বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, তারপর আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সুরা আল আনকাবুত, আয়াত : ৫৭)
মানুষ ভালো হোক বা মন্দ তাকে মৃত্যু বরণ করতেই হবে। মৃত্যুর পর একজন মুসলিমকে জানাজার মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় জানানো হয়। জানাজা মূলত মৃত ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য বিশেষ এক ধরনের দোয়া।
মহানবী (সা.) মৃত্যের এজন্য এভাবে দোয়া করা ও দোয়া করার পদ্ধতি সম্পর্কে শিখিয়েছেন আমাদেরকে। এই দোয়ায় রুকু-সিজদার বিধান নেই। শরীয়তের দৃষ্টিতে জানাজার নামাজ প্রকৃত নামাজের মতো নয়, বরং এটি মৃত ব্যক্তির জন্য এক ধরনের সম্মিলিত দোয়া ও সুপারিশ।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে,হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা কোন মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজা আদায় করবে, তখন তার জন্য ইখলাস বা আন্তরিকতার সাথে দোয়া করবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩১৯৯)
যেহেতু এই ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত বা ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করা, তাই একে সাধারণ দোয়ার কাঠামোর ওপর রাখা হয়েছে। আর দোয়ার জন্য রুকু বা সিজদার প্রয়োজন হয় না।
অনেক আলেমের মতে, জানাজার নামাজে রুকু ও সিজদা না থাকার একটি হেকমত (রহস্য) হলো মূর্তিপূজারীদের সাদৃশ্য বর্জন করা, কারণ তারা তাদের উপাস্যের সামনে মাথা নত করে। জানাজার নামাজের সময় যেহেতু মৃত ব্যক্তি সামনে থাকে, তাই সিজদা করলে ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান নেই এমন মানুষের মনে শিরকের ধারণা জন্মাতে পারে এবং তারা একে মৃত ব্যক্তির ইবাদত মনে করতে পারে।
জানাজা নামাজের আগে অজু করতে হয়, কিবলামুখী হতে হয় এবং সতর ঢাকার প্রয়োজন হয় তাই এটাকে জানাজা নামাজও বলা হয়।
বিজ্ঞাপন