বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আজকাল ‘বন্ধু’ শব্দটা খুব সস্তা হয়ে গেছে। ফেসবুকে লাইক দেয়, কমেন্ট করে, একসঙ্গে ছবি তোলে— এসব হলেই কি বন্ধু? অথচ কুরআন এই ধারণাকে একদম ভেঙে দেয়। আল্লাহ মুমিনদের জন্য বন্ধুত্বের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এটা আবেগের বিষয় না, এটা ইমানের বিষয়। কারা আপনার প্রকৃত বন্ধু— আল্লাহ কোনো প্রকার ধোঁয়াশা ছাড়াই সুস্পষ্ট আয়াতে এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণা, আল্লাহ বলেন—
إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ
‘নিশ্চয়ই তোমাদের বন্ধু (ওয়ালি) হলেন আল্লাহ, তার রাসুল এবং সেই সব মুমিন— যারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং তারা বিনয়ী।’ (সুরা আল-মায়েদাহ: আয়াত ৫৫)
এখানে লক্ষ্য করুন— বন্ধুত্বের তিনটি শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ এ কথা বলেননি, ‘যারা মুসলিম বলে দাবি করে’ বরং বলেছেন, যারা—
১️. নামাজ কায়েম করে
২️. জাকাত দেয়
৩️. বিনয়ী ও আল্লাহভীরু
এই তিনটা বিষয়ের একটাও না থাকলে—
সে সামাজিকভাবে ভালো মানুষ হতে পারে, কিন্তু কুরআনের মানদণ্ডে প্রকৃত ‘ওয়ালি’ না।
নামাজ ছাড়া বন্ধুত্ব? নিজেকে ধোঁকা দেওয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ
‘আমাদের ও তাদের মধ্যে পার্থক্য হল সালাত। যে সালাত ছেড়ে দিল, সে কুফর করল।’ (তিরমিজি ২৬২১, নাসাঈ ৪৬৩)
যে নিজেই আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে আলসেমি করে, সে আপনাকে আল্লাহর পথে টানবে— এই আশা করা বোকামি।
নামাজহীন বন্ধুত্ব- দুনিয়ামুখী সম্পর্ক; কুরআন এমন সম্পর্ককে ‘ওয়ালায়াত’ বলে না।
জাকাত না দেওয়া মানে সমাজবিমুখ ইমান। জাকাত শুধু টাকা দেওয়া নয়— এটা প্রমাণ করে মানুষ নিজের সম্পদের মালিক নিজেকে মনে করে না। যে সমাজের হক আদায় করে না, সে বন্ধু হবার যোগ্য নয়— কারণ সে নিজের ইমান নিয়েই সিরিয়াস না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
مَنْ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ، مُثِّلَ لَهُ مَالُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ، لَهُ زَبِيبَتَانِ، يُطَوِّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ – يَعْنِي شِدْقَيْهِ – ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا مَالُكَ، أَنَا كَنْزُكَ
‘যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন অথচ সে জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সেই সম্পদকে টাকমাথা বিষধর সাপে পরিণত করা হবে। তার দুই চোখের ওপরে কালো দাগ থাকবে। সে সাপটি তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে এবং তার চোয়াল কামড়ে ধরে বলবে— ‘আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন।’ (বুখারি ১৪০৩)
বিনয় ছাড়া ইমান পূর্ণ হয় না। আয়াতে বলা হয়েছে— ‘وَهُمْ رَاكِعُونَ’ অর্থাৎ— তারা বিনয়ী, আল্লাহর সামনে নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ
‘যার অন্তরে সামান্য পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম ৯১)
তাই এ ভুল ধারণা ভাঙতে হবে যে—
> সবাই মুসলিম হলেই বন্ধু নয়
> পরিবার/গ্রুপ/দলের মানুষ মানেই ওয়ালি বা বন্ধু নয়
> আবেগ, উপকার, সম্পর্কই বন্ধুত্বের মানদণ্ড নয়।
বরং প্রকৃত বন্ধুর হলো—
> কুরআনের মানদণ্ড, ঈমানের আমল
> নামাজ, জাকাত, বিনয়— এই তিনটা ফিল্টার
নিজেকে প্রশ্ন করু—
> আমি নামাজ কায়েম করছি?
> জাকাত আদায় করছি?
> আমার মধ্যে বিনয় আছে?
যদি না থাকে—
তাহলে আগে নিজেকে সংশোধন করুন, কারণ আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী—
প্রকৃত বন্ধুত্ব আগে ইমান চায়, পরে সম্পর্ক।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সত্যিকারের মুমিনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার এবং নিজেকেও সেই মানে পৌঁছানোর তৌফিক দিন। আমিন।
বিজ্ঞাপন