজে সিজদা সাহু ওয়াজিব হয়, তবে সিজদা সাহুর সিজদায় বা তার মাঝের বৈঠকে এই তাসবীহ পড়তে হয় না।

এটি নফল নামাজ। মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে,

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ لِلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ: يَا عَبَّاسُ، يَا عَمَّاهُ، ” أَلَا أُعْطِيكَ، أَلَا أَمْنَحُكَ، أَلَا أَحْبُوكَ، أَلَا أَفْعَلُ لَكَ عَشْرَ خِصَالٍ إِذَا أَنْتَ فَعَلْتَ ذَلِكَ، غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذَنْبَكَ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَقَدِيمَهُ وَحَدِيثَهُ، وَخَطَأَهُ وَعَمْدَهُ، وَصَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ، وَسِرَّهُ وَعَلَانِيَتَهُ، عَشْرُ خِصَالٍ: أَنْ تُصَلِّيَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ، فَإِذَا فَرَغْتَ مِنَ الْقِرَاءَةِ فِي أَوَّلِ رَكْعَةٍ، قُلْتَ وَأَنْتَ قَائِمٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً، ثُمَّ تَرْكَعُ فَتَقُولُ وَأَنْتَ رَاكِعٌ عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ الرُّكُوعِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَهْوِي سَاجِدًا فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ سَاجِدٌ عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ السُّجُودِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ السُّجُودِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، فَذَلِكَ خَمْسَةٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، تَفْعَلُ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ، إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تُصَلِّيَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ مَرَّةً فَافْعَلْ، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّةً، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ مَرَّةً، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي عُمُرِكَ مَرَّةً“

ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্বাস ইবনে আব্দিল মুত্তালিবকে বলেছেন,হে চাচা! আঁমি কি আপনাকে দেব না? আঁমি কি আপনাকে প্রদান করব না? আঁমি কি আপনার নিকটে আসব না? আঁমি কি আপনার জন্য দশটি সৎ গুনের বর্ণনা করব না যা করলে আল্লাহ তা’আলা আপনার আগের ও পিছনের,নতুন ও পুরাতন,ইচ্ছায় ও ভুলবশত কৃত,ছোট ও বড়, গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন? আর সে দশটি সৎ গুন হলো: আপনি চার রাকাত নামাজ পড়বেন।প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়বেন। প্রথম রাকাতে যখন কিরা’আত পড়া শেষ করবেন তখন দাঁড়ানো অবস্থায় ১৫ বার বলবেন:

سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। 

এরপর রুকুতে যাবেন এবং রুকু অবস্থায় (উক্ত দো’আটি) ১০ বার পড়বেন। এরপর রুকু থেকে মাথা ওঠাবেন এবং ১০ বার পড়বেন।এরপর সিজদায় যাবেন। সিজদারত অবস্থায় ১০ বার পড়বেন।এরপর সিজদা থেকে মাথা উঠাবেন অতঃপর ১০ বার পড়বেন। এরপর আবার সিজদায় যাবেন এবং সিজদারত অবস্থায় ১০ বার পড়বেন। এরপর সিজদা থেকে মাথা ওঠাবেন এবং ১০ বার পড়বেন। এ হলো প্রতি রাকাতে ৭৫ বার। আপনি চার রাকাতেই অনুরূপ করবেন। যদি আপনি প্রতিদিন আমল করতে পারেন, তবে তা করুন। আর যদি না পারেন,তবে প্রতি জু’মাআয় একবার। যদি প্রতি জু’মাআয় না করেন তবে প্রদি মাসে একবার। আর যদি তাও না করেন তবে জীবনে একবার।

সুনানে আবু দাউদ,হাদীস নং- ১২৯৭।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার