Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

নেক সন্তান লাভের জন্য রমজান মাসে করণীয় দোয়া

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

নেক সন্তান লাভের জন্য রমজান মাসে করণীয় দোয়া

বিজ্ঞাপন

সন্তান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের শোভা।” (সূরা কাহফ: ৪৬)।

তবে ইসলাম শুধু সন্তান পাওয়াকেই সফলতা বলে না, বরং নেক, ধার্মিক ও চরিত্রবান সন্তান লাভ করাকে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হিসেবে গণ্য করে।

রমজান মাস দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হওয়ায় এই মাসে নেক সন্তান লাভের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ আমল।

কুরআনে বহু নবী-রাসূলের দোয়ার কথা এসেছে, যারা নেক সন্তান লাভের জন্য আল্লাহর কাছে কাঁদতেন। হযরত ইবরাহিম (আ.) দোয়া করেছিলেন, “হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন।” (সূরা সাফফাত: ১০০)।

আবার হযরত যাকারিয়া (আ.) বৃদ্ধ বয়সে সন্তান লাভের আশায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন, “হে আমার রব, আমাকে তোমার পক্ষ থেকে পবিত্র সন্তান দান করো। নিশ্চয় তুমি দোয়া শ্রবণকারী।” (সূরা আলে ইমরান: ৩৮)।

এই দোয়াগুলো প্রমাণ করে, নেক সন্তান আল্লাহর কাছেই চাইতে হয় এবং আল্লাহই তা দান করেন।

রমজানে নেক সন্তান লাভের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়াটি হলো—

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ

বাংলা উচ্চারণ: রব্বি হাবলি মিনাস সালিহিন।

অর্থ: হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন। এই দোয়াটি কুরআনে উল্লেখিত এবং এটি নবী ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া। রমজানে বিশেষ করে ইফতারের আগে, তাহাজ্জুদের সময় ও শেষ দশ রাতে এই দোয়া পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কুরআনিক দোয়া হলো— رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

বাংলা উচ্চারণ: রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিওঁ ওয়াজ‘আলনা লিল মুত্তাক্বিনা ইমামা।

অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানান। (সূরা ফুরকান: ৭৪)

এই দোয়া শুধু সন্তান পাওয়ার জন্য নয়, বরং সন্তান যেন দ্বীনি ও নৈতিকভাবে উত্তম হয়, সেই কামনাও এতে অন্তর্ভুক্ত।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস চলমান থাকে—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” (সহিহ মুসলিম)।

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নেক সন্তান দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনের জন্য বড় সম্পদ।

রমজানে শুধু দোয়া করলেই যথেষ্ট নয়, বরং নিজের আমলও সংশোধন করা জরুরি। কারণ সন্তান বাবা-মায়ের চরিত্র ও আমলের প্রভাব বহন করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।” (সূরা তাহরিম: ৬)।

তাই রমজানে নিয়মিত নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং দাম্পত্য জীবনকে হালাল ও পবিত্র রাখাও নেক সন্তান লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রমজানে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে দোয়া করা অত্যন্ত কার্যকর।

হাদিসে এসেছে, একে অপরের জন্য গোপনে দোয়া করলে ফেরেশতারা বলেন, “আমিন, তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।” (মুসলিম)।

তাই স্বামী যদি স্ত্রীর জন্য নেক সন্তান কামনা করে এবং স্ত্রী স্বামীর জন্য দোয়া করে, তা আল্লাহর কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য হয়।

এছাড়া গুনাহ থেকে তওবা করা নেক সন্তান লাভের একটি বড় মাধ্যম। হযরত নূহ (আ.) তাঁর কওমকে বলেছিলেন, “তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি তোমাদের সন্তান ও সম্পদ বৃদ্ধি করবেন।” (সূরা নূহ: ১০-১২)।

এই আয়াত প্রমাণ করে, ইস্তেগফার ও তওবা সন্তান লাভের বরকত এনে দেয়।

সবশেষে বলা যায়, নেক সন্তান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। রমজান মাসে এই নিয়ামতের জন্য দোয়া করা সবচেয়ে উত্তম সময়।

কুরআনিক দোয়া পড়া, তাহাজ্জুদ ও ইফতারের আগে কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা, নিজের আমল সংশোধন করা এবং স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে দোয়া করা—এই সবকিছু মিলেই নেক সন্তান লাভের শক্তিশালী মাধ্যম।

যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে আন্তরিকভাবে দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তার দোয়া কবুল করেন এবং তাকে নেক ও কল্যাণময় সন্তান দান করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার