Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যে ILR নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, সংসদে কী কী জানালেন মন্ত্রী

Icon

যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ এএম

যুক্তরাজ্যে ILR নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, সংসদে কী কী জানালেন মন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসের আগে যুক্তরাজ্যে আসা এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী সোশ্যাল কেয়ার কর্মীরা পাঁচ বছর পূর্ণ হলেই স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাঁদের ক্ষেত্রে ১৫ বছর অপেক্ষার প্রস্তাব বাতিল করেছে সরকার।

সোমবার হাউস অব কমন্সে নতুন ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বছরে কমপক্ষে ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেন এবং ২০২৫ সালের মে মাসের আগে সোশ্যাল কেয়ার খাতে কাজ শুরু করেছেন, এমন অভিবাসীরা পাঁচ বছর পর আইএলআরের আবেদন করতে পারবেন। যেসব কেয়ার কর্মী তাঁদের ভিসার শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের জন্যও দ্বিতীয় সুযোগ রাখা হয়েছে। তাঁরা আরও পাঁচ বছরের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। শাবানা মাহমুদ বলেন, কোনো নিয়োগকর্তার অনিয়মের জন্য কর্মীদের শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।

নতুন সিদ্ধান্তে স্বল্প আয়ের অভিবাসীদের জন্যও ১৫ বছরের অপেক্ষার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের কম আয় করেন, এমন অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সময়সীমা হবে ১০ বছর। তবে বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করা কর্মীদের জন্য পাঁচ বছরেই আইএলআরের সুযোগ বহাল থাকবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী কর্মীরাও পাঁচ বছরের নিয়মের আওতায় থাকবেন। এসব বিশেষ ছাড় ২০২৫ সালের মে মাসের আগে যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করে উল্লেখযোগ্য আর্থিক অবদান রাখা ব্যক্তিরা মাত্র তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই শ্রেণির একজন করদাতা কর্মজীবনে প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড কর দিতে পারেন, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা খাতে ব্যয় হয়।

তবে নতুন নীতিতে স্থায়ী বসবাসের জন্য আরও কঠোর যোগ্যতার শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে। অপরাধের রেকর্ড, উচ্চ মানের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার অভাব, বকেয়া ঋণ পরিশোধ না করা এবং জাতীয় বিমা চাঁদা প্রদানে ব্যর্থতার মতো বিষয় আবেদনকারীর স্থায়ী বসবাস পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে। অভিবাসনবিধি লঙ্ঘন করলে স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষার সময় ২০ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।

শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নিরাপদ ও বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে আসা শরণার্থীদের জন্য পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সুযোগ রাখা হবে। অন্যদিকে, অবৈধ পথে, বিশেষ করে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে ২০ বছর করা হবে। তাঁরা কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত না হলে আরও ১০ বছর যোগ হবে। অর্থাৎ কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত না থাকা ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে ৩০ বছর।

সংসদে বক্তব্যের শুরুতে শাবানা মাহমুদ বলেন, তাঁর বাবা-মা ৫০ বছরেরও বেশি আগে কাশ্মীরের গ্রামীণ এলাকা থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন। তাঁদের মতো যারা উন্নত জীবন ও নতুন ভবিষ্যতের আশায় এ দেশে আসেন, তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। তবে একই সঙ্গে তাঁদের স্থানীয় কমিউনিটিতে অবদান রাখা এবং দেশের সামাজিক জীবনের অংশ হয়ে ওঠার প্রত্যাশাও রয়েছে। তাঁর মতে, স্থায়ী বসবাসের অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নয়, বরং যোগ্যতা ও অবদানের ভিত্তিতে অর্জন করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ ও তাঁদের নির্ভরশীল সদস্য সোশ্যাল কেয়ার ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে এসেছেন অথবা এই ভিসায় পরিবর্তিত হয়েছেন। কোভিড-১৯ মহামারির পর কর্মীসংকটে থাকা এই খাতে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে নতুন নীতিতে বৈধভাবে কাজ করা কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি যাঁরা ভিসার শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের জন্যও বিকল্প পথ রাখা হয়েছে।

শাবানা মাহমুদ বলেন, নতুন ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যের অভিবাসননীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখন থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পেতে হলে যুক্তরাজ্যের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অবদান, দায়িত্বশীলতা ও নির্ধারিত যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার