বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবে ন্যূনতম বেতনের নতুন ঘোষণা, সর্বোচ্চ ৬ হাজার রিয়াল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবে বেসরকারি খাতে কর্মরত সৌদি নাগরিকদের জন্য বেতনসংক্রান্ত নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে মাসিক বেতনের নির্ধারিত সীমা হবে ৫ হাজার রিয়াল। পরের বছর তা বাড়িয়ে ৬ হাজার রিয়াল করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত সব কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ নয়। মূলত সৌদি নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়াতে পরিচালিত নিতাকাত কর্মসূচির আওতায় নতুন বেতনসীমা কার্যকর হবে।
সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এটি দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে মাসিক ৫ হাজার রিয়াল এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০২৮ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ৬ হাজার রিয়াল বেতনের সীমা কার্যকর হবে। বর্তমানে এই কর্মসূচিতে একজন সৌদি কর্মীকে পূর্ণ কর্মী হিসেবে গণনার জন্য মাসিক বেতনের সীমা ৪ হাজার রিয়াল।
নিতাকাত কর্মসূচির মাধ্যমে সৌদি আরবের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে কোনো প্রতিষ্ঠানে কতজন সৌদি নাগরিক কাজ করছেন, তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের হিসাব করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন সৌদি কর্মীকে সেই হিসাবে পূর্ণ কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নির্ধারিত বেতনসীমা পূরণ করতে হবে। তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্তের কারণে সব প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি কর্মীদের বেতন বাড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে না।
সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের শ্রমবিষয়ক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আবুথনাইন জানিয়েছেন, নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় পাঁচ ধরনের কর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফুলটাইম কর্মী, পার্টটাইম কর্মী, নমনীয় কর্মব্যবস্থায় নিয়োজিত কর্মী, পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করা শিক্ষার্থী এবং কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে নিতাকাত কর্মসূচির নিজস্ব গণনাপদ্ধতি ও শর্ত প্রযোজ্য হবে।
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সৌদি নাগরিকদের জন্য বেসরকারি খাতের চাকরি আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুতির জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের পর দ্বিতীয় ধাপের আগে আরও এক বছর সময় পাবেন নিয়োগকর্তারা।
এদিকে সৌদি আরবের মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলও কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বেতনসংক্রান্ত সহায়তার সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। যোগ্য সৌদি কর্মীদের বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে। তবে মাসিক সহায়তার সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে ৩ হাজার রিয়াল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌদি নাগরিক নিয়োগে আরও উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ঘোষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার বা ৬ হাজার রিয়াল বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বেতন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি। তাঁদের বেতন মূলত চাকরির চুক্তি এবং প্রযোজ্য শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ফলে নতুন ঘোষণার কারণে সৌদি আরবে কর্মরত সব বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন বাড়বে, এমন ধারণা সঠিক নয়।
একই সময়ে সৌদি সরকার যোগ্য নাগরিকদের জন্য মাসিক ৫০০ রিয়াল অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছে। সরকারি বেসামরিক ও সামরিক কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা যোগ্য পরিবারগুলো এই সহায়তার অন্তর্ভুক্ত। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ ও পানির নতুন ট্যারিফ কার্যকরের প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের আর্থিক চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি সরকারের নতুন বেতননীতি দেশটির শ্রমবাজারে স্থানীয় নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। তবে বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের জন্য এর সরাসরি কোনো নতুন ন্যূনতম বেতন নির্ধারিত হয়নি। তাই সৌদি আরবে চাকরিপ্রার্থী ও কর্মরত প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নিয়োগপত্রে উল্লেখিত বেতন, সুযোগসুবিধা এবং চাকরির শর্ত যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।