Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ব্রিটেনে হাজারো কেয়ারকর্মীর জন্য সুখবর

৫ বছরেই মিলতে পারে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

Icon

দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম

ব্রিটেনে হাজারো কেয়ারকর্মীর জন্য সুখবর

বিজ্ঞাপন

ব্রিটেনে অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়ম পরিবর্তনের পরিকল্পনায় কেয়ার কর্মীদের জন্য বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিকাংশ কেয়ার কর্মীকে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে না; নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তারা আগের মতোই পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন।

সোমবার পার্লামেন্টে নতুন ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নীতির বিস্তারিত তুলে ধরে শাবানা মাহমুদ বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেয়ার কর্মী ও তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য সোশ্যাল কেয়ার ভিসায় ব্রিটেনে এসেছেন অথবা অন্য ভিসা থেকে এই রুটে পরিবর্তন করেছেন। কোভিড-১৯ মহামারির পর স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে ব্যাপক কর্মীসংকটের সময় তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যারা ভিসার শর্ত পূরণ করে সোশ্যাল কেয়ার খাতে কাজ করেছেন এবং বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেছেন, তারা বিদ্যমান পাঁচ বছরের পথেই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন।

তবে যারা ভিসার শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তারা মোট কেয়ার কর্মী ও তাদের পরিবারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তাদের জন্য দ্বিতীয় সুযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারা নতুন করে আরও পাঁচ বছরের কেয়ার ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আগের নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ফলে যেসব কর্মী প্রতারণামূলক বা অনিয়মকারী স্পনসরের অধীনে রয়েছেন, তারা নতুন বৈধ নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে এই বিশেষ ছাড় সবার জন্য প্রযোজ্য হবে না। শাবানা মাহমুদ স্পষ্ট করেছেন, ২০২৫ সালের মে মাসে সরকারের ইমিগ্রেশন হোয়াইট পেপার প্রকাশের আগে যারা এই রুটে যোগ দিয়েছেন, কেবল তারাই এই অন্তর্বর্তীকালীন সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের মে মাসের পর ব্রিটেনে আসা কেয়ার কর্মীরা এই পাঁচ বছরের বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় পড়বেন না। তাদের ক্ষেত্রে ১০ বছরের সেটেলমেন্ট নীতিই প্রযোজ্য হবে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের কিছু সরকারি কর্মীর জন্যও একই ধরনের ছাড় থাকবে। এর মধ্যে সহকারী নার্সসহ মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটি চিহ্নিত কিছু পেশার কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

অন্যদিকে, যেসব কেয়ার কর্মী শোষণমূলক নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করছেন, তাদের নতুন চাকরি খুঁজে পেতে সরকার সহায়তা করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ অনিয়মকারী নিয়োগকর্তার স্পনসর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বৈধ কেয়ার প্রতিষ্ঠানে নতুন চাকরি খোঁজার জন্য কর্মীদের আগের তুলনায় বেশি সময় দেওয়া হবে। বর্তমানে এই খাতে হাজার হাজার বৈধ চাকরির সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে নতুন নীতিতে অন্যান্য অভিবাসীদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনাও বহাল রয়েছে। বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী এবং চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষকদের মতো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের নির্দিষ্ট পেশাজীবীরা পাঁচ বছরের পথ পাবেন। বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী সর্বোচ্চ করদাতারা এবং বিশেষ মেধাভিত্তিক ভিসায় আসা ব্যক্তিরা তিন বছরেই আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে, ৫০ হাজার পাউন্ডের কম আয়কারীদের জন্য সাধারণ নিয়মে ১০ বছরের পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে অপরাধের রেকর্ড, উচ্চমানের ইংরেজি দক্ষতার অভাব, ব্রিটিশ সরকারের কাছে বকেয়া ঋণ এবং অন্তত তিন বছরের ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স অবদান না থাকার বিষয়গুলো অযোগ্যতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মে পরিবর্তন আসছে। নিরাপদ ও বৈধ পথে আসা শরণার্থীদের পাঁচ বছরের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে, ছোট নৌকায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে কিছু শরণার্থী কাজ বা পড়াশোনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ১০ বছরেই স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন।

শাবানা মাহমুদ বলেন, স্থায়ী বসবাস কেবল ব্রিটেনে নির্দিষ্ট সময় কাটানোর ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া উচিত নয়; বরং দেশের প্রতি অবদান ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এই অধিকার অর্জন করতে হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার