Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

মহানবী (সা.) শাবান মাস থেকেই যেভাবে রমজানের প্রস্তুতি নিতেন

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

মহানবী (সা.) শাবান মাস থেকেই যেভাবে রমজানের প্রস্তুতি নিতেন

বিজ্ঞাপন

ইসলামের দৃষ্টিতে শাবান মাস বিভিন্ন কারণে বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসকে মহানবী (সা.) ‘শাবানু শাহরি’ (শাবান আমার মাস) বলে অভিহিত করেছেন। মহানবী (সা.) শাবান মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। তাই এই মাসে রজমানের প্রস্তুতি শুরু করা আবশ্যক।

যেসব কাজের মাধ্যমে হবে প্রস্তুতি

রমজান মাস ফলপ্রসূ করতে রমজানের আগে প্রস্তুতি নেওয়ার কারণ হলো—নিজেকে ইবাদত, বন্দেগি ও সাধনার জন্য প্রস্তুত করা। যেন রমজানের আগেই আলস্য দূর হয়ে যায়।

প্রস্তুতি দুই ধরনের : ক. ইবাদতের মাধ্যমে প্রস্তুতি, খ. বৈষয়িক প্রস্তুতি।

ইবাদতের মাধ্যমে প্রস্তুতি : যেমন—

১. দোয়া করা : মহানবী (সা.) রজব মাস থেকে রমজান লাভের দোয়া করতেন।

রাসুল (সা.) দোয়া করতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।’ (শুআবুল ইমান, হাদিস : ৩৫৩৪)

২. তাওবা করা : রমজান মাসকে ফলপ্রসূ করতে তাওবা করে পাপমুক্ত হওয়া আবশ্যক। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো যেন তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)

৩. বেশি বেশি নফল রোজা রাখা : মাহে রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে রাসুল (সা.) শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখতেন।

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে রমজান ছাড়া কোনো পুরো মাসের সাওম পালন করতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে কোনো মাসে অধিক (নফল) সাওম পালন করতে দেখিনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৬৯)

৪. কাজা রোজা আদায় : কারো যদি বিগত রমজানে কোনো রোজা কাজা হয়ে থাকে, তবে আরেক রমজান শুরু হওয়ার আগেই তা আদায় করে নেওয়া উত্তম। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমার ওপর রমজানের যেসব কাজা রোজা থাকত, সেগুলো শাবান মাসের ভেতরে আদায় করে ফেলতাম।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৪৬)

৫. রোজা রাখার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া : শাবান মাসে মহানবী (সা.) অধিক পরিমাণ রোজা রাখতেন। তবে এ মাসের শেষ এক-দুদিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।

নবীজি (সা.) রমজানের এক বা দুদিন আগে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮১৫)

৬. বেশি বেশি দান-সদকা করা : আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, প্রিয় নবীজির সাহাবায়ে কেরাম শাবান মাসের চাঁদ দেখলে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল হয়ে পড়তেন। অন্য বর্ণনায় আছে, যাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে তারা মালের জাকাত আদায় করে দিতেন। যাতে গরিব ও অসহায় মুসলমানদের রোজা রাখার ব্যবস্থা হয়ে যায়। বিচারকরা কয়েদিদের ডেকে শাস্তির হকদার হলে শাস্তি দিতেন, না হয় মুক্তি দিয়ে দিতেন। (লাতায়েফুল মায়ারেফ : ১/২২১)

৭. প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জনে প্রস্তুতি : প্রতিটি মুসলমানেরই উচিত রমজানের প্রয়োজনীয় মাসায়েল জেনে নেওয়া। প্রয়োজনে রমজানের আগেই এ বিষয়ক কিছু বই-পুস্তক কিনে নেওয়া যায়, যাতে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তা পড়তে পারে। ইতিকাফ করতে আগ্রহীরা ইতিকাফের জন্য প্রস্তুতি নেবেন আগে থেকেই।

বৈষয়িক প্রস্তুতি : যেমন—

৮. চাঁদের হিসাব রাখা : আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের খুব হিসাব করতেন। এ ছাড়া অন্য কোনো মাসের এত হিসাব করতেন না। এরপর রমজানের চাঁদ দেখে রোজা রাখতেন। আকাশ মেঘলা থাকার কারণে চাঁদ দেখা না গেলে শাবান মাস ৩০ দিনে গণনা করতেন, অতঃপর রোজা রাখতেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৩২৫)

৯. মানুষকে সতর্ক করা : রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে রাসুল (সা.) শাবান থেকেই আমল শুরু করতেন এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-কেও সেই আহবান জানাতেন। উসামা ইবন জায়েদ (রা.) বলেন, ‘এক দিন আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি শাবান মাসে যেভাবে রোজা রাখেন, অন্য মাসে তেমন রাখতে দেখি না। জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, শাবান এমন একটি মাস, যা রজব ও রমজানের মাঝখানে আসে। আর এই মাস সম্পর্কে (সাধারণত) মানুষ উদাসীন থাকে। অথচ এই মাসেই আমলগুলো আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয়। আমি চাই, রোজা অবস্থায়ই যেন আমার আমলনামা পেশ করা হয়।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২৩৫৭)

১০. ওমরাহ আদায়ের প্রস্তুতি : ওমরাহর প্রস্তুতি রমজানে ওমরাহর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তাই যাদের সামর্থ্য আছে তারা রমজানের আগেই ওমরাহর প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে একটি ওমরাহ আদায় করা একটি ফরজ হজ আদায় করার সমান।’ (বুখারি : ৩/২২২)

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার