বিজ্ঞাপন
বাসা থেকে বের হওয়ার দোয়া ও শয়তান থেকে বাঁচার আমল
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
একজন মুমিনের জীবন কেবল নামাজ, রোজা ও ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার প্রতিদিনের চলাফেরা, কাজকর্ম ও ঘরের বাইরে বের হওয়াও ইবাদতের অংশ হতে পারে, যদি তা আল্লাহর স্মরণ ও সুন্নাহ অনুযায়ী হয়। ইসলাম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দোয়া পড়া ও কিছু আমল করা তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুরআন ও সহিহ হাদিসে প্রমাণিত আছে যে, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করলে বান্দা শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে এবং আল্লাহর হেফাজতে থাকে।
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করা। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।”
এই আয়াত মুমিনকে শিক্ষা দেয় যে, দুনিয়ার পথে বের হওয়ার আগে নিজের শক্তি বা বুদ্ধির উপর নয়, বরং আল্লাহর সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হবে। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এই মানসিকতা থাকলে একজন মুমিন আত্মবিশ্বাসী ও নিরাপদ অনুভব করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাসা থেকে বের হওয়ার সময় একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন, যা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। হাদিসে এসেছে, নবীজি বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে,
“বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ,” তখন তাকে বলা হয়, তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হলে, তোমার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা করা হলো এবং তুমি নিরাপদ থাকলে। একই হাদিসে আরও এসেছে, তখন শয়তান ওই ব্যক্তি থেকে দূরে সরে যায়। এই হাদিসটি আবু দাউদ ও তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে।
এই দোয়াটির অর্থ অত্যন্ত গভীর। “বিসমিল্লাহ” বলার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নাম নিয়ে বের হয়। “তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ” বলে সে ঘোষণা করে যে, তার সব ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর।
“লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” দ্বারা সে স্বীকার করে নেয় যে, গুনাহ থেকে বাঁচার শক্তি এবং নেক কাজ করার সামর্থ্য শুধুমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। এই বিশ্বাস একজন মুমিনকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে।
বাসা থেকে বের হওয়ার সময় শুধু দোয়া পড়াই যথেষ্ট নয়, বরং কিছু আমলও রয়েছে, যা শয়তান থেকে বাঁচতে সহায়তা করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঘর থেকে বের হওয়ার আগে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া।
অনেক আলেম ও সালাফে সালেহিন এই আমল করতেন। যদিও এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তবে নফল ইবাদত হিসেবে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এই নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে নিজের নিরাপত্তা, রিজিক ও ঈমানের হেফাজত চায়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আয়াতুল কুরসি পড়া। যদিও আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত বিশেষভাবে ঘুমানোর আগে সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, তবে আল্লাহর ক্ষমতা ও হেফাজতের ঘোষণা হিসেবে এটি যে কোনো সময় পড়া যায়। আলেমগণ বলেন, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পড়লে আল্লাহ বান্দাকে দৃশ্য ও অদৃশ্য বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
শয়তান থেকে বাঁচার জন্য ইস্তিগফার ও দরুদ শরিফ পড়াও অত্যন্ত কার্যকর আমল। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।” তাই দিনের শুরুতেই, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় যদি বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়
এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করে, তবে শয়তানের প্রভাব কমে যায়। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি রহমত নাজিল করেন।
এছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দৃষ্টি ও নিয়ত সংযত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হারাম কাজের উদ্দেশ্যে বা গুনাহের পথে বের হলে দোয়া ও আমলের বরকত কমে যায়। কিন্তু যদি হালাল রিজিক, ভালো কাজ বা প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে বের হওয়া হয়, তবে তা নিজেই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হালাল রিজিকের সন্ধানে বের হওয়া আল্লাহর পথে জিহাদের অন্তর্ভুক্ত।
তাই বলা যায়, বাসা থেকে বের হওয়ার দোয়া ও শয়তান থেকে বাঁচার আমল ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এই দোয়া ও আমলগুলো পালন করলে একজন মুমিন আল্লাহর হেফাজতে থাকে, শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে
এবং তার দৈনন্দিন কাজও ইবাদতে পরিণত হয়। রমজান হোক বা অন্য সময়, প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়ার আগে এই সুন্নত দোয়া ও আমলগুলো অভ্যাসে পরিণত করলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনে কল্যাণ লাভ করা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন