বিজ্ঞাপন
রোজা অবস্থায় লিপস্টিক বা মেকআপ ব্যবহার করা যাবে কি?
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
রমজানের রোজা শুধু খাওয়া-দাওয়া ও পানীয় এড়িয়ে চলা নয়, বরং আত্মসংযম, সৌন্দর্য ও আচরণের নিয়ন্ত্রণের ইবাদত।
অনেক নারী ও পুরুষই জানতে চান—রোজার সময় লিপস্টিক বা মেকআপ ব্যবহার করা জায়েজ কি না। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো।
প্রথমত, রোজার মূল শর্ত হলো—সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মুখে, গলায় বা পাকস্থলীতে কোনো খাওয়া-পান করা বা এমন কোনো কাজ যা রোজা ভাঙে, তা না করা।
মেকআপ বা লিপস্টিক ত্বকে বা ঠোঁটে বসানো হয় এবং সাধারণত গলায় প্রবেশ করে না। তাই এটি রোজা ভাঙে না।
দ্বিতীয়ত, ইসলাম সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার অনুমতি দিয়েছে, তবে সীমিত ও পরিমিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “মুমিন নারীকে সাজগোজ করতে বাধা নেই, তবে তা দুনিয়ার অহংকার বা পাপের উদ্দেশ্যে নয়।” (তিরমিজি)।
অর্থাৎ রোজার সময় সীমিত ও পরিমিত মেকআপ করা জায়েজ, যদি উদ্দেশ্য শুধু সৌন্দর্য বা পরিচ্ছন্নতা হয়।
তৃতীয়ত, লিপস্টিক বা মেকআপ ব্যবহারে কিছু সতর্কতা দরকার—
১. খাওয়া-দাওয়া বা গলায় প্রবেশ না করা: লিপস্টিক মুখে লাগানো হলেও যদি সেটা কিছু অংশ গলায় চলে যায়, তবে রোজা ভাঙতে পারে। তাই লিপস্টিক চুষে নেওয়া বা খাওয়ার কাজ করা যাবে না।
২. রাসায়নিক সুরক্ষা: কোনো মেকআপ বা লিপস্টিক যাতে শরীরে ক্ষতি না করে, তা ব্যবহার করতে হবে।
৩. উদ্দেশ্য পরিমিত রাখা: রোজার সময় মেকআপের উদ্দেশ্য যেন অহংকার বা দুনিয়ার দেখানোর জন্য না হয়।
চতুর্থত, মেকআপ বা লিপস্টিক ব্যবহার রোজাকে সার্বিকভাবে প্রভাবিত করে না। রোজার ফজিলত ও উত্তম আচরণের জন্য মুখ্য হলো—
নফস (স্বার্থ) নিয়ন্ত্রণ করা, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। মেকআপ শুধুমাত্র বাইরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, যা রোজার লক্ষ্যকে ক্ষতি করে না।
রোজা অবস্থায় লিপস্টিক বা মেকআপ ব্যবহার করা যাবে,কিন্তু দুনিয়াকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নয়। এটি রোজা ভাঙে না এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে মাকরুহও নয়। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে—
মুখ বা গলায় প্রবেশ না করে, রাসায়নিক সুরক্ষিত এবং উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা।
বিজ্ঞাপন