Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

বদনজর বা অশ্লীল ভিডিও দেখলে কি রোজা ভেঙে যায়?

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১০ পিএম

বদনজর বা অশ্লীল ভিডিও দেখলে কি রোজা ভেঙে যায়?

বিজ্ঞাপন

রমজান মাসের রোজা শুধু খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসংযমের ইবাদত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন,

“হে মুমিনগণ, তোমরা রোজা ধরো যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)।

তাই রোজা হলো দেহ, মন ও জিহ্বা—সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি পরীক্ষা। এ প্রসঙ্গে অনেক মুসলিমের মনে প্রশ্ন হয়, বদনজর বা অশ্লীল ভিডিও দেখলে রোজা ভেঙে যায় কি না।

প্রথমত, রোজার ভাঙার বিষয়গুলো ইসলামে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। রোজা ভেঙে দেয়: খাওয়া, পান করা, যৌন সম্পর্ক করা এবং বৈধ ওজর ছাড়া স্বেচ্ছায় উপরের কাজগুলো করা। কুরআনে আল্লাহ বলেন,

“তোমাদের জন্য রোজা নির্ধারিত হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির ওপর।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। মনের চিন্তা বা চোখের দ্বারা হওয়া তৃপ্তি সরাসরি রোজা ভাঙে না।

দ্বিতীয়ত, বদনজর বা অশ্লীল ভিডিও দেখলে রোজা সরাসরি ভেঙে না গেলেও এটি রোজার সওয়াব ও বরকত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি মেয়েদের দিকে অসংযতভাবে চেয়ে বা লজ্জাজনক দৃশ্য দেখার মাধ্যমে লালসা পায়, তার রোজা মানে ক্ষুধা-তৃষ্ণা ছাড়া আর কিছুই নয়।” (ইবনে মাজাহ)।

অর্থাৎ রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন, কিন্তু অশ্লীল দৃশ্য দেখলে আত্মসংযম ও মননশীলতার লক্ষ্য নষ্ট হয়।

তৃতীয়ত, বদনজর বা অশ্লীল ভিডিও দেখা শিরক বা খাবারের মতো নয়, তাই এটি রোজা ভাঙে না। তবে এটি হৃদয়ের জন্য ক্ষতিকর এবং আত্মিক দিক থেকে পাপের সমতুল্য। আলেমরা বলেছেন,

“যে ব্যক্তি রোজার সময় নিজের চোখ ও মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, সে রোজার আধ্যাত্মিক সুফল থেকে বঞ্চিত হয়।” ফলে বাহ্যিকভাবে রোজা থাকবে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ সওয়াব কমে যায়।

চতুর্থত, এই ধরনের কাজ থেকে বাঁচার জন্য ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি রোজার সময় কটু কাজ থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তার ক্ষুধা ও তৃষ্ণার রোজা বরকতবান করেন।” (সহিহ বুখারি)।

তাই রোজাদারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, চোখ, কান ও মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারেও সংযম বজায় রাখতে হবে।

পঞ্চমত, যদি কেউ ভুলবশত বা দুর্বলতার কারণে অশ্লীল ভিডিও দেখে ফেলে, তবে করণীয় হলো দ্রুত তওবা করা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ এড়িয়ে চলার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে।

ইস্তেগফার ও দরুদ শরিফ পাঠ করলে রোজার ক্ষতি কিছুটা হলেও পূরণ হয়। এছাড়া মনকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনতে এবং শবে কদর বা তাহাজ্জুদ রাতে দোয়া ও তিলাওয়াত বেশি করা উত্তম।

উপসংহার হিসেবে বলা যায়, বদনজর বা অশ্লীল ভিডিও দেখলে রোজা সরাসরি ভেঙে যায় না, তবে রোজার ফজিলত ও বরকত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলামে রোজা হলো দেহ, মন ও জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

তাই চোখ ও মনকে গুনাহ থেকে সংযত রাখাও অপরিহার্য। সুতরাং রোজাদারের উচিত মোবাইল, টিভি বা কম্পিউটার ব্যবহারেও সংযম রাখা, নৈতিক ও আত্মিক সতর্কতা বজায় রাখা, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মনোনিবেশ করা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার