বিজ্ঞাপন
ব্রিটেনে ৫ লাখ মানুষের স্থায়ী বসবাস বিলম্বিত হবে : শাবানা মাহমুদ
নতুন অভিবাসন নীতি
দ্য গার্ডিয়ান
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
ব্রিটেনে অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রেইমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তনের ফলে প্রায় ৫ লাখ মানুষের সেটেলমেন্ট পেতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
সোমবার নতুন অভিবাসন নীতির বিষয়ে পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সংস্কারের ফলে যেসব অভিবাসীর মাধ্যমে সরকারের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে এখন আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।
শাবানা মাহমুদ বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে সরকারের কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (ডিডব্লিউপি)। তার ভাষায়, নতুন সংস্কারের কারণে প্রায় ৫ লাখ মানুষ আগের পরিকল্পনার তুলনায় দেরিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন।
এদিকে সরকারের এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ। তিনি অভিযোগ করেন, শাবানা মাহমুদ তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসে কার্যত ইউটার্ন নিয়েছেন। এতে সরকারের প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
ক্রিস ফিলপের দাবি, ২০২০ সালের মে মাসের আগে ব্রিটেনে আসা সব কেয়ার কর্মী ও তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে থাকার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, এই গোষ্ঠীর সদস্যসংখ্যা কয়েক লাখ এবং তাদের প্রায় ৭৫ শতাংশ শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে ব্রিটেনে থাকার সুযোগ পাবেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা প্রতারণার মাধ্যমে ব্রিটেনে এসেছেন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, তাদের কীভাবে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ দেওয়া যায়? ক্রিস ফিলপের দাবি, এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য ব্যয় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড।
তবে ক্রিস ফিলপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শাবানা মাহমুদ বলেন, নতুন ব্যবস্থায় সরকারের ব্যয় বাড়বে না, বরং সাশ্রয় হবে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর কারণে ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধা বা বেনিফিট খাতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের সেটেলমেন্ট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।
নতুন নীতির ফলে একদিকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা পিছিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কেয়ার কর্মী ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ বসবাসের অধিকার নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।