Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

কারাগারে জন্ম নেওয়া তরুণী ১৮ বছর বয়সেই ফুল ফান্ডে হার্ভার্ডে ভর্তির অনন্য গল্প

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

কারাগারে জন্ম নেওয়া তরুণী ১৮ বছর বয়সেই ফুল ফান্ডে হার্ভার্ডে ভর্তির অনন্য গল্প

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্ম নেওয়া অরোরা স্কাই কাস্টনার নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পান। ২০২৩ সালে কনরো হাই স্কুল থেকে অসাধারণ ফলাফল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। নিজের জীবনের কঠিন শুরুর কথা তুলে ধরে হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনের ব্যক্তিগত রচনায় লিখেছিলেন মাত্র একটি বাক্য, ‘আমার জন্ম কারাগারে।’

টেক্সাসের গ্যালভেস্টন কাউন্টি জেলে জন্ম হয় অরোরার। তখন তাঁর মা সেখানে কারাভোগ করছিলেন। জন্মের কয়েক দিন পর বাবা তাঁকে কারাগার থেকে নিয়ে আসেন। এরপর টেক্সাসের কনরো শহরে বাবার কাছেই বেড়ে ওঠেন তিনি। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত বাবা একাই মেয়েকে বড় করেন। মায়ের সঙ্গে অরোরার কোনো নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল।

শৈশব থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন অরোরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। ২০২৩ সালের ২৫ মে কনরো হাই স্কুল থেকে নিজের ব্যাচের তৃতীয় সর্বোচ্চ ফলাফল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন। অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন সামা কাম লাউডে সম্মাননা।

তবে অরোরার এই সাফল্যের পেছনে শুধু তাঁর নিজের পরিশ্রম নয়, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল একজন মেন্টরেরও। স্কুলের একটি কমিউনিটি মেন্টরিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি নোট থেকে প্রথম অরোরার কথা জানতে পারেন হ্যাম্বি। নোটটি পড়ে তাঁর মনে হয়েছিল, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী। হিউস্টন ক্রনিকলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেই নোটটি এখনো তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

মেন্টর হিসেবে অরোরার পাশে দাঁড়ান মোনা হ্যাম্বি। নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁকে উৎসাহ দিতে থাকেন। তাঁদের সম্পর্ক শুধু স্কুলে সপ্তাহে একদিন দুপুরের খাবার খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অরোরার স্বপ্ন পূরণে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেন হ্যাম্বি ও তাঁর স্বামী। ২০২২ সালের মার্চে তাঁরা অরোরাকে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখাতে নিয়ে যান।

হার্ভার্ডের ক্যাম্পাসে সেই সফর অরোরার সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্লি অ্যাকশন প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন এবং ভর্তির সুযোগ পান। তাঁর জন্য পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থাও হয়। কারাগারে জন্ম নেওয়া এবং একক অভিভাবকের পরিবারে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর শিক্ষাজীবনের সাফল্য তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে।

নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশের সঙ্গে মেন্টরের পরিবারের পরিবেশের পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন অরোরা। তিনি জানান, হ্যাম্বির পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ভিন্ন ধরনের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখেছেন তিনি। অরোরার কাছে মেন্টরের সহযোগিতা শুধু পড়াশোনার পরামর্শ ছিল না, বরং নিজের ভবিষ্যৎকে আরও বড় পরিসরে কল্পনা করার সুযোগও তৈরি করেছিল।

২০২৩ সালে প্রকাশিত অরোরার এই জীবনকাহিনি শিক্ষা ও মেন্টরশিপের গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে। হার্ভার্ডে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইন নিয়ে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। কারাগারে জন্মের পর বাবার কাছে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া পর্যন্ত তাঁর যাত্রায় ছিল ব্যক্তিগত অধ্যবসায়, পারিবারিক সহযোগিতা এবং একজন মেন্টরের দীর্ঘদিনের সমর্থন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার