বিজ্ঞাপন
পবিত্র মদিনা নগরী লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় মদিনা অঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট মাঝআকাশেই ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে রিয়াদ।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করার তথ্য জানান।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সেটি ধ্বংসের ঘটনায় কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সৌদি জোট। অন্যদিকে, এ হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি হুতি বিদ্রোহীরাও।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুতিদের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এ ঘটনা সামনে এলো।
এর আগে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামরিক অভিযানের সময় হুতিরা একাধিকবার দাবি করেছে, মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র শহর তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু নয়। তবে গোষ্ঠীটি বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার অনলাইনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করতে ইয়ানবু গভর্নরেটে জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু বন্দর সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের শেষ প্রান্ত এই বন্দর। এর মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহে ইয়ানবু বন্দর এবং পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই বিকল্প রুট ব্যবহার করে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পারছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ দেশটির বিভিন্ন এলাকা দখলে নেয় হুতি বিদ্রোহীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সেই সংঘাতের রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।