বিজ্ঞাপন
স্ত্রীকে হারানোর শোক ভুলতে পারেননি, কবর থেকে দেহাবশেষ এনে তৈরি করলেন জীবনাকৃতির অবয়ব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
ভিয়েতনামে স্ত্রীর মৃ ত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি এক ব্যক্তি। প্রায় ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে হারানোর পর তাঁর অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্ত্রীর কবরের পাশে রাত কাটাতে শুরু করেন তিনি। পরে ২০০৪ সালে কবর থেকে স্ত্রীর দেহাবশেষ বাড়িতে নিয়ে এসে প্লাস্টার ও মাটির মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি করেন তাঁর জীবনাকৃতির একটি অবয়ব। এরপর বছরের পর বছর সেটিকেই স্ত্রীর স্মৃতি হিসেবে নিজের কাছে আগলে রেখেছেন।
ওই ব্যক্তির নাম লে ভ্যান। ১৯৭০-এর দশকে ফাম থি সাংকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় সাত সন্তান। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেছেন। কিন্তু ২০০৩ সালের শুরুর দিকে স্ত্রীর মৃ ত্যু হলে ভ্যানের জীবনে নেমে আসে গভীর শোক।
স্ত্রীকে হারানোর পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছিলেন না তিনি। তাঁর অনুপস্থিতি এতটাই কষ্ট দিত যে রাতে বাড়িতে থাকতে পারতেন না। একপর্যায়ে স্ত্রীর কবরের কাছেই রাত কাটানো শুরু করেন। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় তাঁর সন্তানদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাবাকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে তাঁরা নানা চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ত্রীর বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
২০০৪ সালে ভ্যান স্ত্রীর দেহাবশেষ বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর প্লাস্টার, মাটি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে স্ত্রীর আদলে তৈরি করেন একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব। সেটিকে নিজের কাছেই রাখতেন তিনি। তাঁর কাছে এটি ছিল একসঙ্গে কাটানো জীবনের স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়।
পরবর্তী বছরগুলোতে অবয়বটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন ভ্যান। স্ত্রীর মতো করে পোশাক পরাতেন, মুখে মেকআপ লাগাতেন। এমনকি সেটির সঙ্গে কথাও বলতেন। এভাবেই স্ত্রীর স্মৃতিকে প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে রেখেছিলেন তিনি।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যানের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হলেও অবয়বটির যত্ন নেওয়া বন্ধ করেননি তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে এই অস্বাভাবিক অভ্যাস বজায় রাখেন।
ভ্যানের ঘটনাটি বিভিন্ন সময়ে মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের অসহনীয় কষ্টের প্রকাশ হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, প্রিয়জনকে হারানোর শোক তাঁর জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছিল তা নিয়ে।
প্রিয়জনের মৃ ত্যুর পর শোক কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কারও পক্ষে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হয়, আবার কারও জন্য সেই শূন্যতা দীর্ঘদিন থেকে যায়। ভ্যানের ঘটনা সেই গভীর শোকেরই এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত উদাহরণ। তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে সব তথ্যের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায় না। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি বা মানসিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।