Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

রোজার মাসে কোরআন খতম দেওয়ার সহজ রুটিন

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

রোজার মাসে কোরআন খতম দেওয়ার সহজ রুটিন

বিজ্ঞাপন

রমজান মাস হলো কুরআনের মাস। এই মাসেই আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন। আল্লাহ বলেন,

“রমজান মাস, এতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ।” (সূরা বাকারা: ১৮৫)।

তাই রমজানে কুরআন তিলাওয়াত করা, বুঝে পড়া এবং অন্তত একবার কুরআন খতম দেওয়ার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।

অনেক মানুষ মনে করেন, কুরআন খতম করা কঠিন কাজ, সময় বের করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবে যদি একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করা যায়, তাহলে রমজানের মধ্যেই অনায়াসে একবার বা একাধিকবার কুরআন খতম করা সম্ভব।

কুরআনের মোট ৩০ পারা। রমজান মাসও সাধারণত ৩০ দিনের হয়। তাই প্রতিদিন ১ পারা করে পড়লে সহজেই এক খতম সম্পন্ন হয়।

প্রথমত, দিনের সময়কে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে কুরআন পড়ার অভ্যাস করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। একবারে পুরো এক পারা পড়তে গেলে অনেকের জন্য কষ্টকর হয়। তাই এক পারাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে।

যেমন, ফজরের পর এক অংশ, যোহরের পর এক অংশ, আসরের পর এক অংশ, মাগরিবের পর এক অংশ এবং এশা বা তারাবির পর এক অংশ। এভাবে অল্প অল্প করে পড়লে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত হয় না এবং নিয়মিত পড়া সহজ হয়।

দ্বিতীয়ত, ফজরের পর সময়কে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য সবচেয়ে উত্তম সময় হিসেবে ধরা যায়। কারণ এই সময় মন শান্ত থাকে, চারপাশে কোলাহল কম থাকে এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

“নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ সাক্ষ্যযোগ্য।” (সূরা বনি ইসরাইল: ৭৮)। অর্থাৎ ফেরেশতারা এই সময়ের তিলাওয়াতে উপস্থিত থাকেন। তাই প্রতিদিন ফজরের পর অন্তত কিছু অংশ কুরআন পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই উপকারী।

তৃতীয়ত, যারা কর্মজীবী বা ব্যস্ত মানুষ, তারা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিতে পারেন। যেমন, অফিসে যাওয়ার আগে ১৫-২০ মিনিট, দুপুরের বিরতিতে ১০ মিনিট এবং রাতে ঘুমানোর আগে ১৫ মিনিট।

এই ছোট ছোট সময়গুলো একত্র হলে দিনে প্রায় এক পারা পড়া সম্ভব হয়। মূল বিষয় হলো নিয়মিত হওয়া, বেশি পড়া নয়।

চতুর্থত, তারাবির নামাজের সঙ্গে কুরআন খতমের সম্পর্ক রয়েছে। অনেক মসজিদে তারাবিতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম করা হয়। যারা নিয়মিত তারাবি আদায় করেন, তারা শোনার মাধ্যমেও কুরআনের বড় অংশ শেষ করেন।

পাশাপাশি নিজে তিলাওয়াত করলে কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানে জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে কুরআন পুনরাবৃত্তি করতেন। (সহিহ বুখারি)। এটি প্রমাণ করে যে রমজানে কুরআন পড়া ও শোনা বিশেষ সুন্নাহ আমল।

পঞ্চমত, কুরআন খতমের সময় কেবল দ্রুত পড়াই উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। বরং শুদ্ধভাবে পড়া, অর্থ বোঝার চেষ্টা করা এবং আয়াতগুলো নিজের জীবনে প্রয়োগ করার নিয়ত করা জরুরি। অল্প হলেও মনোযোগ দিয়ে পড়া বেশি বরকতপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না?” (সূরা মুহাম্মদ: ২৪)। তাই খতমের পাশাপাশি তাদাব্বুর বা চিন্তাভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ।

ষষ্ঠত, একটি লিখিত রুটিন বা চার্ট বানানো ভালো। যেখানে প্রতিদিন কোন পারা পড়বেন, তা আগে থেকেই নির্ধারণ থাকবে। এতে নিজের অগ্রগতি বোঝা যায় এবং অলসতা কমে। পরিবারে সবাই মিলে এই রুটিন অনুসরণ করলে একে অপরকে উৎসাহ দেওয়া সহজ হয়।

উপসংহার হিসেবে বলা যায়, রোজার মাসে কুরআন খতম দেওয়ার সহজ রুটিন হলো প্রতিদিন ১ পারা করে তিলাওয়াত করা এবং তা দিনের বিভিন্ন সময় ভাগ করে নেওয়া।

ফজরের পর, নামাজের পরপর এবং ঘুমানোর আগে কিছু সময় কুরআনের জন্য নির্দিষ্ট করলে কোনো চাপ ছাড়াই খতম সম্ভব।

রমজান হলো কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার শ্রেষ্ঠ সময়। তাই এই মাসকে শুধু রোজা রাখার মাস না বানিয়ে কুরআন পড়া, বোঝা ও জীবনে বাস্তবায়নের মাস বানানোই একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার