বিজ্ঞাপন
ডিভি লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ, ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড আবেদন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির নবম সার্কিট আপিল আদালত। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য লটারির নিবন্ধন শুরুর সময় আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন চালুর যে নির্দেশনা ছিল, আপিল আদালতের সিদ্ধান্তে আপাতত তা কার্যকর থাকছে না।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর দেওয়া আদেশে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্ন আদালতের নির্দেশ স্থগিত করেন। সরকারের করা আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। ফলে ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই আদেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করার কথা ছিল। পাশাপাশি ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত ব্যক্তিদের তাঁদের আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
তবে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং তা কার্যকর স্থগিত রাখার আবেদন জানায়। নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের প্যানেল সরকারের জরুরি আবেদন মঞ্জুর করে। প্যানেলে ছিলেন বিচারক এম. মার্গারেট ম্যাককিওন, এন. র্যান্ডি স্মিথ ও হলি এ. থমাস।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলাটি পরিচালনাকারী রেড ঈগল ল নামের একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি পরিচালনাসংক্রান্ত আইনের আওতায় মামলা করার উপযুক্ত স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ—এমনটি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি ডিভি লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তিদের আইনি প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। তবে মামলায় কোনো সম্ভাব্য লটারি আবেদনকারীকে বাদী হিসেবে যুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এমন কোনো আবেদনকারীর প্রতিনিধিত্ব করছে বলেও দাবি করেনি।
বিচারকদের মতে, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করা। কোনো আইন প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা এই আইনের উদ্দেশ্য নয়। ফলে শুধু সম্ভাব্য মক্কেল হারানোর আশঙ্কার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির মামলা করার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তবে আদালত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর কেন ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন চালু করেনি, সেই ব্যর্থতাকে আদালত সমর্থন করছে না। অর্থাৎ, নিবন্ধন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আদালতের বর্তমান আদেশের মূল বিষয় হলো, মামলাটি করার ক্ষেত্রে বাদী প্রতিষ্ঠানের আইনগত অধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিচারক এন. র্যান্ডি স্মিথ পৃথক সম্মতিমূলক মতামতে আরও বলেছেন, রেড ঈগল ল সংবিধানের আওতায় মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত অবস্থানও প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির দাবি অনুমাননির্ভর। কারণ কোনো ব্যক্তি প্রথমে লটারিতে আবেদন করবেন কি না, নির্বাচিত হবেন কি না এবং শেষ পর্যন্ত ভিসার যোগ্যতা পূরণ করবেন কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত নয়।
মামলাটির বাদী প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের আগস্টে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন বন্ধ রাখা হয়েছে, যা প্রশাসনিক আইনবিধির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। নিম্ন আদালত প্রাথমিকভাবে তাদের পক্ষে নির্দেশ দিলেও আপিল আদালতের নতুন সিদ্ধান্তে সেই নির্দেশ আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।
রেড ঈগল ল-এর মালিক কার্টিস মরিসন জানিয়েছেন, তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১, এইচ-১বি বা অন্য কোনো অ-অভিবাসী ভিসায় অবস্থান করছেন—এমন একজন বিদেশি নাগরিককে মামলার বাদী হিসেবে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে সম্ভাব্য বাদীকে প্রশাসনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কায় ভীত না হওয়ার শর্তও দিয়েছেন তিনি।
ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। মূলত যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, সেসব দেশের নাগরিকেরা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে এই লটারিতে অংশ নিতে পারেন। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হওয়া নয়; নির্বাচিত ব্যক্তিদের পরবর্তী ধাপে ভিসার আবেদন করতে হয় এবং সব শর্ত পূরণ করতে হয়।
১৯৮০-এর দশকে এ ধরনের কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ১৯৯০ সালের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের স্বাক্ষরিত ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি আইনি ভিত্তি পায়।
নবম সার্কিট আপিল আদালত এখন মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য সময়সূচি প্রকাশ করবে। সেই প্রক্রিয়ায় সরকারের আপিলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসার কথা। তত দিন পর্যন্ত ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন চালুর কোনো নিশ্চিত সময়সূচি থাকছে না।
তবে আদালতের এই আদেশকে ডিভি কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আপিলের ফলাফল এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে ২০২৭ সালের লটারি নিয়ে পরবর্তী পরিস্থিতি।