Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

৩ লাখ ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার, মুক্ত স্পেনের বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলাম

Icon

স্পেন প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

৩ লাখ ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার, মুক্ত স্পেনের বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলাম

বিজ্ঞাপন

পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা প্রায় ৩ লাখ ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন মিয়ানমার বা অ্যামচ্যাম মিয়ানমার। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা ইন্টারপোলের রেড নোটিসও বাতিল হয়েছে। স্পেনে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আইনি জটিলতা কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছেন ডিজাইন ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মিসফিট টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুমিনুল ইসলাম।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনের বরাতে ইউএসনিউজ জানিয়েছে, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের অনুরোধে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্পেনের বার্সেলোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মুমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ছুটি কাটাতে স্পেনে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এই বাংলাদেশি উদ্যোক্তা।

স্পেনের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ ২৬ অক্টোবরের এক নথিতে জানায়, মুমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান আইনি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রেপ্তারসংক্রান্ত ব্যবস্থাও বাতিল হয়।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অ্যামচ্যাম বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই মামলাটির সূত্রপাত। সংগঠনটির সাবেক সভাপতি মার্কিন নাগরিক অ্যাডাম কাস্তিলো এবং সাবেক নির্বাহী পরিচালক অস্ট্রেলীয় নাগরিক ইয়ে খাউং কিয়াওয়ের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। ওয়াশিংটনে লবিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স নামের একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান নিয়োগকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ তৈরি হয়।

অ্যামচ্যাম মিয়ানমারের বর্তমান বোর্ডের অভিযোগ ছিল, অনুমোদন ছাড়াই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রায় ৩ লাখ ডলারের লবিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এপি নিশ্চিত করেছে, মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ওয়াশিংটনে একাধিক বৈঠকের আয়োজন করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী অর্থপ্রদানের তথ্য প্রকাশ করেছিল। মুমিনুলের দাবি, সম্পূর্ণ অর্থ তাঁর প্রতিষ্ঠানের মার্কিন কার্যক্রম থেকে পরিশোধ করা হয়েছিল।

মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ পরে স্পেনের বিচার বিভাগকে জানায়, বিদেশে অবস্থানকালে মুমিনুল মূলত প্রতিষ্ঠানের ইনভয়েস ও অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁর প্রত্যর্পণের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই স্পেনে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।

এদিকে মুমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের কারণে তাঁকে ১৪ দিন আটক থাকতে হয়েছে এবং দুই শিশুকন্যার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে। এতে তাঁর পরিবার মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুনামহানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট অ্যামচ্যাম কর্তৃপক্ষ ও বোর্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন এই উদ্যোক্তা।

মুমিনুলের মতে, তাঁর গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতাব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে ইন্টারপোল জানিয়েছে, মামলার বিস্তারিত তথ্য মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষই দিতে পারবে। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও মামলার বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার