বিজ্ঞাপন
ছোট বাচ্চাদের রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া শেখানোর সহজ উপায়
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
রমজান মাস শুধু বড়দের জন্য নয়, বরং শিশুদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের সময়। এই মাসে তাদের ইবাদতের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা, আল্লাহকে ভালোবাসতে শেখানো এবং রোজা ও দোয়ার গুরুত্ব বোঝানো অভিভাবকদের একটি বড় দায়িত্ব।
ছোট বাচ্চাদের ওপর রোজা ফরজ না হলেও তাদের ধীরে ধীরে রোজার অভ্যাস করানো সুন্নাহসম্মত ও প্রশংসনীয় কাজ। সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের শিশুদের রোজা রাখার অভ্যাস করাতেন এবং খেলনা দিয়ে তাদের ব্যস্ত রাখতেন।
এমন বর্ণনা হাদিসে পাওয়া যায়। তাই শিশুদের রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া শেখানোর বিষয়টি হতে হবে সহজ, আনন্দময় ও বয়স উপযোগী।
প্রথমে শিশুদের বুঝাতে হবে নিয়ত মানে কী। অনেক সময় আমরা নিয়তকে শুধু মুখস্থ করা একটি বাক্য হিসেবে শেখাই, অথচ ইসলামে নিয়ত মূলত অন্তরের সিদ্ধান্ত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।”
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, শিশুকে আগে শেখাতে হবে—আমি আজ আল্লাহকে খুশি করার জন্য রোজা রাখছি, এটিই হলো নিয়ত। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আরবি বাক্য মুখস্থ করানোর চেয়ে সহজ বাংলায় বোঝানো বেশি কার্যকর।
যেমন বলা যেতে পারে, “আজ আমি আল্লাহর জন্য না খেয়ে থাকব।” এতে শিশুর মনে রোজার উদ্দেশ্য পরিষ্কার হবে। পরে ধীরে ধীরে চাইলে তাদের সংক্ষিপ্ত আরবি নিয়তের বাক্য শেখানো যেতে পারে।
নিয়ত শেখানোর সময় গল্প ও উদাহরণ ব্যবহার করলে শিশুরা সহজে বুঝতে পারে। যেমন বলা যেতে পারে, আল্লাহ খুব খুশি হন যখন তাঁর ছোট বান্দারা রোজা রাখার চেষ্টা করে।
এইভাবে ভালোবাসার ভাষায় বোঝালে ভয় নয়, বরং আগ্রহ তৈরি হয়। মনে রাখতে হবে, শিশুর রোজা প্রশিক্ষণমূলক; তাদের ওপর কঠোরতা করা ঠিক নয়।
যদি তারা পুরো দিন রোজা রাখতে না পারে, তবে অর্ধদিন বা কয়েক ঘণ্টা রোজা রাখলেও তাদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। এতে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়।
ইফতারের দোয়া শেখানোর ক্ষেত্রেও সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করা জরুরি। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইফতারের সময় যে দোয়াটি পড়তেন তা হলো, “আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।”
ছোট শিশুদের জন্য এই আরবি বাক্য একসাথে শেখানো কঠিন হতে পারে। তাই প্রথমে বাংলায় অর্থ বুঝিয়ে বলা উচিত,
“হে আল্লাহ, তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া খাবার দিয়ে ইফতার করছি।” যখন তারা এই অর্থ বুঝবে, তখন ধীরে ধীরে আরবি উচ্চারণ শেখানো সহজ হবে।
শিশুদের দোয়া শেখানোর আরেকটি ভালো উপায় হলো পরিবারে একসাথে দোয়ার পরিবেশ তৈরি করা। বাবা-মা যদি নিজেরা ইফতারের আগে দোয়া করেন এবং শিশুকে পাশে বসিয়ে হাত তুলতে বলেন, তাহলে শিশু স্বাভাবিকভাবেই অনুকরণ করবে।
ইসলামি শিক্ষার বড় অংশ আসে অনুকরণ থেকে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমরা তোমাদের সন্তানদের নামাজের আদেশ দাও।” এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ইবাদতের অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে হবে। রোজার দোয়া শেখানোও সেই শিক্ষার অংশ।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করা। যদি তারা দোয়া ভুলে যায় বা ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে না পারে, তাহলে বকাঝকা করা উচিত নয়।
বরং ভালোভাবে সংশোধন করে দেওয়া এবং তাদের চেষ্টা করার জন্য প্রশংসা করা দরকার। এতে তাদের মনে ইবাদতের প্রতি ভালো অনুভূতি তৈরি হবে।শিশুদের জন্য দোয়া শেখানোর সময় কুরআনের সহজ দোয়া নির্বাচন করা যেতে পারে।
যেমন, “রাব্বানা গফিরলি” বা “রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ” এই ধরনের ছোট দোয়া তারা সহজে মুখস্থ করতে পারে। এতে তাদের মুখে দোয়ার অভ্যাস তৈরি হবে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
সবশেষে বলা যায়, ছোট বাচ্চাদের রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া শেখানো মানে শুধু কয়েকটি বাক্য মুখস্থ করানো নয়; বরং তাদের হৃদয়ে আল্লাহভীতি, ভালোবাসা ও ইবাদতের আনন্দ তৈরি করা।
সহজ ভাষা, ভালোবাসার পরিবেশ এবং বাবা-মায়ের নিজস্ব আমলের মাধ্যমে শিশুরা ধীরে ধীরে রোজা ও দোয়ার গুরুত্ব বুঝতে শিখবে।
এভাবেই একটি ধর্মপ্রাণ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যারা রমজানকে শুধু উপবাসের মাস নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস হিসেবে গ্রহণ করবে।
বিজ্ঞাপন