Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

কতজন মানুষ জানাযায় অংশ নিলে মাইয়াত শাফায়াত পায়? হাদিস কি বলে?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৯ এএম

কতজন মানুষ জানাযায় অংশ নিলে মাইয়াত শাফায়াত পায়? হাদিস কি বলে?

বিজ্ঞাপন

মৃত্যু প্রতিটি মানুষের জন্য অবধারিত সত্য। একজন মুসলিমের ইন্তেকালের পর জানাযা নামাজ ও দাফন শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জাগে—কতজন মানুষ জানাযায় অংশগ্রহণ করলে মাইয়াত আল্লাহর কাছে শাফায়াত পায়? এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিস কী বলে? চলুন দলিলভিত্তিকভাবে বিষয়টি জেনে নিই।

জানাযা নামাজের গুরুত্ব

জানাযা নামাজ মূলত মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ ইবাদত। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— “আর আপনি তাদের কারো (মুনাফিকদের) ওপর কখনো জানাযা পড়বেন না এবং তাদের কবরের পাশে দাঁড়াবেন না।” —(সূরা আত-তাওবা: ৮৪)

এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায়, জানাযা নামাজ পড়া একজন মুমিনের জন্য সম্মান এবং রহমতের বিষয়। যদি এটি গুরুত্বহীন হতো, তবে আল্লাহ তা নিষেধ করে আলাদা করে উল্লেখ করতেন না।

কতজন মুসল্লি জানাযায় অংশ নিলে শাফায়াত পাওয়া যায়? এই বিষয়ে একাধিক সহিহ হাদিস রয়েছে।

১. একশ জন মুসলমানের জানাযা

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন—

“যে মুসলমানের জানাযায় একশ জন মুসলমান অংশগ্রহণ করে এবং তারা সবাই তার জন্য শাফায়াত করে, আল্লাহ তাদের শাফায়াত কবুল করেন।”

—(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯৪৭)

এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়, জানাযায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লির সংখ্যা যদি একশ হয় এবং তারা আন্তরিকভাবে দোয়া করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা মাইয়াতের জন্য শাফায়াত কবুল করেন।

২. তিন কাতার মুসল্লি

অন্য একটি হাদিসে এসেছে—

“যে মৃত ব্যক্তির জানাযায় মুসলমানদের তিন কাতার হয়, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।”

—(সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩১৬৬; তিরমিজি)

এখানে সংখ্যার চেয়ে কাতারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অনেক আলেম ব্যাখ্যা করেছেন, এটি সাধারণত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিকে বোঝায়।

৩. চল্লিশ জন আল্লাহর সাথে শরিক না করা মুসলমান

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস—

“যদি কোনো মুসলমানের জানাযায় চল্লিশ জন এমন মুসলমান উপস্থিত থাকে যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে না, তবে আল্লাহ তাদের শাফায়াত কবুল করেন।”

—(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯৪৮)

এ হাদিসে সংখ্যা কম হলেও আকিদার বিশুদ্ধতা ও আন্তরিকতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মূল শিক্ষা কী?

এই হাদিসগুলো থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়—

প্রথমত, জানাযায় বেশি মানুষের অংশগ্রহণ মাইয়াতের জন্য রহমত ও শাফায়াতের কারণ হয়।

দ্বিতীয়ত, শুধু সংখ্যা নয়—অংশগ্রহণকারীদের ঈমান, শিরকমুক্ত আকিদা ও আন্তরিক দোয়াই মূল বিষয়।

তৃতীয়ত, জীবিত অবস্থায় নেক আমল ও মানুষের সাথে সুসম্পর্ক থাকলে জানাযায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেশি মানুষ অংশ নেয়, যা পরকালে উপকারে আসে।

আমাদের করণীয়

জানাযা নামাজকে হালকাভাবে না নিয়ে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। পরিচিত-অপরিচিত মুসলমানের জানাযায় অংশগ্রহণের চেষ্টা করা, মৃতের জন্য আন্তরিক দোয়া করা এবং নিজের জন্যও এমন একটি মৃত্যু কামনা করা—যেখানে মুমিনরা আমাদের জন্য দোয়া করবে।

পরিশেষে বলা যায়, জানাযায় কতজন অংশ নিল—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ঈমান, দোয়া ও আল্লাহর রহমতের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন এবং আমাদের জন্য নেক বান্দাদের দোয়া কবুল করুন। আমিন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার