Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

পুরো ইসরাইলের ওপরই যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

পুরো ইসরাইলের ওপরই যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের নরিচ সাউথের লেবার পার্টি দলীয় এমপি ক্লাইভ লুইস এক নিবন্ধে দাবি করেছেন, ইসরাইলের বিতর্কিত বসতি স্থাপনকারীদের (সেটলার) পাশাপাশি পুরো ইসরাইল রাষ্ট্রের ওপরও ব্রিটিশ সরকারের তাৎক্ষণিক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। মতামত নিবন্ধে  তিনি জানান, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দলকে অবৈধভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে না দিয়ে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রেখে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

প্রতিনিধি দলটির উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা সহিংসতা ও নিপীড়নের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে তদন্ত করা। তবে এমপি ক্লাইভ লুইস স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অসৌজন্যমূলক আচরণ ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের চরম বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। গাজায় চরম নৃশংসতার পর এখন পশ্চিম তীরেও ধীরগতির জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে, যা কোনো সাধারণ অপরাধ নয় বরং সরাসরি ইসরাইলি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ।

ইসরাইলের বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সম্প্রতি প্রকাশ্যে গাজার মতোই পশ্চিম তীরেও সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন। এর পরপরই ফিলিস্তিনিদের প্রধান জীবিকা হিসেবে পরিচিত জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে অমানবিক আক্রমণের ঘটনাগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী হয় এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দল। লুইস অভিযোগ করেন, বিশ্ব যেন ইসরাইলের এসব অপরাধের সাক্ষী হতে না পারে, সেজন্য তারা প্রতিনিধি দল এবং সাংবাদিকদের নিয়মিত বাধা দিচ্ছে। গত দেড় বছরে যুক্তরাজ্যের দুটি এমপি প্রতিনিধি দলকে ফেরত পাঠানো ছাড়াও তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গাজা সংঘাতে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল জাস্টিস নাউয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন যুক্তরাজ্য সম্প্রতি পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা ভেবেছে। তবে ক্লাইভ লুইস সতর্ক করে বলেন, শুধু কিছু নির্দিষ্ট উগ্র সেটলারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, কারণ তাদের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে ইসরাইল সরকার। অবৈধ বসতিগুলোর অর্থনীতি সম্পূর্ণ অচল করে দিতে ব্যাংকিং, বিমা ও নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।

লুইস আরও উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ সরকার ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রিতে কিছু বিধিনিষেধ আনলেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টস সরবরাহ এখনও পুরোপুরি বন্ধ করেনি, যা দিয়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে হামলা চালানো হচ্ছে। অবিলম্বে এই আইনি ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে সব ধরণের অস্ত্র বিক্রি স্থগিতের দাবি জানান তিনি। গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ত্রাণ সরবরাহে বাধা সৃষ্টিকারী ইসরাইলি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছেন এই ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ইসরাইলের এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদী নীতি বন্ধে যুক্তরাজ্যকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার