বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায় গ্রিন কার্ড, আবেদন থেকে স্থায়ী হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ইবি-৫ অভিবাসী বিনিয়োগকারী কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)।
এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে কোন পর্যায়ে কোন ফরম জমা দিতে হবে, কীভাবে শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে সেই শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন করতে হয়—পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করেছে সংস্থাটি।
ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং যোগ্য পরিবারের সদস্যরা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পান।
তবে শুধু বিনিয়োগ করলেই সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হয়। এরপর ভিসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আবেদনকারীরা অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন, আর বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করেন। প্রথম ধাপ: বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী আবেদন
ইবি-৫ প্রক্রিয়ার শুরুতে আবেদনকারীকে দুটি ফরমের মধ্যে একটি জমা দিতে হয়। নিজ উদ্যোগে বা স্বতন্ত্রভাবে বিনিয়োগ করলে জমা দিতে হবে ফরম আই-৫২৬ (ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন বাই স্ট্যান্ডঅ্যালোন ইনভেস্টর)। আর ইউএসসিআইএস অনুমোদিত আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে প্রয়োজন হবে ফরম আই-৫২৬ই (ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন বাই রিজিওনাল সেন্টার ইনভেস্টর)।
অর্থাৎ, আবেদনকারী কোন পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করছেন, তার ওপর নির্ভর করবে কোন ফরম ব্যবহার করতে হবে। দুটি ফরমের উদ্দেশ্য একই হলেও বিনিয়োগের কাঠামো আলাদা। স্বতন্ত্র বিনিয়োগকারীর আবেদন এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপ: যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান পরিবর্তন অথবা বিদেশ থেকে ভিসার আবেদন
প্রাথমিক বিনিয়োগ আবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে আবেদনকারীর অবস্থান এবং অভিবাসী ভিসা পাওয়ার সুযোগের ওপর। যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ফরম আই-৪৮৫। এর মাধ্যমে তাঁরা স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধন অথবা নিজেদের অভিবাসন অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন।
তবে এ আবেদন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ইবি-৫ শ্রেণিতে অভিবাসী ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। শর্ত পূরণ হলে আই-৫২৬ বা আই-৫২৬ই আবেদনের সঙ্গে একই সময়ে আই-৪৮৫ জমা দেওয়া যায়। প্রাথমিক আবেদন বিবেচনাধীন থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ সুযোগ রয়েছে। আবার প্রাথমিক আবেদন অনুমোদনের পরও আই-৪৮৫ জমা দেওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করছেন এবং যাঁদের আই-৫২৬ বা আই-৫২৬ই আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে ফরম ডিএস-২৬০ জমা দিতে পারেন। এটি অভিবাসী ভিসার আবেদন। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভিসা পেলে তাঁরা বিদেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি চাইতে পারবেন।
তৃতীয় ধাপ: দুই বছরের শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড
আই-৪৮৫ আবেদন অনুমোদিত হলে অথবা ডিএস-২৬০ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইবি-৫ অভিবাসী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বিনিয়োগকারী শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান। তাঁর যোগ্য পরিবারের সদস্যরাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
তবে এ পর্যায়ে গ্রিন কার্ডের মেয়াদ হয় দুই বছর। অর্থাৎ, প্রথমবার অনুমোদন পাওয়ার পরই বিনিয়োগকারী নিঃশর্ত স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচির শর্ত পূরণ করে পরবর্তী আবেদন জমা দিতে হয়।
শেষ ধাপ: শর্ত তুলে নিতে আই- ৮২৯ ফরম
দুই বছরের শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিনিয়োগকারীকে ফরম আই-৮২৯ (পিটিশন বাই ইনভেস্টর টু রিমুভ কন্ডিশনস অন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস) জমা দিতে হয়। দ্বিতীয়বার্ষিকী বা দুই বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগের ৯০ দিনের মধ্যে এ আবেদন করতে হবে।
ইউএসসিআইএস আবেদনটি অনুমোদন করলে বিনিয়োগকারীর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা থেকে শর্ত তুলে নেওয়া হয়। একই আবেদনে অন্তর্ভুক্ত যোগ্য পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও শর্ত প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে তাঁদের শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড নিঃশর্ত স্থায়ী বসবাসের মর্যাদায় রূপ নেয়।
ইবি-৫ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ কর্মসূচিতে বিনিয়োগকারীদের নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে হয় এবং নির্ধারিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্তও পূরণ করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে বিনিয়োগের ধরন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভিসার প্রাপ্যতা এবং প্রতিটি ফরম জমা দেওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত নির্দেশনায় আবেদন থেকে শুরু করে শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে শর্ত তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য কোনো স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন নয়। আবেদনকারীর বিনিয়োগের ধরন, অভিবাসন অবস্থা এবং ভিসা পাওয়ার সুযোগের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।