বিজ্ঞাপন
স্বামী-স্ত্রীর মিল-মহব্বত বৃদ্ধির জন্য রমজানের আমল
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
রমজান মাস শুধু রোজা, নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতের মাস নয়, বরং পারিবারিক সম্পর্ককে সুন্দর, পবিত্র ও দৃঢ় করার এক বিশেষ সময়। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, “তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা রূম: ২১)।
এই আয়াত প্রমাণ করে, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। রমজান মাসে এই সম্পর্ক আরও গভীর ও বরকতময় করার সুযোগ রয়েছে আমল ও দোয়ার মাধ্যমে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তম আচরণকে ঈমানের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।” (তিরমিজি)।
অর্থাৎ, দাম্পত্য জীবনে ভালো ব্যবহার, সহনশীলতা ও মমতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রমজানে রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল করে, রাগ ও অহংকার কমায়, যা দাম্পত্য কলহ দূর করতে বড় ভূমিকা রাখে।
স্বামী-স্ত্রীর মহব্বত বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় আমল হলো একসঙ্গে ইবাদত করা। একসঙ্গে নামাজ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত করা, ইফতারের আগে দোয়া করা—এসব কাজ হৃদয়ের দূরত্ব কমায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “যে ঘরে আল্লাহর জিকির করা হয়, সে ঘরে রহমত নাযিল হয়।” (মুসলিম)। তাই রমজানে ঘরে আল্লাহর জিকির ও দোয়ার পরিবেশ তৈরি করা দাম্পত্য জীবনে শান্তি আনে।
এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া রয়েছে—
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
বাংলা উচ্চারণ: রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিওঁ ওয়াজ‘আলনা লিল মুত্তাক্বিনা ইমামা।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন এবং আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানান। (সূরা ফুরকান: ৭৪)
এই দোয়া স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা, শান্তি ও পারস্পরিক সম্মান বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর কুরআনিক দোয়া। ইফতারের আগে ও তাহাজ্জুদের সময় এই দোয়া পড়া বিশেষ ফজিলতপূর্ণ।
রমজানে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ক্ষমাশীল হওয়া। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।” (আহমদ)।
সংসারে ভুল বোঝাবুঝি হলে রমজানকে উপলক্ষ করে একে অপরকে ক্ষমা করা দাম্পত্য জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করে।
রোজার সময় রাগ সংযত করা অত্যন্ত জরুরি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “রোজা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং ঝগড়া না করে।” (বুখারি, মুসলিম)। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া কমাতে এই হাদিসের শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর।
এছাড়া একে অপরের জন্য দোয়া করা দাম্পত্য মহব্বত বাড়ানোর শক্তিশালী আমল। স্বামী যদি স্ত্রীর জন্য দোয়া করে এবং স্ত্রী স্বামীর জন্য দোয়া করে, ফেরেশতারা বলেন, “আমিন, তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।” (মুসলিম)। এই পারস্পরিক দোয়া হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করে।
রমজানে যৌন সম্পর্ক দিনের বেলায় হারাম হলেও রাতের বেলায় বৈধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “রোজার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক হালাল করা হয়েছে।” (সূরা বাকারা: ১৮৭)।
তবে এই সম্পর্ক হতে হবে শালীনতা, ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে, যেন তা ইবাদতের অংশ হয়ে যায়।
সবশেষে বলা যায়, রমজান মাস স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে শুধরে নেওয়ার সেরা সুযোগ। একসঙ্গে ইবাদত, দোয়া, ক্ষমাশীলতা, সুন্দর ব্যবহার ও আল্লাহর স্মরণ দাম্পত্য জীবনে মহব্বত ও রহমত বাড়ায়।
যে দম্পতি রমজানে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ তাদের সংসারে শান্তি ও বরকত দান করেন। তাই রমজান হোক শুধু রোজার মাস নয়, বরং ভালোবাসা, ধৈর্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাস।
বিজ্ঞাপন