বিজ্ঞাপন
ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠকে আজান বাজানোয় নারীকে বের করে দিল পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে সরকারি বৈঠক চলাকালে আজানের রেকর্ডিং বাজানোর কারণে বোরকা পরা এক নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পিনেলাস কাউন্টি কমিশনারদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারী বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে মাইক্রোফোনে আজানের রেকর্ডিং চালু করেন। কর্তৃপক্ষ তাঁকে রেকর্ডিং বন্ধ করতে বললেও তিনি তা না মানায় শেরিফ অফিসের একজন ডেপুটি তাঁকে সভাকক্ষ থেকে সরিয়ে দেন। ঘটনাটি ঘিরে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিনেলাস কাউন্টির মসজিদ আল রহমান সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। এর মধ্যেই কাউন্টি কমিশনারদের বৈঠকে কয়েকজন বাসিন্দা মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে কালো বোরকায় আবৃত ওই নারী বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত মাইক্রোফোনের সামনে আসেন। তবে কোনো কথা না বলে তিনি মোবাইল বা অন্য একটি ডিভাইস থেকে আজানের রেকর্ডিং বাজাতে শুরু করেন।
প্রায় এক মিনিট ধরে আজানের রেকর্ডিং চলার পর কমিশন বোর্ডের চেয়ারম্যান ডেভ এগার্স তাঁকে থামতে বলেন। তিনি জানান, কাউন্টির নিয়ম অনুযায়ী জনসাধারণের বক্তব্য দেওয়ার সময় আগে থেকে রেকর্ড করা অডিও বাজানোর অনুমতি নেই। সভায় অংশগ্রহণকারীদের সরাসরি বক্তব্য দিতে হয়। কিন্তু ওই নারী নির্দেশনা না মানায় পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ অফিসের একজন ডেপুটি তাঁকে সভাকক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান।
নারীকে বের করে দেওয়ার পর সভাকক্ষে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। এতে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান ডেভ এগার্স। তিনি উপস্থিত সবাইকে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন, ইসলাম ধর্মের আজান বাজানোর কারণে ওই নারীকে বের করা হয়নি। বরং সভার নির্ধারিত নিয়ম না মানার কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কাউন্টি কমিশনের বৈঠক রেকর্ড করার সুযোগ থাকলেও জনমত গ্রহণের সময় আগে থেকে ধারণ করা অডিও বাজানোর অনুমতি নেই। বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ে সরাসরি নিজের মতামত জানাতে হয়। ওই নারী কোনো মৌখিক বক্তব্য না দিয়ে রেকর্ডিং চালিয়েছিলেন। তবে তাঁর এই কর্মকাণ্ড মসজিদ সম্প্রসারণের পক্ষে প্রতিবাদ ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পেছনে রয়েছে পিনেলাস কাউন্টির মসজিদ আল রহমান সম্প্রসারণের একটি সিদ্ধান্ত। গত ১৩ অক্টোবর কাউন্টি কমিশনাররা চার ভোটের বিপরীতে তিন ভোটে মসজিদটির জমির ব্যবহারসংক্রান্ত একটি সংশোধনী অনুমোদন করেন। এর ফলে জমিটির শ্রেণি আবাসিক গ্রামীণ এলাকা থেকে পরিবর্তন করে সরকারি ও আধা সরকারি ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়ায় বর্তমান ভবনের পরিবর্তে প্রায় এক হাজার বর্গফুট বড় একটি নতুন স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের কেউ কেউ মসজিদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি জমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং সরকারি নথিতে প্রকল্পটির পরিচিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে সরকারি উপস্থাপনা ও নথিতে মসজিদটিকে কমিউনিটি অ্যাসেম্বলি ফ্যাসিলিটি হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠে। তাঁদের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বোঝার সুবিধার্থে প্রকল্পের প্রকৃত পরিচয় আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল।
অন্যদিকে মসজিদ সম্প্রসারণের পক্ষেও স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের একজন জানান, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে মক্কামুখী করতে এবং সাধারণ বাড়ির পরিবর্তে মসজিদের মতো স্থাপত্যরূপ দিতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে বসবাস করলেও তাঁদের কোনো সমস্যা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফলে মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে এর সমর্থনও রয়েছে।
এদিকে কাউন্টি কমিশনার ভিন্স নোভিকি সরকারি নথিতে মসজিদটির পরিচিতি আরও সহজ ও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাউন্টি প্রশাসক ব্যারি বার্টনকে পাঠানো একটি ইমেইলে তিনি প্রকল্পের বিবরণ সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আবেদনকারী যে প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, সরকারি নথিতে প্রকল্পের পরিচিতি একইভাবে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে, ওই নারীকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সভাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে না। তবে ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি কেন আজানের রেকর্ডিং বাজিয়েছিলেন, সে বিষয়েও তাঁর নিজের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পিনেলাস কাউন্টিতে মসজিদ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও মতবিরোধ চলছে। কাউন্টি কর্তৃপক্ষের দাবি, সভার নিয়ম কার্যকর করতেই ওই নারীকে বের করা হয়েছে। অন্যদিকে মসজিদ সম্প্রসারণের বিষয়টি ঘিরে ধর্মীয় উপাসনালয়ের নির্মাণ, জমির ব্যবহার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের প্রশ্ন সামনে এসেছে।