Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে রায়ের পর টিউলিপ কি ইংল্যান্ডে ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছেন?

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৮ পিএম

বাংলাদেশে রায়ের পর টিউলিপ কি ইংল্যান্ডে ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছেন?

বিজ্ঞাপন

প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি নিয়ে মামলায় আজ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং শেখ রেহানার মেয়ে – যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য - টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত ১৩ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিনের করা এই মামলার রায়ে শেখ হাসিনার পাঁচ বছর, শেখ রেহানার সাত বছর এবং টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। তিনজনকেই ১ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

রায়ের পর দুদকের আইনজীবী খান মো. মউনুল হাসান বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ যাবজ্জীবন আশা করেছিল। টিউলিপ সিদ্দিক তার খালাকে প্রভাবিত করেছেন- ব্রিটিশ এমপি হওয়া সত্ত্বেও এখনো তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তাই তার বাংলাদেশের আইনে তার বিচার করতে কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, আসামিদের ধরে আনতে সরকার ব্যবস্থা নেবে। সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাহায্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে নিয়ে আসবে তাদের। এ রায় বার্তা দিচ্ছে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার।

এই তিনজনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, শেখ রেহানা কোন দেশে আছেন তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যেই আছেন।

কিন্তু এই রায়ের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে কি কোনো ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছেন টিউলিপ সিদ্দিক? এ নিয়ে বিশ্লেষণী প্রতিবেদন করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। পাঠকদের জন্য সে প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরা হলো –

রায়ের বিবরণ জানিয়ে গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘সিদ্দিক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, এবং বলেছেন তাঁকে মামলার অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানানো হয়নি এবং আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগও দেওয়া হয়নি।’  

যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কিছু লোকের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। সে নিয়ে হইচই হয়েছিল অনেক। তবে এই মামলা যে সে সময়ে ওঠা অভিযোগের চেয়ে ভিন্ন, সেটা প্রতিবেদনে মনে করিয়ে দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

বিভিন্ন উপশিরোনাম দিয়ে মামলার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন বিষয়ের বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে করেছে দ্য গার্ডিয়ান –

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কী?

এই উপশিরোনামে গার্ডিয়ান লিখেছে, সিদ্দিক এবং আরও ২০ জন ব্যক্তি – যাঁদের মধ্যে তাঁর খালা (শেখ হাসিনা), মা (শেখ রেহানা), ভাই ও বোনও আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলাটা চলছে গত আগস্টের শুরু থেকে। সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য ঢাকার উপশহরে জমির একটি প্লটের জন্য শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করেছেন।

মামলাটি যারা করেছে সেই দুর্নীতি দমন কমিশনের দাবি, টিউলিপ সিদ্দিকের বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধন ফর্মে থাকা ঠিকানায় আদালতের সমন পাঠানো হয়েছিল।

খালার সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিকের সম্পর্কের ধরন কেমন?

সিদ্দিকের জন্ম লন্ডনে, তবে বাবা-মা দুজনই বাংলাদেশি হওয়ায় বাংলাদেশেরও নাগরিকত্ব আছে তাঁর। তিনি এটাও বলেছেন যে ছোটবেলায় তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছিল, তবে তাঁর বয়স ১৮ বছরের কাছাকাছি থাকার সময়ে সেই পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায় এবং সেটি আর নবায়ন করা হয়নি।

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময়ে টিউলিপকে তাঁর খালার খুব কাছের বলে মনে করা হতো। ২০১৩ সালে তাঁর খালা মস্কোতে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করার সময়ে টিউলিপও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পরে বলেছেন তিনি শুধুই সামাজিকতা রক্ষার উদ্দেশ্যে ভ্রমণকারী হিসেবে মস্কোতে গিয়েছিলেন। তিনি যদিও বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন, তবে অন্যদের দাবি, টিউলিপ এমন দাবি করছেন শুধুই তাঁর খালার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময়ে খালার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে যে সুবিধাদি পেয়েছেন সেসবকে খাটো করে দেখানোর উদ্দেশ্যে।

টিউলিপ সিদ্দিক কেন মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন?

তাঁর খালার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে পাওয়া আর্থিক সুবিধাদি নিয়ে হইচইয়ের জেরে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেন সিদ্দিক। শেখ হাসিনার সরকারের সমর্থকদের কাছ থেকে টিউলিপ ও তাঁর পরিবারকে যুক্তরাজ্যে যে স্থাবর সম্পত্তি দেওয়া হয়েছে, এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয় মন্ত্রীদের আচরণবিধিবিষয়ক উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাসের নেতৃত্বে। তদন্তের পর ম্যাগনাসের রায়, সিদ্দিক কোনো নিয়ম ভাঙেননি এবং সিদ্দিকের সম্পত্তি অবৈধ উপায়ে অর্জনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তিনি এটাও যোগ করেছেন যে, তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র এবং সরকারে তাঁর ভূমিকা মিলিয়ে ‘সুনামের ঝুঁকির শঙ্কা নিয়ে যে তিনি আরও সতর্ক ছিলেন না, এটি হতাশাজনক।’

বাংলাদেশে দন্ডিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যে টিউলিপের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় সিদ্দিককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা হবে না। তবে (বাংলাদেশি) কর্তৃপক্ষ (ব্রিটেনের) স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে টিউলিপকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানোর সম্ভাবনা আছে। রায়ে দীর্ঘমেয়াদি জেলের সাজা পাওয়ার মানে মা-বাবার দেশে যাওয়ার সুযোগ তাঁর সামনে থাকবে না। বাংলাদেশের মিত্র দেশগুলোতে তাঁর ভ্রমণেও এই রায়ের প্রভাব পড়তে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে রায়ের কারণে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কেও রাজনৈতিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার