Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

“রাব্বানা জলামনা আনফুসানা…”: নিজের ওপর জুলুম করলে যে দোয়া পড়বেন

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

“রাব্বানা জলামনা আনফুসানা…”: নিজের ওপর জুলুম করলে যে দোয়া পড়বেন

বিজ্ঞাপন

মানুষ হিসেবে ভুল করা, গুনাহে লিপ্ত হওয়া বা নিজের নফসের কারণে আল্লাহর আদেশ অমান্য করা আমাদের জীবনের বাস্তবতা। ইসলাম এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করেনি;

বরং আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার দরজা সবসময় খোলা রেখেছেন। কুরআনে এমন একটি দোয়া রয়েছে, যা নিজেই আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন এবং যা ইতিহাসের প্রথম তাওবার দোয়া হিসেবে পরিচিত।

এই দোয়াটি হলো “রাব্বানা জলামনা আনফুসানা…”, যা নিজের ওপর জুলুম বা অন্যায় করার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ও হৃদয়স্পর্শী দোয়া।

এই দোয়াটি কুরআনে সূরা আল-আ‘রাফে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তারা বলল, হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।”

এই দোয়াটি প্রথম আদম আলাইহিস সালাম ও হাওয়া আলাইহাস সালাম পড়েছিলেন। জান্নাতে আল্লাহর নিষেধ অমান্য করার পর তারা কোনো অজুহাত দেননি, অন্যের ওপর দোষ চাপাননি; বরং সরাসরি নিজেদের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এটি আমাদের জন্য তাওবার সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

“রাব্বানা জলামনা আনফুসানা” দোয়ার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে নিজের গুনাহের পূর্ণ স্বীকারোক্তি রয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। ইসলামি দৃষ্টিতে গুনাহ করা মানেই নিজের ওপর জুলুম করা। কারণ গুনাহ মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, অন্তরকে অন্ধকার করে এবং আখিরাতের ক্ষতির কারণ হয়।

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বারবার বলেছেন, মানুষ যখন গুনাহ করে, তখন আসলে সে নিজেরই ক্ষতি করে। এই দোয়াটি বান্দাকে সেই বাস্তব সত্য স্বীকার করতে শেখায়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এই দোয়ার অর্থ ও শিক্ষা বাস্তবে অনুসরণ করেছেন। যদিও তিনি নিষ্পাপ ছিলেন, তবুও তিনি উম্মতকে শেখানোর জন্য বেশি বেশি ইস্তিগফার করতেন। সহিহ হাদিসে এসেছে, নবীজি দিনে সত্তরের বেশি বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন।

আলেমগণ বলেন, যদি নিষ্পাপ নবী এত বেশি তাওবা করেন, তবে গুনাহগার উম্মতের জন্য তাওবার গুরুত্ব কতটা বেশি হওয়া উচিত। এই দোয়াটি সেই তাওবার মনোভাবকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে প্রকাশ করে।

নিজের ওপর জুলুম বিভিন্নভাবে হতে পারে। ফরজ ইবাদতে অবহেলা করা, হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া, মানুষের হক নষ্ট করা, নামাজে গাফিলতি করা বা আল্লাহর নেয়ামতের অকৃতজ্ঞ হওয়া—এসবই নিজের ওপর জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। যখন একজন বান্দা এই ভুলগুলো উপলব্ধি করে

এবং “রাব্বানা জলামনা আনফুসানা” দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তখন সে আল্লাহর রহমতের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। কারণ আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি তাওবাকারীদের ভালোবাসেন।

এই দোয়াটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এতে আল্লাহর রহমতের ওপর পূর্ণ নির্ভরতা প্রকাশ করা হয়েছে। দোয়ার শেষ অংশে বলা হয়েছে, যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।

এখানে বান্দা স্বীকার করে নেয় যে, তার কোনো আমলই আল্লাহর রহমত ছাড়া তাকে বাঁচাতে পারবে না। এটি অহংকার ভেঙে দেয় এবং অন্তরে বিনয় সৃষ্টি করে। এই বিনয়ই দোয়া কবুলের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

রমজান মাসে এই দোয়ার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ রমজান হলো গুনাহ মাফের মাস। রোজার মাধ্যমে বান্দা সারাদিন নিজেকে সংযত রাখে, আর রাতে এই দোয়ার মাধ্যমে নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়।

বিশেষ করে ইফতারের আগ মুহূর্ত, তাহাজ্জুদের সময় এবং শেষ রাতে এই দোয়া পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। আলেমগণ বলেন, এই দোয়াটি শুধু মুখে নয়, বরং অন্তরের গভীর অনুশোচনা নিয়ে পড়লে আল্লাহ তাআলা তা ফিরিয়ে দেন না।

উপসংহারে বলা যায়, “রাব্বানা জলামনা আনফুসানা” দোয়াটি কেবল একটি দোয়া নয়, বরং তাওবার পূর্ণ ভাষা। এটি মানুষকে নিজের ভুল স্বীকার করতে শেখায়, আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করতে শেখায় এবং নতুন করে সঠিক পথে ফিরে আসার শক্তি জোগায়।

যখনই কেউ অনুভব করবে যে সে নিজের ওপর জুলুম করেছে, আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছে বা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তখন এই দোয়াটি পড়া তার জন্য সবচেয়ে উত্তম পথ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই দোয়ার মর্ম বুঝে তাওবা করার তাওফিক দান করুন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার