Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

রোজা অবস্থায় মাসিক বা পিরিয়ড শুরু হলে করণীয় কী?

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

রোজা অবস্থায় মাসিক বা পিরিয়ড শুরু হলে করণীয় কী?

বিজ্ঞাপন

ইসলামে রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। তবে আল্লাহ তাআলা নারীদের শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ দয়া প্রদর্শন করে মাসিক বা হায়েজ অবস্থায় রোজা ও নামাজ থেকে অবকাশ দিয়েছেন।

অনেক সময় এমন হয় যে, একজন নারী রোজা রেখে দিনের মাঝখানে হঠাৎ মাসিক শুরু হয়ে যায়। তখন তার রোজার হুকুম কী হবে এবং করণীয় কী—এই প্রশ্নটি অনেকের মনে আসে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

প্রথমত, রোজা অবস্থায় মাসিক শুরু হলে সেই মুহূর্ত থেকেই রোজা ভেঙে যাবে। অর্থাৎ সূর্যাস্তের আগে যদি সামান্য রক্তও দেখা যায়, তবে ঐ দিনের রোজা আর সহিহ থাকবে না। কারণ ইসলামী শরিয়তে হায়েজ অবস্থায় রোজা রাখা জায়েজ নয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “নারী কি হায়েজ অবস্থায় নামাজ পড়ে না এবং রোজা রাখে না?” সাহাবিরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, “এটাই তার দ্বীনের ঘাটতি।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মাসিক অবস্থায় রোজা আদায় করা বৈধ নয়।

দ্বিতীয়ত, মাসিক শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে রোজা ভাঙা জরুরি। তবে প্রকাশ্যে পানাহার করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়ার অনুমতি নেই। কারণ দিনের সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

অধিকাংশ আলেমের মতে, এমন নারী লোকচক্ষুর আড়ালে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করবে, কিন্তু প্রকাশ্যে খাওয়া উচিত নয়। এটি রমজানের পবিত্রতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ।

তৃতীয়ত, এই রোজার কাজা আদায় করতে হবে। অর্থাৎ রমজান শেষ হওয়ার পর অন্য কোনো সময় একদিন রোজা রেখে এর বদলা আদায় করতে হবে। হাদিসে এসেছে -

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, “আমাদের মাসিক হতো, তখন আমাদের রোজার কাজা করতে আদেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজের কাজা করতে আদেশ দেওয়া হতো না।” (সহিহ মুসলিম)। এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, মাসিকের কারণে ভেঙে যাওয়া রোজা পরে কাজা করা ফরজ।

চতুর্থত, মাসিক শুরু হলে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও রোজা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে দোয়া, জিকির, দরুদ শরিফ, তাসবিহ-তাহলিল, ইস্তেগফার এবং ইসলামি জ্ঞানমূলক বই পড়া জায়েজ।

অর্থাৎ ইবাদত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না, বরং নামাজ ও রোজা ছাড়া অন্যান্য আমল চালু থাকে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নারীদের জন্য সহজীকরণ।

পঞ্চমত, যদি ইফতারের ঠিক আগমুহূর্তে মাসিক শুরু হয়, যেমন মাগরিবের কয়েক মিনিট আগে, তবুও রোজা ভেঙে যাবে

এবং সেই দিনের রোজার কাজা আদায় করতে হবে। সময় অল্প হলেও শরিয়তের হুকুম পরিবর্তন হয় না। কারণ রোজার শর্ত হলো সূর্যাস্ত পর্যন্ত হায়েজমুক্ত থাকা।

ষষ্ঠত, কেউ যদি ভুলবশত মনে করে যে রোজা পূর্ণ হয়ে গেছে এবং পরে জানতে পারে মাসিক শুরু হয়েছিল, তাহলে তার রোজা সহিহ হয়নি এবং কাজা আদায় করতে হবে।

এতে কোনো গুনাহ নেই, কারণ এটি ইচ্ছাকৃত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬)।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাসিক শুরু হলে রোজা ভেঙে যাওয়ার কারণে কাফফারা দিতে হবে না। কাফফারা কেবল ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য,

যেমন সহবাস বা ইচ্ছাকৃত পানাহার। মাসিক একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, এতে কাফফারা নেই, শুধু কাজা যথেষ্ট।

এছাড়া মাসিকের সময় নারীদের উচিত আল্লাহর হিকমতকে মেনে নেওয়া এবং হতাশ না হওয়া। কারণ আল্লাহ নিজেই এই অবকাশ দিয়েছেন।

হাদিসে এসেছে, “এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আদম কন্যাদের জন্য নির্ধারিত বিষয়।” (সহিহ বুখারি)। অর্থাৎ এটি কোনো পাপ নয়, বরং প্রাকৃতিক বিধান।

সবশেষে বলা যায়, রোজা অবস্থায় মাসিক শুরু হলে সেই রোজা বাতিল হয়ে যায়, রোজা ভেঙে দিতে হয় এবং পরে একদিন কাজা আদায় করতে হয়। এ অবস্থায় নামাজ ও রোজা বন্ধ থাকবে।

তবে দোয়া, জিকির ও ইস্তেগফার চালু থাকবে। এতে কোনো গুনাহ নেই, বরং আল্লাহর আদেশ মেনে চলাই ইবাদত।

একজন মুসলিম নারীর উচিত এই বিধানগুলো জেনে শান্ত মনে আল্লাহর হুকুম পালন করা এবং রমজানের পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্য বজায় রাখা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার