Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

সব সম্পত্তি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে মার্কিন দম্পতি, মাঝপথে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

সব সম্পত্তি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে মার্কিন দম্পতি, মাঝপথে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ

বিজ্ঞাপন

বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতে নিজেদের বাড়ি ও প্রায় সব সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক দম্পতি। পরিকল্পনা ছিল বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজে বসবাস করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখার। কিন্তু যাত্রা শুরুর ১৭ মাসের মাথায় হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে সেই ক্রুজের কার্যক্রম। ফলে কম্বোডিয়ায় জাহাজ ছেড়ে নামতে হয়েছে তাঁদের। বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর এমন পরিস্থিতিতে পড়লেও নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন দম্পতি পল ও লিন মন্টোয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন পল ও লিন। দীর্ঘদিনের বিশ্বভ্রমণের ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁরা নিজেদের বাড়ি ও অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন। এরপর ভিলা ভি রেসিডেন্সেস পরিচালিত ওডিসি নামের একটি ক্রুজ জাহাজে থাকার ব্যবস্থা করেন। জাহাজটির একটি কেবিনের জন্য তাঁরা খরচ করেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিন বছরের এই যাত্রায় বিশ্বের চার শতাধিক বন্দরে থামার কথা ছিল জাহাজটির।

কিন্তু গত ২৭ অক্টোবর ক্রুজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জ্বালানি খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হচ্ছে। এর ফলে কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত জাহাজটির বাসিন্দাদের দ্রুত নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ল্যাডবাইবেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দম্পতি জানান, মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, দুপুর দুইটার মধ্যে জাহাজ ছাড়তে হবে। ফলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে বিকল্প থাকার ব্যবস্থা করার জন্য তাঁরা মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় পান।

লিন মন্টোয়া জানান, আকস্মিক এই ঘোষণায় জাহাজের বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে জাহাজটিই ছিল তাঁদের বাড়ি। পল ও লিনও নিজেদের অধিকাংশ জিনিসপত্র কেবিনে রেখে মাত্র চারটি স্যুটকেস ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে নেমে আসেন। তাঁদের সঙ্গে নেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ চলা সম্ভব। বাকি জিনিসপত্র ফেরত নিতে আবার জাহাজে ওঠার সুযোগ পাবেন কি না, সে বিষয়েও কোনো নিশ্চয়তা পাননি তাঁরা।

তবে ক্রুজটির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আগে থেকেই কিছু সমস্যার আভাস পেয়েছিলেন বলে জানান পল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিকবার জাহাজের ভ্রমণসূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিল পরিশোধ না করায় স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি খাবারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছিল। এমনকি যাত্রা চালিয়ে যেতে বাসিন্দাদের কাছে কয়েক দফায় অতিরিক্ত অর্থও চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

দম্পতি জানান, তাঁরা স্বেচ্ছায় সেই অর্থের কিছু অংশ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া জাহাজে থাকার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ছয় হাজার ডলার রক্ষণাবেক্ষণ খরচও পরিশোধ করছিলেন। এখন সেই অর্থের কতটা ফেরত পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পল মনে করছেন, তাঁদের বিনিয়োগ করা অর্থের একটি বড় অংশ হয়তো আর ফেরত পাওয়া যাবে না।

ভিলা ভি রেসিডেন্সেস জানিয়েছে, জ্বালানি খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আগের মতো কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেবিনের বিপরীতে জ্বালানি বাবদ ঐতিহাসিক গড় খরচ ছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার। সেটি বেড়ে আনুমানিক ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। খরচ কমাতে জাহাজের গতি কমানো এবং বিভিন্ন বন্দরে বেশি সময় অবস্থান করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ব্যবসা পুনর্গঠন এবং নতুন মূলধন সংগ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন বিনিয়োগ বা মালিকানা পরিবর্তনের কোনো চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ক্রুজটি আবার চালু হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এ সময় জাহাজের বাসিন্দা, ক্রু এবং কর্মীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজেদের সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করছেন না পল ও লিন। তাঁদের মতে, এই ১৭ মাসে তাঁরা বিশ্বের অনেক সুন্দর জায়গা দেখেছেন এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। জীবনের এমন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা অন্যভাবে হয়তো কখনো সম্ভব হতো না। পল জানান, শুরুতেই যদি জানতেন ভ্রমণটি মাত্র ১৮ মাস চলবে, তাহলেও তিনি এই অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া করতেন না।

লিনও একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর এভাবে যাত্রা থেমে যাওয়া অবশ্যই দুঃখজনক। তবে ভ্রমণের সময় পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাঁদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাই আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বিশ্বভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের কোনো অনুশোচনা নেই।

আপাতত কম্বোডিয়া থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এই দম্পতি। সেখানে আট থেকে নয় দিন থাকার কথা রয়েছে তাঁদের। একই সঙ্গে তাঁরা আশা করছেন, নতুন বিনিয়োগকারী কিংবা জাহাজের বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগে ক্রুজটির কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: ল্যাডবাইবেল

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার