Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

নবীজি (সা.)-এর ঘোষণায় সর্বসেরা ব্যক্তি কে?

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

নবীজি (সা.)-এর ঘোষণায় সর্বসেরা ব্যক্তি কে?

বিজ্ঞাপন

মানুষ সাধারণত ‘সেরা’ বলতে বোঝে— যার সম্পদ বেশি, ক্ষমতা বেশি, প্রভাব বেশি; কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) সেরার মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। তিনি এমন এক গুণকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন, যা মানুষের হক আদায়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত— ঋণ পরিশোধে উত্তম আচরণ। যে ব্যক্তি মানুষের কাছ থেকে নেওয়া দায় দায়িত্বশীলভাবে, সৌন্দর্যের সঙ্গে ও সময়মতো পরিশোধ করে— নবীজি (সা.) তাকেই বলেছেন সর্বসেরা। এই ঘোষণা শুধু অর্থনৈতিক নৈতিকতার শিক্ষা নয়; বরং এটি ইমান, আমানতদারি ও আখিরাতের প্রস্তুতির প্রতিফলন।

হাদিসে নবীজি (সা.) ঋণ পরিশোধের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন— মানুষের কাছে দায় শোধ করার সৌন্দর্যই একজন মুসলমানের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয়। নবীজি (সা.)-এর সুস্পষ্ট ঘোষণা—

إِنَّ خِيَارَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً

‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম (সর্বসেরা) সেই ব্যক্তি, যে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম।’ (বুখারি ২৩০৫)

কুরআনে ঋণ ও দায়িত্বশীলতার নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঋণের বিষয়ে দীর্ঘতম আয়াত নাজিল করেছেন, যা নিজেই প্রমাণ করে যে— ঋণ পরিশোধের বিষয়টা কত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআনের নির্দেশ—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ লেনদেন করো, তখন তা লিখে নাও।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৮২)

এই আয়াত ঋণের স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও সময়ানুবর্তিতার প্রতি ইসলামের গভীর গুরুত্ব তুলে ধরে।

ঋণ পরিশোধে গাফিলতি: কঠিন সতর্কবার্তা

ঋণ শোধে অবহেলা শুধু দুনিয়াবি অন্যায় নয়—এটি আখিরাতের জবাবদিহির বিষয়। তাছাড়া যেখানে ঋণ পরিশোধের ফজিলত এত উত্তম, সেখানে অবহেলা ও টালবাহানা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে কঠোর হুঁশিয়ারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ

‘সক্ষম ব্যক্তি হয়েও ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করা জুলুম।’ (বুখারি ২৪০০, মুসলিম ১৫৬৪)

আরও পড়ুন
ঋণ ও আখিরাতের হিসাব

হে মুমিন! হাদিসে প্রমাণিত যে, ঋণ শুধু দুনিয়ার বিষয় নয়; এটি মৃত্যুর পরেও মানুষের পথ রুদ্ধ করে দিতে পারে। নবীজি (সা.) আরও সতর্ক করে বলেছেন—

نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّىٰ يُقْضَىٰ عَنْهُ

‘ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত মুমিনের আত্মা (আখিরাতের পথে) ঝুলে থাকে।’ (তিরমিজি ১০৭৮)

সুতরাং ঋণ পরিশোধে আমাদের করণীয়

১. প্রয়োজন ছাড়া ঋণ না নেওয়া: বিলাসিতা বা অহংকারের জন্য নয়।

২. ঋণ নিলে সময়মতো পরিশোধের দৃঢ় নিয়ত: কথা ও কাজের মিল রাখা।

৩. সক্ষম হলে আগে শোধ করা: সুযোগ পেলেই বিলম্ব না করা।

৪. সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিশোধ: কড়া আচরণ নয়; কৃতজ্ঞতা ও বিনয়।

৫. লিখিত চুক্তি করা: ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে।

৬. মৃত্যুর আগে দায়মুক্ত হওয়া: যেন আখিরাতে বোঝা না থাকে।

নবীজি (সা.) যখন কাউকে ‘সর্বসেরা’ বলেন, তা কোনো পদ-পদবির স্বীকৃতি নয়— এটি ইমানের মানদণ্ড। যে ব্যক্তি মানুষের টাকা ও হক নিয়ে খেলাধুলা করে না, বরং সুন্দরভাবে শোধ করে— সে দুনিয়াতেও সম্মানিত, আখিরাতেও নিরাপদ।

আজ সিদ্ধান্ত আমাদের! আমরা কি কেবল ধার নেব, না দায়িত্বও বহন করব? মনে রাখি, নবীজি (সা.)-এর ঘোষণায় সর্বসেরা সেই ব্যক্তি, যে ঋণ পরিশোধে উত্তম। আল্লাহ তাআলা আমাদের সর্বসেরা ব্যক্তির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার