বিজ্ঞাপন
পঞ্চাশের কোঠায় এসে যুক্তরাষ্ট্রের গোছানো জীবন ছেড়ে নেদারল্যান্ডসে নতুন ঠিকানা মার্কিন দম্পতির
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৭ এএম
বিজ্ঞাপন
মানুষের জীবনে এমন কিছু স্বপ্ন থাকে, যা বাস্তবায়নের জন্য অনেকেই একটি ‘সঠিক সময়ের’ অপেক্ষায় দিন গোনেন। কিন্তু জীবনের কোনো নির্দিষ্ট সময়কে ‘সঠিক’ হিসেবে ধরে না নিয়ে, পঞ্চাশের কোঠায় এসে দেশান্তরী হওয়ার এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক দম্পতি।
২০২৬ সালে নিজেদের দীর্ঘদিনের পরিচিত পরিবেশ এবং গোছানো জীবন ছেড়ে তারা আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসে নতুন করে জীবন শুরু করেছেন। ৫৫ বছর বয়সী মার্কেটিং কনসালট্যান্ট লেসলি হডগিন এবং তার ৫২ বছর বয়সী স্বামী জন লাইম্যানের এই নতুন জীবনের গল্প প্রমাণ করে যে, নতুন কিছু শুরুর জন্য বয়স কোনো বাধাই নয়।
প্রবাসে পাড়ি জমানোর আগে এই দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের রিচমন্ড শহরে বসবাস করতেন। সেখানে স্বামী জন এবং নিজেদের একটি আদরের পোষা বিড়াল নিয়ে লেসলির সুখের সংসার ছিল। লেসলির বাবা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা থেকেই বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে জীবনের একটা পর্যায়ে এসে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরটিকেই তিনি নিজের আপন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেখানে গত ১০ বছর ধরে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
দীর্ঘ এক দশক ধরে গড়ে তোলা রিচমন্ডের সেই চিরচেনা ঠিকানা আর জীবনের চিরাচরিত স্বাচ্ছন্দ্যকে পেছনে ফেলা মোটেও সহজ কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে ছোটবেলা থেকে বিশ্ব ঘুরে দেখার যে অভিজ্ঞতা লেসলির ছিল, তা হয়তো তাকে নতুন কোনো রোমাঞ্চের দিকে ডাকছিল।
তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন, জীবনে সবকিছু নিখুঁত হওয়ার জন্য বা অবসরের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলে হয়তো আর কখনোই তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে না। তাই সবকিছু গুছিয়ে নিজেদের প্রিয় পোষা বিড়ালটিকে সঙ্গে নিয়েই তারা পাড়ি জমান নেদারল্যান্ডসে।
একটি বয়সের পর মানুষ সাধারণত নিজের চেনা গণ্ডি আর স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ছেড়ে নতুন কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। সেখানে পঞ্চাশোর্ধ্ব এই দম্পতির এমন সিদ্ধান্ত অনেকেই অবাক করেছে। তাদের এই দেশান্তরী হওয়ার গল্পটি কেবল একটি সাধারণ স্থানান্তর নয়, বরং এটি সেইসব মানুষের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা, যারা বয়স বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার অজুহাতে নিজেদের নতুন করে বাঁচবার সাহস হারিয়ে ফেলেন।