বিজ্ঞাপন
ব্রিটেনে রণদামামা, যুদ্ধের প্রস্তুতি : ইউরোপে রাশিয়া আতঙ্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫০ এএম
বিজ্ঞাপন
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের দীর্ঘ ছায়া ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে। আর সেই ছায়ার আঁচ এখন স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে পুরো ইউরোপেই। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক চাপকে কেন্দ্র করে মহাদেশজুড়ে উদ্বেগের মাত্রা বেড়েই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে হুমকি হিসাবে দেখছে ব্রিটেনও। যার জেরে সেনা শক্তি বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং সাধারণ নাগরিকদের মানসিক প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
সোমবার ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর নতুন প্রধান রিচার্ড নাইটন সতর্ক করে বলেছেন, ‘রাশিয়া যুক্তরাজ্যে আক্রমণ করতে পারে এমন ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এজন্য আমাদের দেশের ‘সন্তানদের’ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
নাইটন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ‘আমার ক্যারিয়ারের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক।’ এজন্য শুধু সেনা শক্তি বাড়ানো যথেষ্ট নয়, পুরো জাতিকে প্রতিরক্ষার দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, রুশ সেনারা চার বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পরিচালনার ফলে যুদ্ধদক্ষ হয়ে উঠেছে, যা যুক্তরাজ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। নাইটন ফরাসি সেনাপ্রধানের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে জাতির সন্তানদের ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি জানান, ‘আমাদের প্রতিক্রিয়া শুধু সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা কাজে লাগানো এবং সমাজ ও অবকাঠামোর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। সেবা দিতে এবং প্রয়োজনে লড়াই করতে দেশের সন্তানদের, সহকর্মীদের, সাবেক সেনাদের সবারই ভূমিকা রাখতে হবে। আর পরিবারকেও বুঝতে হবে দেশের জন্য ত্যাগের মানে কী।’ এদিকে ব্রিটেনের গুপ্তচর সংস্থা এমআই৬-এর নতুন প্রধান ব্লেইজ মেট্রেওয়েলি প্রথমবারের মতো সরকারি বক্তব্যে বলেছেন, ‘ব্রিটেন ইতোমধ্যেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে অবস্থান করছে এবং যুক্তরাজ্য অনিশ্চয়তার যুগে প্রবেশ করছে। কারণ শত্রু দেশগুলো যুদ্ধের নিয়ম বদলাচ্ছে।’
নাইটন বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে বড় যুদ্ধে জড়িত থাকলেও রাশিয়ার সামরিক শক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২০ বছরে রাশিয়া তার দুর্বল ও ক্ষীণ সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সংস্কার ও বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে রাশিয়ার সেনা সংখ্যা ১.১ মিলিয়নের বেশি। যা দেশটির মোট জিডিপির ৭ শতাংশ এবং সরকারের মোট ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ করে। এই অর্থ ব্যয় গত দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর বিপরীতে, ব্রিটেনের সেনাবাহিনীতে ৭০,০০০-এর কিছু বেশি সেনা রয়েছে।
সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে জিডিপির ২.৩ শতাংশ থেকে কেবল ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এতে স্পষ্ট, রাশিয়ার সামরিক ক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। আর ব্রিটেনের সামরিক প্রস্তুতি সেই তুলনায় সীমিত।
বিজ্ঞাপন