Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন যেসব মুসলিম প্রার্থী

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন যেসব মুসলিম প্রার্থী

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একাধিক ঐতিহাসিক অর্জনের সাক্ষী হয়েছে দেশটির রাজনীতি। প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ও কংগ্রেসে ফিলিস্তিনি, দক্ষিণ এশীয় ও সোমালি বংশোদ্ভূত মুসলিম প্রতিনিধিদের জয়, এবারের নির্বাচনে মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাশাপাশি নারী, কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী ও এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বেও তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন নজির।

মিশিগানে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন তিনি। নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চিকিৎসক আদম হামাওয়ি। এ ছাড়া ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নাবিলা সৈয়দ এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটে আবের কাওয়াসের জয়ও মুসলিম ও অভিবাসী বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

মুসলিমদের যেসব ঐতিহাসিক অর্জন

১. আবদুল আল-সাইয়েদ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হলেন তিনি।

৪২ বছর বয়সী আল-সাইয়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক এবং ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিও তাঁর প্রচারে গুরুত্ব পায়।

তবে প্রচারের সময় তাঁকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও আক্রমণ সামনে আসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবিরের কয়েকজন নেতা তাঁর মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করেন। এসব বিতর্কের মধ্যেই জয় পান তিনি।

২. আদম হামাওয়ি: নিউ জার্সির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য

নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান গ্রেগ মেলেকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট আদম হামাওয়ি। তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত হলেন তিনি।

মিসরীয় বংশোদ্ভূত হামাওয়ি একজন প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক শল্যচিকিৎসক এবং সাবেক মার্কিন সেনা চিকিৎসক। ইরাক যুদ্ধে দায়িত্ব পালনের সময় আহত সেনাদের চিকিৎসা করেছেন তিনি। সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ট্যামি ডাকওয়ার্থের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পর তাঁর চিকিৎসায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন হামাওয়ি। বসনিয়া, সুদান, লেবানন ও সিরিয়ায় মানবিক চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গাজায় চিকিৎসাসেবা দিতে যান তিনি।

নির্বাচনী প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ এবং চিকিৎসা ও শিক্ষাঋণ বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন হামাওয়ি।

৩. নাবিলা সৈয়দ: ইলিনয় সিনেটে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্ব

ইলিনয়ের সিনেটের ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান ডারবি হিলসকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট নাবিলা সৈয়দ। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মুসলিম রাজনীতিক ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয়ের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন।

হায়দরাবাদি অভিবাসী পরিবারের সন্তান নাবিলা ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে পড়াশোনা করেছেন। ভোক্তা অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা ও ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এবার অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত হয়ে আইন প্রণয়নে আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন।

৪. আবের কাওয়াস: নিউইয়র্কে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী সদস্য হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন আবের কাওয়াস।ছবি: অ্যাবার কাওয়াস ক্যাম্পেইন

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২তম ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আবের কাওয়াস। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং হিজাব পরিহিত প্রথম নারী সদস্য নির্বাচিত হলেন তিনি।

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী, শ্রমিক ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।

আবাসন ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার, অভিবাসীদের সুরক্ষা, শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার ছিল তাঁর নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৫. ইলহান ওমর: কংগ্রেসে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত

মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।

২০১৮ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন। রাশিদা তালাইবের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন।

কংগ্রেসে দায়িত্ব পালনকালে অভিবাসীদের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে ফেডারেল তদন্তের মুখেও এবারের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ওমর।

৬. রাশিদা তালাইব: ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম কংগ্রেস সদস্যের আরেক জয়

মিশিগানের ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট রাশিদা তালাইব। ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান তালাইব ২০১৮ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে প্রথম মুসলিম নারী সদস্যদের একজন হিসেবে ইতিহাস গড়েন। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম দুই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনপ্রণেতার একজন।

কংগ্রেসে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করেছেন। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচক হিসেবেও পরিচিত তিনি। নতুন মেয়াদে তাঁর জয় কংগ্রেসে ফিলিস্তিনি ও মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল।

৭. আন্দ্রে কারসন: কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের মুসলিম প্রতিনিধি

ইন্ডিয়ানার সপ্তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আন্দ্রে কারসন। ২০০৮ সালে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেসে আসেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত দ্বিতীয় মুসলিম সদস্য কারসন। তাঁর আগে মিনেসোটা থেকে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কারসন কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। সন্ত্রাসবাদ, পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, অভিবাসন, পরিবহন ও কর্মসংস্থান নিয়েও তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

মুসলিমদের বাইরেও যাঁরা ইতিহাস গড়েছেন

১. ডেব হাল্যান্ড: যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর

নিউ মেক্সিকোর গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান গ্রেগ হালকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ডেব হাল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। লেগুনা পুয়েবলো জনগোষ্ঠীর সদস্য হাল্যান্ড এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

২. কেইশা ল্যান্স বটমস: যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর

জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান রিক জ্যাকসনকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমস। তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন তিনি। একই সঙ্গে জর্জিয়ার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নরও হচ্ছেন আটলান্টার সাবেক মেয়র বটমস।

৩. বায়রন ডোনাল্ডস: যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান গভর্নর

ফ্লোরিডার গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ডেভিড জোলিকে হারিয়েছেন রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান গভর্নর নির্বাচিত হলেন তিনি। একই সঙ্গে ফ্লোরিডার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নরও হচ্ছেন ডোনাল্ডস।

৪. জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন: ইলিনয় থেকে দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর

ইলিনয়ের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান ডন ট্রেসিকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন। তিনি বিদায়ী সিনেটর ডিক ডারবিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর মধ্য দিয়ে ইলিনয় থেকে নির্বাচিত দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর হলেন তিনি।

বর্তমান সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের সঙ্গে স্ট্র্যাটন দায়িত্ব নিলে ইলিনয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য, যেখান থেকে একই সময়ে দুজন ভিন্ন জাতিগত পরিচয়ের নারী সিনেটর দায়িত্ব পালন করবেন।

৫. ক্রিস পাপাস: সিনেটে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ

নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান সাবেক সিনেটর জন ই. সুনুনুকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাস। তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে নির্বাচিত হলেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পাপাস।

যেসব ফল এখনো চূড়ান্ত নয়

আলাস্কায় রিপাবলিকান ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেলটোলা। সেখানে ভোট গণনা ও র‍্যাঙ্কড-চয়েস পদ্ধতিতে ফল নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছিল। জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত দ্বিতীয় আদিবাসী নারী হতে পারেন। এরই মধ্যে মিনেসোটার পেগি ফ্লানাগান সিনেটে প্রথম আদিবাসী নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

জর্জিয়ার অঙ্গরাজ্য সিনেটের সপ্তম ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্র্যাট রুয়া রোমান ও রিপাবলিকান আইজাজ শেখের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলও চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। রুয়া রোমান ২০২২ সালে জর্জিয়ার প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী ও প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে তাঁর সিনেটে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও চূড়ান্ত ফলের আগে তাঁকে বিজয়ী বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে মিনেসোটার গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট অ্যামি ক্লোবুচার জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন তিনি।

সামগ্রিক চিত্র

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। মুসলিমদের মধ্যে আবদুল আল-সাইয়েদের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়া, আদম হামাওয়ির নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং নাবিলা সৈয়দ ও আবের কাওয়াসের মতো নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

একই সঙ্গে ডেব হাল্যান্ড, কেইশা ল্যান্স বটমস, বায়রন ডোনাল্ডস, জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন ও ক্রিস পাপাসের বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের নতুন চিত্র তুলে ধরেছে। এসব জয় দেশটির আইনসভা ও প্রশাসনে বিভিন্ন জাতিগত, ধর্মীয় ও সামাজিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের বিস্তারের দিকটিও সামনে এনেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার