Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ক্যামেরা হ্যাক, যৌন ভিডিও বানিয়ে বিক্রি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:১৯ পিএম

১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ক্যামেরা হ্যাক, যৌন ভিডিও বানিয়ে বিক্রি

বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের এক লাখ ২০ হাজারের বেশি ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) বা হোম ক্যামেরা হ্যাক করে যৌন শোষণমূলক ভিডিও তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ। জাতীয় পুলিশ সংস্থার বরাতে সোমবার (১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা সহজ পাসওয়ার্ডসহ ক্যামেরাগুলোর দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সেগুলোতে অনুপ্রবেশ করত। সিসিটিভির তুলনায় সস্তা হওয়ায় আইপি ক্যামেরা বা হোম ক্যামেরা সাধারণত বাড়ির নিরাপত্তা, শিশু ও পোষা প্রাণীর পর্যবেক্ষণ কিংবা কাজের জায়গা নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হয়। হ্যাক হওয়া ক্যামেরার অবস্থান ছিল ব্যক্তিগত বাড়ি-ফ্ল্যাট, কারাওকে কক্ষ, একটি পিলাটিস স্টুডিও এবং একটি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ক্লিনিকসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থান। 

জাতীয় পুলিশ সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, চারজন অভিযুক্ত একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ বা সহযোগিতা করেনি। তারা বিচ্ছিন্নভাবে এসব অপরাধ চালিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন একাই ৬৩ হাজার ক্যামেরা হ্যাক করে ৫৪৫টি যৌন শোষণমূলক ভিডিও তৈরি করে, যা পরে ৩ কোটি ৫০ লাখ ওন সমমূল্যের ভার্চুয়াল সম্পদের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। আরেকজন ৭০ হাজার ক্যামেরা হ্যাক করে ৬৪৮টি ভিডিও বিক্রি করেছে, যার মূল্য  এক কোটি ৮০ লাখ ওন।

এ দুই ব্যক্তি গত এক বছরে অবৈধভাবে আইপি ক্যামেরার ফুটেজ বিতরণকারী একটি বিদেশি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিওর প্রায় ৬২ শতাংশের জন্য দায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ এখন ওয়েবসাইটটি বন্ধ করার পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং এর পরিচালকের বিরুদ্ধে বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি সাইট থেকে ভিডিও কেনা বা দেখা-এমন আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জাতীয় পুলিশ সংস্থার সাইবার তদন্ত প্রধান পার্ক উ-হিউন বলেন, 'আইপি ক্যামেরা হ্যাকিং ও গোপনে ভিডিও করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ, যা ভুক্তভোগীদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ক্ষতি ডেকে আনে। এসব অপরাধ নির্মূল করতে আমরা জোরালো তদন্ত চালিয়ে যাব। অবৈধ ভিডিও দেখা ও সংরক্ষণ করাও অপরাধ—এটিও আমরা কঠোরভাবে তদন্ত করব।' 

পুলিশ ৫৮টি স্থানের ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে বা নোটিসের মাধ্যমে ঘটনা সম্পর্কে জানিয়েছে এবং তাদের পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া ভিডিও মুছে ফেলা, ব্লক করা এবং সম্ভাব্য অন্যান্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে কাজ অব্যাহত রয়েছে।


Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার